ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট ২০২৬ ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
পুলিশের সঙ্গে বাটপারি! চাকরি না করেই বেতন তুলেছেন বছরের পর বছর
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Thursday, 6 August, 2026, 6:08 PM

পুলিশের সঙ্গে বাটপারি! চাকরি না করেই বেতন তুলেছেন বছরের পর বছর

পুলিশের সঙ্গে বাটপারি! চাকরি না করেই বেতন তুলেছেন বছরের পর বছর

প্রতিদিনের মতোই সরকারি হিসাবের খাতায় হাজিরা পড়ত তাদের নামে। মাস শেষে নির্ধারিত বেতনও জমা হতো ব্যাংক হিসাবে। কিন্তু বাস্তবে সেই কর্মীদের কোনো অস্তিত্বই ছিল না। বছরের পর বছর কাগজে-কলমে ভুয়া কর্মী বানিয়ে তাদের নামে তোলা হয়েছে কোটি কোটি টাকার বেতন। কর্মীদের তথ্য নতুন সফটওয়্যারে স্থানান্তরের সময়ই সামনে আসে এই বিস্ময়কর জালিয়াতি। ততদিনে সরকারি কোষাগার থেকে খোয়া গেছে ৬ কোটি ৪১ লাখ রুপি (৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা প্রায়)।

সম্প্রতি ভারতের মুম্বাই পুলিশ বিভাগে ঘটেছে এই বেতন জালিয়াতির ঘটনা। অভিযোগ, ২০১৯ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে অস্তিত্বহীন ১০ জনকে সরকারি কর্মী দেখিয়ে নিয়মিত বেতন দেওয়া হয়। প্রশাসনিক নথি জালিয়াতির মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করা হয়েছিল বলে উঠে এসেছে তদন্তে।

যেভাবে ধরা পড়ে অনিয়ম
মুম্বাই পুলিশের উত্তর আঞ্চলিক বিভাগের এক কর্মকর্তার দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, কর্মীদের তথ্য ‘সেবার্থ’ (Sevarth) বেতন পোর্টাল থেকে নতুন সফটওয়্যারে স্থানান্তরের সময় বেতন-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হচ্ছিল। সেই পর্যালোচনায় একাধিক অসংগতি ধরা পড়ে। পরে বিস্তারিত তদন্তে কোটি কোটি রুপির জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

মামলায় যাদের ‘ভূতুড়ে’ কর্মী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন রামদাস ভোগলে, সুধাকর কদম, সারজু যাদব, ভাগবত ভোসালে, গুনাজি খাভকার, মহাদেব হালদানকর, রাজেন্দ্র সোনার, উত্তম থোরাত, সূর্যকান্ত পাটিল ও পাণ্ডুরঙ্গ কদম।

কীভাবে চলেছে জালিয়াতি
তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি এবং ২০২০ সালের জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে অধিকাংশ ভুয়া বেতন পরিশোধ করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, দপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিতি নিবন্ধন ও চাকরির নথিতে কারসাজি করে অস্তিত্বহীন কর্মী তৈরি করেন। পরে তাদের সরকারি বেতনভুক্ত তালিকায় যুক্ত করে মাসিক বেতন অনুমোদন দেওয়া হয়।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সে সময় কর্মরত পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ভারতের ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস), ২০২৩-এর বিভিন্ন ধারায় প্রতারণা, জালিয়াতি, বিশ্বাসভঙ্গ এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা রামকিশান গোস্বামী, নাগেশ তালভাদেকার ও বিজয়া চাভান, প্রধান কেরানি অজয় রাঠোর এবং জ্যেষ্ঠ কেরানি অমোল মেশরাম।

অভিযোগের পর বিজয়া চাভান ও অমোল মেশরামকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মুম্বাই পুলিশ।

তদন্তকারীদের দাবি, তারা ভুয়া সার্ভিস আইডি এবং ডিফাইন্ড কন্ট্রিবিউশন পেনশন স্কিম (ডিসিপিএস) আইডি তৈরি করে ১০ জন ভুয়া কর্মীকে বেতন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন এবং তাদের মাসিক বেতন অনুমোদন দেন।

মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস বলেছেন, এটি সাম্প্রতিক কোনো ঘটনা নয়; জালিয়াতির ঘটনাটি ২০২০ সালের। তিনি বলেন, জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও আইনি পদক্ষেপ চলবে। প্রমাণের ভিত্তিতে পুরো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status