ঈদগাঁওর সামাজিক মূল্যবোধ, শালীনতা ও নারীর মর্যাদাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একদল কিশোরের অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলাজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই ঈদগাঁও উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সচেতন মহল অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। ভাইরাল ভিডিওতে কয়েকজন কিশোরকে নারীদের নিয়ে অশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্য করতে দেখা যায়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দার ঝড় ওঠে। স্থানীয়দের মতে, এমন কর্মকাণ্ড শুধু নারীদের সম্মানহানিই নয়, বরং সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ও অসুস্থ সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করছে। দীর্ঘ অনুসন্ধানে ভিডিওতে জড়িত কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। ভিডিওতে মোবাইল হাতে নিয়ে অশালীন প্রশ্ন ও মন্তব্যকারী প্রধান ব্যক্তি সুমনের বাড়ি ঈদগাঁও থানা সংলগ্ন ফকিরা বাজার এলাকায়। এছাড়া আরিফ ও ইমনের বাড়ি চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পুকুরিয়াঘোনা এলাকায় এবং বাপ্পির বাড়ি খুটাখালির ৯ নম্বর ওয়ার্ডে বলে জানা গেছে। অপর একজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই কিশোর গ্যাং দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের নিয়ে আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরির পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, মাদক কারবার, চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মানুষ ক্ষোভ উগরে দেন। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, প্রকাশ্যে নারীদের নিয়ে এমন অশ্লীল মন্তব্য করার সাহস তারা কোথা থেকে পায় এবং এদের বিরুদ্ধে কেন দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। এদিকে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় হয়েছে। ঈদগাঁও থানা সূত্রে জানা গেছে, ভাইরাল ভিডিওটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সচেতন নাগরিকদের মতে, নারীর মর্যাদা ও সামাজিক মূল্যবোধকে আঘাত করে এমন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সহ্য করা যায় না। তারা দ্রুত গ্রেফতার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ঈদগাঁওবাসীর প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে সমাজে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হবে নারীর সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সুযোগ কারও নেই।