ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ১ জুলাই ২০২৬ ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন বসত-ভিটা, ফসলি জমি ও স্থাপনা
আহম্মেদুল কবির, কুড়িগ্রাম
প্রকাশ: Wednesday, 1 July, 2026, 4:51 PM

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন বসত-ভিটা, ফসলি জমি ও স্থাপনা

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন বসত-ভিটা, ফসলি জমি ও স্থাপনা

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। জেলার ৩৬টি পয়েন্টে তীব্র ভাঙনে প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও স্থাপনা। অপরদিকে ঘর- বাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে হাজার- হাজার পরিবার। অন্যদিকে বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শত শত হেক্টর কৃষিজমি।

আজ ১ জুলাই বুধবার সকালে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ধরলা নদীর কুড়িগ্রাম সেতু পয়েন্টে পানির স্তর বিপদসীমার ৭৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে । দুধকুমার নদীর পাটেশ্বরী পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ২৭ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে, সেখানেও পানি হ্রাস পাচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র নদীর চিলমারী পয়েন্টে পানির স্তর বিপদসীমার ৭৬ সেন্টিমিটার নিচে নেমেছে। 

অন্যদিকে তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানি সামান্য বাড়লেও তা এখনও বিপদসীমার ৩১ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। ফলে জেলার প্রধান ৪টি নদ-নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে।

তবে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গেই ধরলা, দুধকুমার, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের তীরজুড়ে শুরু হয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের ধাউরারকুটি, পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পাইকডাঙ্গা, নাগেশ্বরীর বামনডাঙ্গা, চিলমারীর কড়াই বরিশাল, রাজারহাটের রামহরি এবং সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া ও সরকারপাড়া এলাকা।

ভুরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের ধাউরারকুটি গ্রামের ফারুক হোসেন বলেন, দফায় দফায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে জিও ব্যাগ ফেলার আবেদন করেছি, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গত ৫দিনে আমাদের গ্রামের ৩০ থেকে ৩৫টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন আমরা সর্বস্ব হারিয়ে ভূমিহীন। প্রতিবছর ভাঙন রোধের নামে কোটি কোটি টাকা খরচের কথা বলা হলেও বাস্তবে কোনো কাজ চোখে পড়ে না।

সদর উপজেলার যাত্রপুর ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের রিপন মিয়া বলেন, ছয় মাস ধরে ভাঙন ঠেকাতে আবেদন করেছি, মানববন্ধন করেছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। জনপ্রতিনিধিরা শুধু আশ্বাস দিয়েছেন। এখন সরকারপাড়া ও বানিয়াপাড়ার প্রায় ৩ শতাধিক পরিবার নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আমরা নদীভাঙন থেকে বাঁচতে চাই।

 কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা চর উন্নয়ন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু বলেন,"বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই কুড়িগ্রামে নদীভাঙনের এমন ভয়াবহ চিত্রে উদ্বেগ বাড়ছে। নদীপাড়ের মানুষের দাবি—শুধু সাময়িক জিওব্যাগ ফেলে এই স্থায়ী সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ভাঙন থেকে কুড়িগ্রামকে বাঁচাতে স্থায়ী নদীশাসনের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন নইলে প্রতিবছরের মতো এবারও শত শত পরিবার নদীগর্ভে হারাবে তাদের শেষ সম্বল।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের ৪৯৯ হেক্টর জমির পাট, চীনাবাদাম, আউশ, আমনের বীজতলা ও মরিচের ক্ষেত বন্যার পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। এতে কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, উজানে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে আবারও নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে। তাই নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ভাঙন মোকাবেলায় অতিরিক্ত জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বেনজির আহমেদ জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ২৮৫ মেট্রিক টন জিআর চাল, ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং ৮০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status