তজুমদ্দিনে বোরোধান সংগ্রহে উন্মুক্ত লটারি, নির্বাচিত ৭৯ কৃষক
মমিনুল ইসলাম,তজুমদ্দিন
প্রকাশ: Thursday, 4 June, 2026, 2:43 PM
তজুমদ্দিনে বোরোধান সংগ্রহে উন্মুক্ত লটারি, নির্বাচিত ৭৯ কৃষক
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় চলতি মৌসুমে সরকারিভাবে বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যে উন্মুক্ত লটারির আয়োজন করা হয়েছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কৃষকদের উপস্থিতিতে এই লটারি অনুষ্ঠিত হয়। এতে চূড়ান্তভাবে ৭৯ জন প্রান্তিক ও মাঝারি কৃষক ধান বিক্রির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।
আজ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এই লটারির আয়োজন করা হয়।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানায়, চলতি বোরো মৌসুমে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার উদ্যোগ নেয় সরকার। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ২৪৩ জন কৃষক আবেদন করেন। তবে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী লটারির মাধ্যমে ৭৯ জন কৃষককে চূড়ান্তভাবে বাছাই করা হয়।এছাড়াও ভবিষ্যৎ প্রয়োজন বিবেচনায় ২৯ জন কৃষককে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে।প্রতি কৃষকের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার কেজি ধান সংগ্রহ করা হবে। নির্বাচিত প্রত্যেক কৃষক সরকারি গুদামে নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রি করতে পারবেন।
লটারি প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ উদ্বোধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বনি আমিন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তজুমদ্দিন উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনার অন্তরা সরকার অদ্রী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিল, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল মালেক তালুকদার , উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আবু সাইদ আব্দুল্লাহ, উপজেলা পল্লি উন্নয়ন কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক, ইউনিয়ন ভূমি উপ সহকারী কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, কৃষক প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম, বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী ও কৃষকরা।
লটারিতে নাম ওঠা এক কৃষক আনন্দ প্রকাশ করে বলেন,"আগে সিন্ডিকেটের কারণে আমরা ন্যায্য মূল্য পেতাম না। এবার সবার সামনে লটারি হওয়ায় আমরা সাধারণ কৃষকরা সরাসরি সরকারের কাছে ধান বিক্রি করার সুযোগ পাচ্ছি। এতে আমরা ভীষণ খুশি।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, "কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের চক্র যেন এই প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে না পারে, সেজন্যই সবার সামনে উন্মুক্ত লটারির আয়োজন করা হয়েছে। প্রকৃত কৃষকরাই যেন সরকারের দেওয়া ন্যায্য মূল্য পান, তা সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত করা হবে।"
খাদ্য বিভাগ জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই নির্বাচিত কৃষকদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধান সংগ্রহ শুরু হবে এবং কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ধানের মূল্য পরিশোধ করা হবে।