|
পুরুষ ফুটবলাররা কেন এমন অন্তর্বাস পরে খেলেন
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() পুরুষ ফুটবলাররা কেন এমন অন্তর্বাস পরে খেলেন লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো থেকে শুরু করে নেইমার—বিশ্বের শীর্ষসারির প্রায় সব ফুটবলারই ম্যাচের সময় জার্সির নিচে এটি পরে থাকেন। তবে এটি কোনো সাধারণ অন্তর্বাস নয়; এটি মূলত আধুনিক ক্রীড়াবিজ্ঞানের অন্যতম বিস্ময়, যা জিপিএস ট্র্যাকার ভেস্ট নামে পরিচিত। এটি আসলে কী এবং কীভাবে কাজ করে? দেখতে অন্তর্বাসের মতো হলেও এটি মূলত একটি প্রযুক্তিনির্ভর পরিধানযোগ্য ডিভাইস। এই ভেস্টের পেছনের অংশে, অর্থাৎ দুই কাঁধের মাঝামাঝি পিঠের ওপর ছোট একটি পকেট থাকে। সেখানে বসানো থাকে একটি অত্যাধুনিক জিপিএস ট্র্যাকার বা যন্ত্র। খেলা বা অনুশীলনের সময় খেলোয়াড়ের শরীরের প্রতি মুহূর্তের নড়াচড়া, গতি এবং শারীরিক চাপ পর্যবেক্ষণ করাই এর প্রধান কাজ। ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্মার্ট ভেস্টটি একজন খেলোয়াড়ের প্রায় ৩২ ধরনের ভিন্ন ভিন্ন তথ্য নিখুঁতভাবে সংগ্রহ করতে পারে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে যেসব তথ্য জানা যায়: অতিক্রান্ত দূরত্ব: একজন ফুটবলার পুরো ৯০ মিনিটে মাঠের ঠিক কতটুকু দূরত্ব দৌড়ে পার করেছেন। গতি ও ত্বরণ : খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ গতি কত ছিল, তিনি কত দ্রুত গতি বাড়িয়েছেন (Sprinting) কিংবা কত দ্রুত গতি কমিয়েছেন। শারীরিক ধকল : ম্যাচ চলাকালীন খেলোয়াড়ের হৃদস্পন্দন কেমন ছিল এবং তার শরীরের ওপর কেমন ধকল যাচ্ছে। কোচ ও ট্রেইনারদের জন্য এটি কেন জরুরি? একসময় খেলোয়াড়দের ক্লান্তি বা পারফরম্যান্স বোঝার জন্য কোচদের কেবল নিজেদের চোখ আর অনুমানের ওপর নির্ভর করতে হতো। কিন্তু এই প্রযুক্তির কল্যাণে এখন সবকিছুই ডেটা বা তথ্যের মাধ্যমে নির্ভুলভাবে জানা যায়। চোটের ঝুঁকি কমানো: ফুটবলে ক্লান্তি অনেক সময় বাইরে থেকে চোখে পড়ে না। একজন খেলোয়াড়কে বাইরে থেকে স্বাভাবিক দেখালোও তার পেশি হয়তো ক্লান্তির শেষ সীমায় পৌঁছে যায়। এই ডিভাইসটি ট্রেইনারদের আগেভাগেই সতর্ক করে দেয়, ফলে বড় ধরনের চোট বা ইনজুরির ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। কৌশলগত সিদ্ধান্ত: কোন খেলোয়াড় মাঠে কতটা কার্যক্ষম আছেন এবং কাকে কখন মাঠ থেকে তুলে বদলি খেলোয়াড় নামাতে হবে, সেই সিদ্ধান্ত নিতে কোচদের সাহায্য করে এই ভেস্টের দেওয়া ডেটা। ইনজুরি থেকে ফেরা: কোনো খেলোয়াড় ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফেরার পর তিনি পূর্ণ ফিট কি না এবং তার শরীর আগের মতো চাপ নিতে পারছে কি না, তা এই প্রযুক্তির মাধ্যমে নিখুঁতভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়। এটি দেখতে নারীদের অন্তর্বাসের মতো কেন? ডিভাইসটি যাতে শরীরের সাথে একদম লেপ্টে থাকে এবং দৌড়াদৌড়ির সময় নড়াচড়া না করে, সেজন্য ভেস্টটিকে অত্যন্ত আঁটসাঁট বা টাইট ফিটিং করে তৈরি করা হয়। জিপিএস সিগন্যাল বা অবস্থাননির্ণায়ক সংকেত সবচেয়ে ভালো পাওয়ার জন্য ট্র্যাকারটি পিঠের ওপরের অংশে রাখা হয়। এই বিশেষ বৈজ্ঞানিক ডিজাইনের কারণেই দূর থেকে একে ব্রার মতো দেখায়। নারী ফুটবলাররাও কি এটি পরেন? অনেকের ধারণা এটি শুধু পুরুষ খেলোয়াড়দের জন্য, যা সম্পূর্ণ ভুল। নারী ও পুরুষ উভয় ফুটবলারই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। পার্থক্য শুধু এর নকশায়। নারী খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে অনেক সময় এই জিপিএস ট্র্যাকারটি তাদের খেলার উপযোগী স্পোর্টস ব্রার সাথেই বিল্ট-ইন বা যুক্ত করা থাকে। স্ট্যাটস্পোর্টস বা প্লেয়ারমেকার এর মতো বিশ্বখ্যাত স্পোর্টস সায়েন্স কোম্পানিগুলো এই প্রযুক্তি সরবরাহ করে থাকে। আধুনিক ফুটবলকে আরও বিজ্ঞানসম্মত, নিখুঁত এবং খেলোয়াড়দের জন্য নিরাপদ করে তুলতে এই স্মার্ট ভেস্ট এখন ফুটবল বিশ্বের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
