|
ডম-ইনোর লোভনীয় অফারের ফাঁদে সর্বস্বান্ত ক্রেতা
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() ডম-ইনোর লোভনীয় অফারের ফাঁদে সর্বস্বান্ত ক্রেতা রাজধানীর শান্তিনগর, নয়াপল্টন, মিরপুর, তোপখানা রোড, ধানমন্ডি, গুলশান, বারিধারা ও উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় ডম-ইনোর একের পর এক প্রকল্প এখন প্রতারণার জীবন্ত সাক্ষী। সরেজমিনে দেখা গেছে, বহু ভবন এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অর্ধনির্মিত অবস্থায় পড়ে আছে। নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় ভবনগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে, অথচ ক্রেতাদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কোনো উদ্যোগ নেই। সবচেয়ে আলোচিত প্রকল্পগুলোর একটি ২০ শান্তিনগর। ২০০৮ সালে শুরু হওয়া ১৯ তলা ভবনের নির্মাণকাজ ১৮ বছরেও শেষ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। অভিযোগ রয়েছে, রাজউকের অনুমোদন ছিল ১৯ তলার, কিন্তু ভুয়া নকশা ব্যবহার করে ২৫ তলা পর্যন্ত ফ্ল্যাট বিক্রির চেষ্টা করা হয়। অনুমোদনবিহীন ১৬টি ফ্ল্যাট বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রতারণা টের পেয়ে ক্ষুব্ধ ফ্ল্যাট মালিকরা শেষ পর্যন্ত ডম-ইনোর প্রকৌশলী ও কর্মচারীদের বের করে দিয়ে নিজেদের উদ্যোগে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। নয়াপল্টনের একটি প্রকল্পেও ফ্ল্যাটের সংখ্যার চেয়ে বেশি ইউনিট বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে জমির মালিকরা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলে আদালত ডম-ইনোর বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট বিক্রি ও হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা দেন। মিরপুরের একটি সাততলা ভবনের কাজও এক যুগ ধরে ঝুলে আছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ডম-ইনোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুস সালামের বিরুদ্ধে প্রতারণা, চেক জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের শতাধিক মামলা বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন। অতীতে তিনি কারাগারেও গেছেন। তবুও থামেনি অভিযোগ। বরং নতুন নতুন কৌশলে ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ফ্ল্যাটের পুরো মূল্য পরিশোধের পরও তারা মালিকানা দলিল পাননি। অনেক ক্ষেত্রে একই ফ্ল্যাট ব্যাংকের কাছে বন্ধক রেখে ঋণ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে মালিকানা হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন বহু ক্রেতা। আবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বছরের পর বছর অভিযোগ জমলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণেই ডম-ইনোর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের মতে, অভিযুক্তদের সম্পদ জব্দ করে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত না করলে এ ধরনের প্রতারণা বন্ধ হবে না। এদিকে শত শত অভিযোগের পর আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাব ডম-ইনোর সদস্যপদ বাতিল করেছে। তবে হাজারো ভুক্তভোগীর প্রশ্ন— কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের পরও কেন এখনো আইনের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হচ্ছে না প্রতিষ্ঠানটি? আর কত পরিবারকে পথে বসালে নড়বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক? |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
