ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ১৮ জুলাই ২০২৬ ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
হাজার কোটি টাকা খরচেও নামে না ঢাকার পানি, খাল-জলাশয় পুনরুদ্ধারে জোর
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Saturday, 18 July, 2026, 12:47 PM
সর্বশেষ আপডেট: Saturday, 18 July, 2026, 1:21 PM

হাজার কোটি টাকা খরচেও নামে না ঢাকার পানি, খাল-জলাশয় পুনরুদ্ধারে জোর

হাজার কোটি টাকা খরচেও নামে না ঢাকার পানি, খাল-জলাশয় পুনরুদ্ধারে জোর

টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল রাজধানী ঢাকা। সড়কে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট, বিকল হয়ে পড়া যানবাহন ভোগান্তির মাত্রা বাড়ায় কয়েকগুণ। অথচ জলাবদ্ধতা নিরসনে গত কয়েক বছরে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। এরপরও সেই পুরোনো সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

তবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) দুই প্রশাসক বলেছেন, নগর ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতার অভাবে দীর্ঘদিন এ সমস্যার সমাধান হয়নি। সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কারণে দখলমুক্ত হয়নি নগরের খাল-জলাশয়। অথচ, অন্তত খাল-জলাশয় পুনরুদ্ধার ও সমন্বিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুললে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব; সে লক্ষ্যে কাজ করছেন তারা।

হাজার কোটি টাকা খরচেও নামে না ঢাকার পানি, খাল-জলাশয় পুনরুদ্ধারে জোর

হাজার কোটি টাকা খরচেও নামে না ঢাকার পানি, খাল-জলাশয় পুনরুদ্ধারে জোর

গত রোববার (১২ জুলাই) ভোররাত থেকে টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। পানির নিচে তলিয়ে যায় বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও নিম্নাঞ্চল। কোথাও কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে যানবাহন, কোথাও বিকল হয়ে পড়ে ব্যক্তিগত গাড়ি ও গণপরিবহন। রাজধানীর অনেক এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা পুরোপুরি কাটেনি। এই জলাবদ্ধতার অন্যতম বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বৃষ্টির পানির স্বাভাবিক প্রবাহপথ হারিয়ে যাওয়া।

নগর পরিকল্পনাবিদেরা জানান, একসময় রাজধানীর অসংখ্য খাল, জলাশয় ও প্রাকৃতিক নালা দিয়ে বৃষ্টির পানি দ্রুত নদীতে নেমে যেত। কিন্তু বছরের পর বছর দখল, ভরাট, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং কার্যকর ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক গড়ে না ওঠায় সেই পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বৃষ্টির পানি কোন পথে নদী-খালে যাবে সে পথটিই যেন হারিয়ে গেছে! ফলে অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পানি আটকে থেকে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা।

যে কারণে ঢাকায় জলাবদ্ধতা
ঢাকার বৃষ্টিপাতের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৫৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নগরীর বাৎসরিক গড় বৃষ্টিপাত ২ হাজার ১৭ দশমিক ৭ মিলিমিটার। বার্ষিক মোট বৃষ্টিপাত ও দৈনিক সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা সামান্য কমলেও বৃষ্টিপাতের অনিয়মিত প্রকৃতি এবং তীব্র বৃষ্টিপাতের ঘটনা বেড়েছে। ঢাকায় একদিনে সর্বোচ্চ ৩৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় ২০০৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর। একই সময়ে দুদিনে সর্বোচ্চ ৪৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়, যা অস্বাভাবিক হিসেবে বিবেচিত।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৫৩ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে ৪৭ বছরে মাত্র তিনবার একদিনে ২৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছিল। অথচ ২০০১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মাত্র ২৪ বছরে একই মাত্রার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয় তিনবার।

১৯৮৮ সালে ওই জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকার ২৬টি খালের দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসাকে দেয় সরকার। তারপরও নগরের খালগুলো ক্রমেই বেদখল হয়ে যায়। অনেক খাল ভরাট করে গড়ে ওঠে বহুতল ভবন। পরিস্থিতির বেগতিক দেখে ২০২১ সালে ওই খালগুলো সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করে ওয়াসা। কিন্তু এখন পর্যন্ত খালগুলোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারেনি ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি। ফলে বৃষ্টি হলে শহরের পানি বের হওয়ার পথ খুঁজে পায় না।

ফলে প্রতিবছর ধানমন্ডি ২৭, নিউ মার্কেট, বংশাল, শান্তিনগর এলাকাসহ দক্ষিণ সিটির শতাধিক স্থানে পানি জমে। এছাড়া একই কারণে ডিএনসিসির বিভিন্ন এলাকায়ও প্রতিবছর জলাবদ্ধতার পুনরাবৃত্তি দেখা যায়। এর মধ্যে মিরপুরের বিভিন্ন অংশ, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, কালশী, আগারগাঁও, মহাখালী, বনানী, বাড্ডা, ভাটারা, নিকুঞ্জ, খিলক্ষেত, উত্তরা ও আবদুল্লাহপুরের কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির সময় পানি জমে থাকে। নিচু এলাকা, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ এবং খাল-সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এসব স্থানে পানি জমে থাকে দীর্ঘ সময়।

গত ২০ বছরের মধ্যে ১৬ বছর ঢাকার খালগুলোর ওয়াসার অধীনে ছিল; পরে চার বছর সিটি করপোরেশনের কাছে। তারা কি জলাবদ্ধতা নিসরনে ব্লু নেটওয়ার্কটা তৈরি করেছে? করেনি। ওপর থেকে রহমতের বৃষ্টি পড়বে। এটা গড়িয়ে গড়িয়ে খাল হয়ে নদীতে যাবে; এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু পানি বের হওয়ার পথ খুঁজে পায় না।— নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব

গত রোববার ও সোমবারের বৃষ্টিতে ডিএনসিসির শতাধিক এলাকার সড়কে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। কিন্তু ড্রেন ও ম্যানহলের মুখ পরিষ্কার ছাড়া সিটি করপোরেশনের তেমন কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি।

জানতে চাইলে নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব  বলেন, আগে ঢাকার ভেতর অসংখ্য জলাশয় ছিল। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে একে একে তা দখল, ভরাট হয়ে গেছে। এখন বৃষ্টির পানি যাওয়ার জায়গা নেই। আবার গত ২০ বছরের মধ্যে ১৬ বছর ঢাকার খালগুলোর ওয়াসার অধীনে ছিল; পরে চার বছর সিটি করপোরেশনের কাছে। তারা কি জলাবদ্ধতা নিসরনে ব্লু নেটওয়ার্কটা তৈরি করেছে? করেনি। ওপর থেকে রহমতের বৃষ্টি পড়বে। এটা গড়িয়ে গড়িয়ে খাল হয়ে নদীতে যাবে; এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু পানি বের হওয়ার পথ খুঁজে পায় না। তাই জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে ব্লু নেটওয়ার্ক তৈরির বিকল্প নেই।

ডিএসসিসি ও ডিএনসিসির জলাবদ্ধতার হটস্পট
ডিএসসিসিতে জলাবদ্ধতা নিরসনে অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করে সংস্থাটির প্রকৌশল বিভাগ। সম্প্রতি তারা ডিএসসিসির জলাবদ্ধতাপ্রবণ ২৯টি গুরুত্বপূর্ণ হটস্পট চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ধানমন্ডি-২৭, গ্রিন রোড, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট, নায়েম রোড, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, পলাশী এস এম হলের সামনে, সাকুরা মার্কেট এলাকা, মোকাররম ভবনের সামনে, পশ্চিম মালিবাগ, খিলগাঁও ফ্লাইওভার থেকে মালিবাগ কমিউনিটি সেন্টার, মানিকনগর টিটিপাড়া পাম্পের সামনে, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা, কমলাপুর রেলস্টেশন, শাপলা চত্বর, নটর ডেম কলেজ এলাকা, পল্টন, দৈনিক বাংলা, ফকিরাপুল, চানমারির মোড়, শান্তিবাগ, আলমবাগ, পশ্চিম জুরাইন এবং সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল সংলগ্ন সড়ক অন্যতম।

গত সপ্তাহের রোববার ও সোমবার টানা বৃষ্টিতে ওই ২৯টি হটস্পট ছাড়া আরও শতাধিক জায়গায় জলাবদ্ধতা দেখা গেছে।

আজিমপুরের বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন বলেন, এখন টানা এক ঘণ্টা বৃষ্টি হলেই আজিমপুর-নিউ মার্কেট এলাকা ডুবে যায়। পানির পরিমাণ এতটাই বেশি থাকে যে নৌকা চলবে। তিনি বলেন, গত চার-পাঁচ বছর ধরেই এই এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়। কিন্তু তা নিরসনে সিটি করপোরেশনকে কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি।

গত ৬ জুন রাজধানীর এক হোটেলে ‘ঢাকা দক্ষিণের জলাবদ্ধতা: বাস্তবতা ও করণীয়’, শিরোনামে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ডিএসসিসি আয়োজিত ওই সেমিনারে নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যার কারণ, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং সমাধানে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানায় ডিএসসিসি। কিন্তু তারপরও এ জলাবদ্ধতা নিরসে শুধু ড্রেন-নালা পরিষ্কার ছাড়া তাদের তেমন কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি।

ডিএনসিসির বিভিন্ন এলাকায়ও প্রতিবছর জলাবদ্ধতার পুনরাবৃত্তি দেখা যায়। এর মধ্যে মিরপুরের বিভিন্ন অংশ, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, কালশী, আগারগাঁও, মহাখালী, বনানী, বাড্ডা, ভাটারা, নিকুঞ্জ, খিলক্ষেত, উত্তরা ও আবদুল্লাহপুরের কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির সময় পানি জমে। নিচু এলাকা, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ এবং খাল-সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এসব স্থানে পানি দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয়।

বর্ষাকালে প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে পুরোপুরি জয়ী হওয়া সম্ভব নয়। ঢাকার অধিকাংশ খাল-বিল ভরাট বা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশনের সুযোগ কমে গেছে। ফলে ভারী বৃষ্টির পর জমে থাকা পানি সরাতে সময় লাগে।— ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আবদুস সালাম

গত রোববারের বৃষ্টিতে ডিএনসিসির শতাধিক এলাকার সড়কে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। পরদিন ১৩ জুলাই বনানীসহ ডিএনসিসির বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় জলাবদ্ধতা। কিন্তু ড্রেন ও ম্যানহোলের মুখ পরিষ্কার ছাড়া সিটি করপোরেশনের তেমন কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি।

জলাবদ্ধতা নিরসনে হাজার কোটি টাকা ব্যয়
ডিএসসিসি ও ডিএনসিসির হিসাব বিভাগ সূত্র জানায়, প্রতিবছর গড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা করে বাজেট ঘোষণা করে ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি। এ বাজেটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যেসব খাতে বরাদ্দ রাখা হয়, তার মধ্যে একটি জলাবদ্ধতা নিরসন। ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ এক দশকে ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি নালা নির্মাণ ও সংস্কার, খাল পরিষ্কার এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের অন্যান্য কাজে ব্যয় করেছে অন্তত দুই হাজার কোটি টাকা। ২০২১ সালের আগে ঢাকার ২৬টি খাল পরিষ্কার বা পানি প্রবাহ ঠিক করতে আরও শত শত কোটি টাকা খরচ করেছে ঢাকা ওয়াসা। এরপরও শেষ হয়নি জলাবদ্ধতা।

জলাবদ্ধতা নিরসন চক্রেই হাবুডুবু খাচ্ছে ঢাকা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, বৃষ্টির পানি গড়িয়ে নদী বা জলাশয়ে যাওয়ার প্রধান মাধ্যম হলো ক্যানেল বা ড্রেন। কিন্তু ঢাকার খালগুলো বহু আগেই দখল ও ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে পানি নিষ্কাশন পুরোপুরি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, ঢাকাকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করতে হলে খাল ও জলাশয়গুলো দখলমুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি কৃত্রিম নালা যুক্ত করে সমন্বিত পানিনিষ্কাশন মহাপরিকল্পনা নিতে হবে। বিচ্ছিন্নভাবে প্রকল্প নেওয়া হলে কোনো সুফল মিলবে না।

পানি নামার পথে বাধা
ডিএসসিসি ও ডিএনসিসির প্রকৌশল বিভাগ সূত্র জানায়, ঢাকা উত্তর সিটিতে খাল রয়েছে ২৯টি। এগুলোর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১০৫ কিলোমিটার। খোলা নালা-নর্দমা ও পাইপ-নালা মিলিয়ে রয়েছে প্রায় এক হাজার ২০০ কিলোমিটার। দক্ষিণ সিটিতে রয়েছে ২৬টি খাল এবং এক হাজার ৩০০ কিলোমিটারের বেশি নালা-নর্দমা। কিন্তু কাগজে খাল থাকলেও সেগুলোতে পানি প্রবাহ নেই। অধিকাংশ খালের জায়গা ভরাট করে বেদখল হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টি হলে পানি নামতে পারে না।

ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, বৃষ্টির পানি প্রথমে সড়ক থেকে নালায়, পরে কালভার্ট ও খাল হয়ে ‘আউটলেট’ দিয়ে নদীতে যাওয়ার কথা। এই পথের কোনো একটি অংশ বন্ধ, সরু বা বিচ্ছিন্ন হলে পুরো ব্যবস্থার সক্ষমতা কমে যায়। এমন অবস্থায় কোথাও নালার মুখ বর্জ্য ও পলিতে বন্ধ, কোথাও কালভার্ট সরু, আবার কোথাও খালের সঙ্গে নালার সংযোগ বিচ্ছিন্ন। এসব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে পানি নদীতে যেতে পারে না। তখনই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে নাগরিক দুর্ভোগ বেড়ে যায়।

ঢাকা-চট্টগ্রাম ডুবে যায়, কারণ প্রাকৃতিক নাকি মানবসৃষ্ট
এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আবদুস সালাম  বলেন, বর্ষাকালে প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে পুরোপুরি জয়ী হওয়া সম্ভব নয়। ঢাকার অধিকাংশ খাল-বিল ভরাট বা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশনের সুযোগ কমে গেছে। ফলে ভারী বৃষ্টির পর জমে থাকা পানি সরাতে সময় লাগে।

তিনি বলেন, ঢাকা শহরে বৃষ্টির পানি নদীতে নামার পথ সীমিত। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সেই পথ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি। চলতি বছরে পুরো সুফল না-ও মিলতে পারে, তবে আগামী বছর পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে আশা করছি।

কথা হয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন বেদখল খালগুলো উদ্ধার না করা পর্যন্ত জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হবে না। খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে দখলমুক্তকরণ ও পুনঃখননের কাজ অব্যাহত থাকবে। নগরকে বাসযোগ্য রাখতে খাল পুনরুদ্ধারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status