|
গাজীপুরের নদীগুলো কি পরিকল্পিত অবহেলার শিকার? শিল্পায়নের চাপে হারাচ্ছে প্রাণের স্রোত
দূষণ, দখল ও ভরাটে সংকুচিত বানার, বালু, তুরাগ, চিলাই, লবণদহ ও শীতলক্ষ্যা; হুমকিতে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, জনস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ খাদ্যনিরাপত্তা
ফাহিম ফরহাদ, গাজীপুর
|
![]() গাজীপুরের নদীগুলো কি পরিকল্পিত অবহেলার শিকার? শিল্পায়নের চাপে হারাচ্ছে প্রাণের স্রোত নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, পানির গুণগত মান ভয়াবহভাবে নষ্ট হচ্ছে, আর এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তার ওপর। সরেজমিন অনুসন্ধান, স্থানীয় বাসিন্দা, জেলে, কৃষক, পরিবেশবিদ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র। শিল্পাঞ্চলসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় নদীর পানি কুচকুচে কালো, কোথাও রাসায়নিক ফেনা, আবার কোথাও তীব্র দুর্গন্ধে নদীর তীরে দাঁড়ানোই কঠিন। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিয়মিত বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) চালায় না। বরং গোপন ড্রেন বা পাইপলাইনের মাধ্যমে অপরিশোধিত শিল্পবর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। শুধু দূষণই নয়, নদীর দুই তীরজুড়ে অব্যাহত দখলও সংকটকে আরও তীব্র করেছে। বিভিন্ন স্থাপনা, ভরাট এবং অবৈধ দখলে নদীর প্রস্থ কমে যাচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক প্রবাহ। ফলে বর্ষায় জলাবদ্ধতা বাড়ছে, শুকনো মৌসুমে নদী হারাচ্ছে তার স্বাভাবিক নাব্যতা। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আর কেবল পরিবেশগত সংকট নয়; এটি ধীরে ধীরে জাতীয় জনস্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে। দূষিত নদীর পানি সেচের মাধ্যমে কৃষিজমিতে পৌঁছে মাটি ও খাদ্যশস্যে ভারী ধাতুর উপস্থিতির আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ায় জীবিকা হারাচ্ছেন জেলেরা। নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে চর্মরোগ, অ্যালার্জি ও শ্বাসকষ্টের মতো স্বাস্থ্যসমস্যাও বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও পরিবেশ অধিদপ্তর নিয়মিত অভিযান ও জরিমানার কথা বলছে, বাস্তবে দূষণ বন্ধ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—কেন কার্যকর হচ্ছে না আইন? নদী রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশগত দায়বদ্ধতা এবং তদারকির কার্যকারিতা নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন। নদী ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, “নদী ধ্বংস মানে শুধু একটি জলধারার মৃত্যু নয়; এটি কৃষি, জীববৈচিত্র্য, জনস্বাস্থ্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত। শিল্পায়ন অবশ্যই প্রয়োজন, তবে পরিবেশ ধ্বংসের বিনিময়ে নয়। দূষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা, সব ইটিপি কার্যকর রাখা, নদী দখলমুক্ত করা এবং নিয়মিত পানি ও মাটির মান পরীক্ষা এখন সময়ের দাবি।” গাজীপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আরেফিন বাদল বলেন, “শিল্পায়নের কারণে গাজীপুর বর্তমানে দেশের অন্যতম পরিবেশগত ঝুঁকিপূর্ণ জেলা। জেলায় পরিবেশগত ছাড়পত্রপ্রাপ্ত শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ছয় হাজার। কিন্তু এত বিপুল সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম তদারকির তুলনায় জনবল, যানবাহন ও কারিগরি সক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত।” বিস্তারিত আসছে |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
রাজধানীর ৫০টি পয়েন্টে অটোমেটিক ট্রাফিক লাইট সিস্টেম দ্রুত চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
গাজীপুরের নদীগুলো কি পরিকল্পিত অবহেলার শিকার? শিল্পায়নের চাপে হারাচ্ছে প্রাণের স্রোত
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র পাইকগাছার মেধাবী শিক্ষার্থী হুসাইনের টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধের উপক্রম
নরসিংদী বার্ষিক কোর্ট পরিদর্শন করেন পুলিশ সুপার মোঃ আব্দুল্লাহ আল ফারুক
