ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ৫ জুলাই ২০২৬ ২১ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলাদেশে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফুটবলের এত ভক্ত কেন?
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Sunday, 5 July, 2026, 11:25 AM

বাংলাদেশে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফুটবলের এত ভক্ত কেন?

বাংলাদেশে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফুটবলের এত ভক্ত কেন?

বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশের অলিগলি, ছাদ, সড়কজুড়ে উড়তে থাকে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকা। জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেনের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল থাকলেও তাদের সমর্থক তুলনামূলক কম। কেন বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেম এতটা ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকেন্দ্রিক? এর পেছনে রয়েছে ইতিহাস, রাজনৈতিক আবেগ, টেলিভিশনের প্রভাব, কিংবদন্তি ফুটবলারদের জনপ্রিয়তা এবং পারিবারিক উত্তরাধিকারের মতো একাধিক কারণ।

পেলের ব্রাজিল দিয়ে মুগ্ধতার শুরু

বাংলাদেশে ব্রাজিলের জনপ্রিয়তার ভিত্তি তৈরি হয় ১৯৭০-এর দশকে। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বফুটবলে পেলের উত্থান, ব্রাজিলের নান্দনিক 'জোগো বনিতো' ফুটবল এবং দারিদ্র্য জয় করে কিংবদন্তি হয়ে ওঠা পেলের জীবনের সঙ্গে নিজেদের এক ধরনের আত্মিক মিল খুঁজে পান।

৭০ এর দশকে জন্ম নেওয়া জ্যেষ্ঠ ক্রীড়া সাংবাদিক রায়হান মাহমুদ বলছিলেন, আমাদের যখন জন্ম, সেই ৭০ এর দশক। এখন যেমন মেসির রাজত্ব, তখন রাজত্ব ছিল পেলের। তখন ব্রাজিলের যে সুন্দর ফুটবল জোগো বনিতো, তার কারণেই ব্রাজিল ফুটবলের প্রতি একটা অনুরক্ততা তৈরি হয়। পরে তাদের মাধ্যমে যেসব মহাতারকাদের আবির্ভাব ঘটে যেমন পেলে, জিকো, ফ্যালকাও, সক্রেটিস। তাদের জন্যই ব্রাজিল ও এর ফুটবলের প্রতি মানুষের মুগ্ধতা তৈরি হয়। এখন যেমন মেসিকে দেখে সবাই আর্জেন্টিনার ফ্যান, তখন তাদের জন্যই ব্রাজিলের ফ্যানবেজটা তৈরি হয়েছিল।

বর্তমানে যেভাবে ইলেকট্রিনিক মিডিয়ার দাপট। তখন সেরকম ছিল না। রায়হান মাহমুদ বলছিলেন তখন কীভাবে মানুষ ফুটবলের প্রতি আকর্ষণ বোধ করতো, তখনতো এতো ইলেট্রনিক মিডিয়া ছিল না। বাংলাদেশ টেলিভিশনই ছিল  একমাত্র। তখন সাপ্তিক একটা প্রোগ্রাম দেখাতো ওয়ার্ল্ড অব স্পোর্টস। যেটা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে ফুটবল ভক্তরা বসে থাকতো। তাছাড়া অনেক খেলা রেকর্ডেড দেখাতো, লাইভ দেখাতে পারতো না। আর তখন ব্রাজিলের যে সুন্দর ফুটবলটা, সেটাই দর্শকদের আকর্ষণ করে। যেটার রেশ ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত ছিল। তার পর ম্যারাডোনা এসে সেটা ভেঙে দেয়। 

তিনি আরও বলছিলেন যে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের যে জনপ্রিয়তা। সেটার জন্য অবদান ছিল ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের। ১৯৭৬ সালে অবসর ভেঙে পেলে যুক্তরাষ্ট্রে নিউ ইয়র্ক কসমসের হয়ে খেলে সেখানকার ফুটবলের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে অবদান ছিল তার। সেই একই ক্লাবের হয়ে ১৯৭৭ সালে কলকাতাতেও খেলতে এসেছিলেন পেলে। 

ম্যারাডোনা বদলে দেন সমীকরণ

১৯৮৬ বিশ্বকাপ বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্ম দেয়। রঙিন টেলিভিশনের বিস্তারের সময় ডিয়েগো ম্যারাডোনার অবিশ্বাস্য নৈপুণ্য মানুষকে মুগ্ধ করে।

বিশেষ করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যান্ড অব গড গোল এবং শতাব্দীর সেরা গোল করে জয় তুলে নেওয়ার ঘটনা অনেক বাংলাদেশির কাছে উপনিবেশবাদবিরোধী এক প্রতীকী বার্তা হিসেবে ধরা দেয়। ফলে আর্জেন্টিনার প্রতি আবেগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

দুই কিংবদন্তির উত্তরসূরি মেসি ও নেইমার

পেলে ও ম্যারাডোনার যুগ শেষ হওয়ার পরও জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। বরং লিওনেল মেসি ও নেইমার নতুন প্রজন্মের কাছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, স্যাটেলাইট টেলিভিশন এবং ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবল তাদের জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দেয়।

পারিবারিক ঐতিহ্য যখন সমর্থনের কেন্দ্রবিন্দু

বাংলাদেশে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ফুটবল সমর্থন এখন অনেকটাই উত্তরাধিকার কেন্দ্রীক। বাবা ব্রাজিল সমর্থক হলে সন্তানও ছোটবেলা থেকেই হলুদ-সবুজ জার্সি দেখে বড় হয়। একইভাবে আর্জেন্টিনা সমর্থক পরিবারে বেড়ে ওঠা শিশুর কাছেও নীল-সাদা জার্সিই হয়ে ওঠে পরিচয়ের অংশ। 

অন্য বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা কেন পিছিয়ে?

জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স কিংবা স্পেন বিশ্বকাপ জিতলেও তাদের সমর্থক বাংলাদেশে তুলনামূলক কম। কারণ এসব দলের সঙ্গে বাংলাদেশের আবেগঘন ঐতিহাসিক সম্পর্ক তৈরি হয়নি। একই সঙ্গে পেলে, ম্যারাডোনা, মেসি কিংবা নেইমারের মতো দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বব্যাপী সাংস্কৃতিক প্রভাব বিস্তারকারী আইকনও ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার জনপ্রিয়তাকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

বলা যায়, বাংলাদেশে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার জনপ্রিয়তা কেবল ফুটবলীয় সাফল্যের কারণে নয়। স্বাধীনতার পর পেলের অনুপ্রেরণা, ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনার জাদু, টেলিভিশনের বিস্তার, মেসি-নেইমারের আধুনিক প্রভাব এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সমর্থন ছড়িয়ে পড়ার ধারাবাহিকতাই এই দুই দলকে বাংলাদেশের ফুটবল সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেছে। তাই বিশ্বকাপ এলে বাংলাদেশের রাস্তাঘাটে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকা!

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status