|
গাজীপুরে মাদকের বিরুদ্ধে গণজাগরণ: তথ্যদাতাকে ১ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা
ফাহিম ফরহাদ, গাজীপুর
|
![]() গাজীপুরে মাদকের বিরুদ্ধে গণজাগরণ: তথ্যদাতাকে ১ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা সমাবেশ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, কার্যকর তথ্য দিয়ে মাদক কারবারি বা চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তারে সহায়তা করলে তথ্যদাতাকে ১ লাখ টাকা এবং ছিনতাইকারীকে ধরতে সহায়তা করলে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। রোববার গাজীপুর মহানগরীর বাসন, চান্দনা চৌরাস্তা ও কোনাবাড়ী এলাকায় পৃথকভাবে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে বাসন এলাকার ঈদগাহ মাঠে স্থানীয় সুধীজনের উদ্যোগে এবং গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) বাসন মেট্রো থানার সহযোগিতায় প্রধান সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি। সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান। প্রধান আলোচক ছিলেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার। পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশে বলেন, "মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। অপরাধী যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতেই হবে।" প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার বলেন, অপরাধ নির্মূলে জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে মাদক কারবারি বা চাঁদাবাজকে ধরতে সহায়তা করলে ১ লাখ টাকা এবং ছিনতাইকারীকে ধরতে সহযোগিতা করলে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, "অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় নেই। নিরাপদ সমাজ গড়তে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।" প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি এম. মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন, "মাদক শুধু একজন মানুষকে নয়, একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে। নতুন প্রজন্মকে রক্ষায় পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।" সভাপতির বক্তব্যে এমপি মো. মজিবুর রহমান বলেন, "মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কোনো আপস নেই। সমাজের প্রতিটি মানুষকে অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।" সমাবেশে শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক নেতা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন। অন্যদিকে, চান্দনা চৌরাস্তা ও কোনাবাড়ীতেও একই ধরনের মাদকবিরোধী সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন, মাদককে কেন্দ্র করেই সমাজে চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং এবং পারিবারিক সহিংসতার মতো অপরাধ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। তাই এসব অপরাধ দমনে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নয়, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণও অপরিহার্য। সমাবেশ শেষে উপস্থিত সবাই মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজিমুক্ত একটি নিরাপদ গাজীপুর গড়ে তোলার লক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
