ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ১৮ জুলাই ২০২৬ ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
গাজীপুরের নদীগুলো কি পরিকল্পিত অবহেলার শিকার? শিল্পায়নের চাপে হারাচ্ছে প্রাণের স্রোত
দূষণ, দখল ও ভরাটে সংকুচিত বানার, বালু, তুরাগ, চিলাই, লবণদহ ও শীতলক্ষ্যা; হুমকিতে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, জনস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ খাদ্যনিরাপত্তা
ফাহিম ফরহাদ, গাজীপুর
প্রকাশ: Saturday, 18 July, 2026, 6:42 PM

গাজীপুরের নদীগুলো কি পরিকল্পিত অবহেলার শিকার? শিল্পায়নের চাপে হারাচ্ছে প্রাণের স্রোত

গাজীপুরের নদীগুলো কি পরিকল্পিত অবহেলার শিকার? শিল্পায়নের চাপে হারাচ্ছে প্রাণের স্রোত

একসময় গাজীপুরের জীবন, জীবিকা ও প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল বানার, বালু, তুরাগ, চিলাই, লবণদহ ও শীতলক্ষ্যা নদী। এসব নদীকে ঘিরেই গড়ে উঠেছিল কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও স্থানীয় অর্থনীতি। কিন্তু নিয়ন্ত্রণহীন শিল্পায়ন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা এবং পরিকল্পিত দখল-দূষণে জেলার এই নদীগুলো আজ অস্তিত্ব সংকটে। 

নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, পানির গুণগত মান ভয়াবহভাবে নষ্ট হচ্ছে, আর এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তার ওপর।

সরেজমিন অনুসন্ধান, স্থানীয় বাসিন্দা, জেলে, কৃষক, পরিবেশবিদ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র। শিল্পাঞ্চলসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় নদীর পানি কুচকুচে কালো, কোথাও রাসায়নিক ফেনা, আবার কোথাও তীব্র দুর্গন্ধে নদীর তীরে দাঁড়ানোই কঠিন। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিয়মিত বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) চালায় না। বরং গোপন ড্রেন বা পাইপলাইনের মাধ্যমে অপরিশোধিত শিল্পবর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলে দেওয়া হচ্ছে।

শুধু দূষণই নয়, নদীর দুই তীরজুড়ে অব্যাহত দখলও সংকটকে আরও তীব্র করেছে। বিভিন্ন স্থাপনা, ভরাট এবং অবৈধ দখলে নদীর প্রস্থ কমে যাচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক প্রবাহ। ফলে বর্ষায় জলাবদ্ধতা বাড়ছে, শুকনো মৌসুমে নদী হারাচ্ছে তার স্বাভাবিক নাব্যতা।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আর কেবল পরিবেশগত সংকট নয়; এটি ধীরে ধীরে জাতীয় জনস্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে। দূষিত নদীর পানি সেচের মাধ্যমে কৃষিজমিতে পৌঁছে মাটি ও খাদ্যশস্যে ভারী ধাতুর উপস্থিতির আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ায় জীবিকা হারাচ্ছেন জেলেরা। নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে চর্মরোগ, অ্যালার্জি ও শ্বাসকষ্টের মতো স্বাস্থ্যসমস্যাও বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

যদিও পরিবেশ অধিদপ্তর নিয়মিত অভিযান ও জরিমানার কথা বলছে, বাস্তবে দূষণ বন্ধ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—কেন কার্যকর হচ্ছে না আইন? নদী রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশগত দায়বদ্ধতা এবং তদারকির কার্যকারিতা নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন।

নদী ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, “নদী ধ্বংস মানে শুধু একটি জলধারার মৃত্যু নয়; এটি কৃষি, জীববৈচিত্র্য, জনস্বাস্থ্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত। শিল্পায়ন অবশ্যই প্রয়োজন, তবে পরিবেশ ধ্বংসের বিনিময়ে নয়। দূষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা, সব ইটিপি কার্যকর রাখা, নদী দখলমুক্ত করা এবং নিয়মিত পানি ও মাটির মান পরীক্ষা এখন সময়ের দাবি।”

গাজীপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আরেফিন বাদল বলেন, “শিল্পায়নের কারণে গাজীপুর বর্তমানে দেশের অন্যতম পরিবেশগত ঝুঁকিপূর্ণ জেলা। জেলায় পরিবেশগত ছাড়পত্রপ্রাপ্ত শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ছয় হাজার। কিন্তু এত বিপুল সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম তদারকির তুলনায় জনবল, যানবাহন ও কারিগরি সক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত।”

 বিস্তারিত আসছে  

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status