|
চিলমারীতে তিন দিনে নদীগর্ভে বিলীন ৫০টি বসতঘর, হুমকিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা
মোঃ মাহবুবুল হাসান, চিলমারী
|
![]() চিলমারীতে তিন দিনে নদীগর্ভে বিলীন ৫০টি বসতঘর, হুমকিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিন ধরে উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এতে বসতঘরের পাশাপাশি শত শত একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে মনতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঢুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কড়াইবরিশাল নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কড়াইবরিশাল বাজার, চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, ইউনিয়ন ভূমি অফিস এবং নির্মাণাধীন বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। সরেজমিনে দেখা গেছে, শাখাহাতী, কড়াইবরিশাল, বিশারপাড়া ও আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন চলছে। প্রতিদিনই নদী গিলে খাচ্ছে ফসলি জমি ও বসতভিটা। ইতোমধ্যে ১০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় প্রায় ৪০০ পরিবার বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ভাঙনের মুখে থাকা পরিবারের সদস্যদের বাড়িঘর সরিয়ে নিতে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। এলাকার আতিকুর রহমান, আনসার আলী, আব্দুল হামিদ, বক্কর আলী, লাল মিয়া, শাহিন মিয়া, ফুলু মিয়া ও মোনছোর মেম্বারসহ অনেকেই ভিটেমাটি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিশারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শাহিন মিয়া, তোফায়েল হোসেন ও মুকুল মিয়া বলেন, “ব্রহ্মপুত্র আমাদের বসতবাড়ি কেড়ে নিয়েছে। সাজানো সংসার মুহূর্তেই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আমরা এখন মানবেতর জীবনযাপন করছি। ত্রাণ নয়, নদীভাঙন থেকে স্থায়ী রক্ষা চাই।” চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, গত দুই বছরে ইউনিয়নের প্রায় ৮৫০টি পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে যে হারে ভাঙন চলছে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ইউনিয়নের বড় একটি অংশ, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আশ্রয়কেন্দ্র ও কড়াইবরিশাল বাজার নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে শত শত একর আবাদি জমিও হারিয়ে গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হয়েছে। এত ব্যাপক ভাঙন সাময়িক ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনে সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, চরাঞ্চলের দীর্ঘ নদীতীরজুড়ে ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন। প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫০০টি জিও ব্যাগ সরবরাহ করা হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। তাই ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
