তেঁতুলিয়ায় সোহেল মাস্টারকে সহকারী কেন্দ্র সচিব করায় বিতর্ক !
মুস্তাক আহমেদ, পঞ্চগড়
প্রকাশ: Tuesday, 19 May, 2026, 8:34 PM
তেঁতুলিয়ায় সোহেল মাস্টারকে সহকারী কেন্দ্র সচিব করায় বিতর্ক !
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান দ্বিমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিএসসি শিক্ষক সোহেল রানা চুক্তিভিত্তিক নকল বাণিজ্য সিন্ডিকেটের মূলহোতা। কিন্তু আশ্চর্য হলেও সত্য সেই সোহেল মাস্টারই অত্র প্রতিষ্ঠানের তথা এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের সহকারী কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন।
গত ৪/৫ বছর ধরে তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান হাট দ্বিমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি শক্তিশালী শিক্ষক সিন্ডিকেট মেধাশূণ্য পরীক্ষার্থীদের চুক্তির ভিত্তিতে পাশ করিয়ে দেয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা নকল বাণিজ্য করেছেন। সাম্প্রতি পঞ্চগড় কমিউনিটি নিউজের ফেইসবুক পেইজের মাধ্যমে এরই প্রমাণক হিসাবে কিছু ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।
ছবিতে দেখা যাচ্ছে । একজন লোক একটি অফিসের মধ্যে পরীক্ষার এমসিকিউ প্রশ্নপত্রের সীটে সঠিক উত্তর দাগাচ্ছেন। প্রশ্ন হল ঘটনার স্থান কোথায় ? লোকটা কে ? উনি কোন পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে উত্তর দাগিয়ে দিচ্ছেন?
ছবিতে থাকা লোকটির নাম সোহেল রানা । উনি শালবাহান উচ্চ বিদ্যালয়ের বিএসসি শিক্ষক। তবে তিনি কৃষি শিক্ষার উপর নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক ও বটে। নতুন সময়ের অনুসন্ধানে বার বার এই শিক্ষকের নাম উঠে এসেছে। ক্যাপশনে উল্লেখ্য আছে এই ছবি ও ভিডিও তথ্যগুলো ২০২৫ সালের । এই সোহেল রানাই হল চুক্তিভিত্তিক নকল বাণিজ্যের শিক্ষক সিন্ডকেটের মূল হোতা। শিক্ষক সোহেল রানা বিভিন্ন স্কুলের এস এস সি পরীক্ষার্থীদের সাথে চুক্তির ভিত্তিতে পাশ করিয়ে দিতো। গোপনে সেই সব ছাত্রছাত্রীর খাতা ও এমসিকিউ সীট পরীক্ষার পর পরবর্তী ১ থেকে ২ ঘন্টার মধ্যে সম্পন্ন করতো। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে আরও কজন শিক্ষক। যারা – অর্থের বিনিময়ে এই কর্মকান্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছিল। ।
কিন্তু আরও দুঃখজনক বিষয় স্কুল কর্তৃপক্ষ এই সোহেল রানাকেই পরীক্ষা কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ দিয়ে রেখেছেণ। তিনি বর্তমানে শালবাহান হাট উচ্চ বিদ্যালয় এস এস সি পরীক্ষা কেন্দ্রের সহকারী কেন্দ্র সচিব। পদ মর্যাদা অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক উক্ত পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব। কেন্দ্র সচিব অভিযুক্ত সোহেল রানা শিক্ষকের এহেন নকল বাণিজ্যের কথা জেনেও উক্ত ব্যাক্তিতে সহকারী কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব দিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অত্র বিদ্যালয়ে একজন সিনিয়র শিক্ষক বলেন সোহেল মাস্টার শুধু পরীক্ষা না সমস্ত স্কুল প্রশাসন কন্ট্রোল করেন। তার উপর কোন কথা বলা যায় না। কিছু বলতে গেলে মারমুখি আচরণ করে। বিষয়টি প্রধান শিক্ষক কে বার বার অভিযোগ করা সত্যেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায় নি। তবে নকল বাণিজ্যের কথাটি সত্যি । কয়েকজন শিক্ষক মিলে তারা সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তবে এই সিন্ডিকেটের মধ্যে প্রধান শিক্ষক জড়িত আছে বলে ধারনা করা যায়।
এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষক সোহেল রানার কাছে মুঠোফোনে মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন আপনাদের কাছে কোন অভিযোগ থাকলে নিউজ করতে পারেন। তবে আমি শিক্ষক পলিটিক্সের স্বীকার।
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্টেট আফরোজ শাহীন খসরু বলেন আমি ছবি ও ভিডিও দেখিছি । যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।