|
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই ক্যামেরা: কীভাবে কাজ করছে, জটিলতা কোথায়?
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() এআই প্রযুক্তিতে শৃঙ্খল ফিরছে ঢাকার রাস্তায়। ছবি:সংগৃহীত এর ফলে বদলে গেছে রাজধানীর কারওয়ান বাজারস্থ সোনারগাঁও হোটেল ক্রসিংয়ের চেনা চিত্র; এখন নির্দিষ্ট এক স্থানে দাঁড়িয়ে ট্রাফিক পুলিশের সামান্য হাতের ইশারাতেই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে যানবাহন, আগের মতো করতে হচ্ছে না কোনো দৌড়ঝাঁপ। দিন কয়েক আগেও ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত এই সিগন্যালে এক লেনের গাড়ি আটকে অন্য লেনের গাড়ি ছাড়তে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হতো ট্রাফিক পুলিশকে। তবে শনিবার সকালে সেই চিরচেনা ভোগান্তির রূপ আর দেখা যায়নি। এদিন সব ধরনের যানবাহনই সুশৃঙ্খলভাবে লাল-সবুজ বাতি মেনে চলছিল; ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশনা ফাঁকি দিয়ে পার হওয়ার কোনো চেষ্টাই লক্ষ্য করা যায়নি। এই সিগন্যালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্যামেরা বসানোর পর থেকেই সড়কের আগের সেই হ-য-ব-র-ল পরিস্থিতি দূর হয়েছে; যার বিপরীতে এখন চোখে পড়ছে এক দারুণ শৃঙ্খলা। ক্যামেরার সার্বক্ষণিক নজরদারির মাধ্যমে আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আর এই আইনি ব্যবস্থার ভয়ে চালকরাও এখন বাড়তি কোনো ঝুঁকি নিচ্ছেন না। অবশ্য কোনো কোনো যানবাহনের নম্বর প্লেট অস্পষ্ট থাকা কিংবা নম্বর প্লেটই না থাকার কারণে কিছু কারিগরি জটিলতাও তৈরি হচ্ছে। কারণ, এআই ক্যামেরাগুলো এই ধরনের অস্পষ্ট নম্বর প্লেট সঠিকভাবে রিড বা শনাক্ত করতে পারছে না। শুধু এই মোড়েই নয়, রাজধানীর মোট ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংয়ে সচল থাকা সিগন্যাল লাইট পয়েন্টগুলোতে এআই প্রযুক্তির বিশেষ পিটিজেড ক্যামেরা বসিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানিয়েছে পুলিশ। সোনারগাঁও মোড়ের সিগন্যালে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্য বিদ্যুৎ হোসেন শনিবার জানান, ক্যামেরার মামলার ভয়ে চালকদের কেউ এখন আর সিগন্যাল অমান্য করছেন না। সোনারগাঁও হোটেলের সামনের স্টপ লাইনটি দেখিয়ে তিনি বলেন, দেখুন, এখন আর কেউ দাগ পার হয়ে এগিয়ে যাচ্ছে না। বেশির ভাগ চালকই সিগন্যাল মেনে চলছেন। আমরা কেবল এক জায়গায় দাঁড়িয়ে সময়মতো গাড়ি ছাড়া বা থামানোর ইশারা দিচ্ছি। বিদ্যুৎ হোসেন মনে করেন, এআই ক্যামেরা চালুর পর থেকে ট্রাফিক পুলিশের শারীরিক পরিশ্রম অনেক কমেছে এবং তারা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অন্যান্য বিষয়ে আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারছেন। পরীক্ষামূলকভাবে গত ৭ মে থেকে ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে এই এআই প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। এই এআইভিত্তিক ক্যামেরাগুলোর সিস্টেমে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করার জন্য বিশেষ সফটওয়্যার যুক্ত করা হয়েছে। সফটওয়্যারের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো গাড়ি আইন অমান্য করলেই ক্যামেরা সেটি চিহ্নিত করে ফেলে এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে গাড়ির মালিকের নামে ডিজিটাল মামলা ইস্যু করা হয়। এই নতুন ব্যবস্থা চালুর প্রথম সপ্তাহেই চালকদের সিগন্যাল মানার ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এর আগে, ডিএমপি সদর দপ্তরে গত ২৯ এপ্রিল আইজিপি আলী হোসেন ফকির আনুষ্ঠানিকভাবে এই সফটওয়্যারটির উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে ৩ মে এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ভিডিও ফুটেজ দেখে ট্রাফিক মামলা দায়েরের বিষয়ে চালক ও গাড়ির মালিকদের সতর্ক করা হয়। কয়েক দিন পরীক্ষামূলক ট্রায়াল চালানোর পর, ৭ মে থেকে নির্ধারিত পয়েন্টগুলোতে এই স্বয়ংক্রিয় মামলা প্রক্রিয়া পুরোদমে শুরু করে পুলিশ। পিটিজেড ক্যামেরা আইন অমান্যকারী গাড়ির নম্বর প্লেট শনাক্ত করতে পুলিশ যে এআইভিত্তিক ক্যামেরা ব্যবহার করছে, সেগুলোকে বলা হচ্ছে পিটিজেড (PTZ) ক্যামেরা। এটি মূলত প্যান-টিল্ট-জুম প্রযুক্তিসম্পন্ন একটি উন্নত নিরাপত্তা ক্যামেরা, যা দূরবর্তী নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে ডানে-বামে, ওপরে-নিচে ঘোরানো এবং জুম করা সম্ভব। সাধারণত বিশাল এলাকা বা জনাকীর্ণ স্থান পর্যবেক্ষণের জন্য এই ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়। এটি ৩৬০ ডিগ্রি কোণে ঘুরে সব দিকের দৃশ্য ধারণ করতে পারে এবং যেকোনো চলন্ত বস্তু বা ব্যক্তিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুসরণ (ট্র্যাক) করতে সক্ষম। ওয়াইফাই সংযোগের সহায়তায় অ্যাপের মাধ্যমে এটি সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং এর শক্তিশালী ‘অপটিক্যাল জুম’ অনেক দূর থেকেও গাড়ির নম্বর প্লেটের স্পষ্ট ছবি তুলতে পারে। ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে এই ক্যামেরার সফটওয়্যারে ছয়টি লজিক বা নিয়ম সেট করে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ছয় ধরনের ট্রাফিক আইন অমান্য করলেই ক্যামেরা সেটি ধরে ফেলবে এবং নম্বর প্লেটসহ গাড়ির ছবি তুলে রাখবে। সংগৃহীত সেই ছবি ও ভিডিও সরাসরি ডিএমপি সদর দপ্তরের ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিটের (টিটিইউ) সার্ভারে জমা হয়। এই সফটওয়্যারটিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে আইন ভঙ্গকারী যানবাহনের নম্বর পাওয়ার পরপরই নিমিষের মধ্যে গাড়ির মালিকের যাবতীয় বিস্তারিত তথ্য চলে আসে। এরপর টিটিইউ টিমের সদস্যরা সার্ভারে আসা ছবি ও ভিডিও ভালো করে পর্যালোচনা করে আইন ভঙ্গের মাত্রা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মালিকের নামে মামলা ইস্যু করেন। ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে এই স্বয়ংক্রিয় মামলার কপি গাড়ির মালিক বা চালকের নিবন্ধিত ঠিকানায় ডাকযোগে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ৪ শতাধিক মামলা এই আধুনিক প্রযুক্তি চালুর প্রথম আট দিনেই সার্ভারে ১০ হাজারেরও বেশি ভিডিও ফুটেজ জমা হয়েছে। টিটিইউ ইউনিটের সদস্যরা সেসব ফুটেজ যাচাই-বাছাই করে আইন লঙ্ঘনের ধরন অনুযায়ী ডিজিটাল মামলা দিচ্ছেন। ডিএমপি ট্রাফিকের এআই প্রযুক্তির সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট শারমিন আফরোজ বলেন, আমরা প্রচুর পরিমাণে ভিডিও ফুটেজ পাচ্ছি। উদাহরণস্বরূপ, সফটওয়্যারকে যখন লেন ভায়োলেশন (লেন অমান্য) ধরার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তখন কোনো গাড়ির চাকা একটু এদিক-ওদিক হলেই ক্যামেরা সেটিকে আইন লঙ্ঘন হিসেবে ধরে ফুটেজ পাঠাচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন, যেহেতু এই পুরো ব্যবস্থাটি একদম নতুন, তাই আমরা প্রথম দিকে ছোটখাটো ভুলত্রুটিগুলো এড়িয়ে যাচ্ছি। আমরা মূলত দেখছি, ওই আইন লঙ্ঘনের কারণে সড়কে কোনো যানজট তৈরি হচ্ছে কিনা কিংবা সাধারণ যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে কিনা। এসব ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করে এখন পর্যন্ত ৪০০-র বেশি প্রসিকিউশন (মামলা) প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেকগুলো নোটিশ ইতিমধ্যে মালিকদের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং বাকিগুলো পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। প্রতিদিন কী পরিমাণ নিয়ম ভাঙার ঘটনা ঘটছে, জানতে চাইলে শারমিন আফরোজ জানান, গত বুধবার তারা ৭৪৮টি ভিডিও পেয়েছিলেন, তবে বৃহস্পতিবার এই সংখ্যা কিছুটা কম ছিল। কোন ধরনের আইন ভাঙার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বেশির ভাগ চালকের মধ্যেই বাম লেন দখল করে রাখা এবং স্টপ লাইন না মানার প্রবণতা দেখা যাচ্ছিল। তবে বর্তমানে স্টপ লাইন মেনে চলার হার আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে এবং বেশির ভাগ চালকই এখন সিগন্যাল অনুযায়ী স্টপ লাইনের পেছনে গাড়ি থামাচ্ছেন। ডিএমপির সাবেক কমিশনার সরওয়ার এ প্রসঙ্গে বলেন, "আমাদের টিম নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে দেখা যাবে যে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিদিন হয়তো প্রায় ১ হাজার পর্যন্ত মামলা রেকর্ড হচ্ছে। যেসব যানবাহন শনাক্ত করছে ক্যামেরা বর্তমানে প্রধানত যেসব কারণে ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয় মামলা দিচ্ছে, সেগুলো হলো: বাম লেন বন্ধ করে রাখা, অবৈধভাবে বা বারবার লেন পরিবর্তন করা, ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট বা স্টপ লাইট অমান্য করা, জেব্রা ক্রসিংয়ের ওপর গাড়ি দাঁড় করিয়ে দেওয়া, রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা বা মাঝরাস্তায়/ক্রসিংয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো, অবৈধ পার্কিং এবং উল্টো পথে যানবাহন চালানো। গত ১১ মে বিমানবন্দর ক্রসিংয়ে সৌরবিদ্যুৎ চালিত সিগন্যাল লাইট স্থাপন অনুষ্ঠানে ডিএমপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, সামনে সিস্টেমে আরও অনেকগুলো লজিক যুক্ত করা হবে। এই লজিকের পরিধি যত বাড়বে, ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের আইনের আওতায় আনার সুযোগও ততটাই প্রসারিত হবে। মামলার কপি যাচ্ছে ডাকযোগে ডিএমপি জানিয়েছে, বর্তমানে ক্যামেরায় ধরা পড়া আইন ভঙ্গকারী মালিক বা চালকদের ঠিকানায় ‘অটো জেনারেটেড নোটিস’ বা স্বয়ংক্রিয় চিঠি ডাকযোগে পাঠানো হচ্ছে। এই নোটিশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ডিএমপি সদর দপ্তর অথবা নির্দিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে হাজির হয়ে 'সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮' অনুযায়ী নির্ধারিত জরিমানা ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করে মামলা নিষ্পত্তি করতে পারবেন। নোটিশ পাওয়ার পরও যদি কোনো মালিক বা চালক নির্ধারিত ট্রাফিক বিভাগে যোগাযোগ না করেন, তবে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে ডিএমপির ম্যাজিস্ট্রেটরা তাদের বিরুদ্ধে সমন কিংবা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করবেন। তবে ডাকযোগের পাশাপাশি মামলার এই তথ্য সরাসরি চালক বা মালিকের মোবাইল ফোনে পাঠানোর পরিকল্পনাও করছে পুলিশ প্রশাসন। ডিএমপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত কমিশনার জানান, বর্তমানে চিঠির মাধ্যমে ট্রাফিক মামলার নোটিশ পাঠানো হলেও, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মোবাইল অ্যাপ বা এসএমএস-এর মাধ্যমে মামলার তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে। মোবাইল বার্তার সঙ্গে একটি ডিজিটাল লিংকও দেওয়া থাকবে, যেখানে ক্লিক করে অভিযুক্ত ব্যক্তি মামলার চিঠিসহ তার আইন ভঙ্গের কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও ফুটেজ সরাসরি দেখতে পারবেন। ট্রাফিক কর্মকর্তাদের মতে, এই ব্যবস্থা চালু হলে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ উল্লেখ করেছে, সড়কে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে একসময় কাগজের স্লিপে সনাতন পদ্ধতিতে মামলা দেওয়া হতো। পরবর্তীতে ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সিস্টেমের আওতায় পস (POS) মেশিন চালু করা হয়। কিন্তু চলন্ত গাড়ি থামিয়ে অন-স্পট মামলা ও জরিমানা আদায় করার কারণে সড়কে উল্টো যানজট বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ ছিল দীর্ঘদিনের। এআইভিত্তিক ক্যামেরার মাধ্যমে ডিজিটাল মামলার দিকে যাওয়ায় এখন সেই অনাকাঙ্ক্ষিত যানজটের সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। যেসব পয়েন্টে বসেছে ক্যামেরা বর্তমানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং থেকে জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত সাতটি এবং গুলশান-১ ও ২ নম্বরসহ মোট নয়টি পয়েন্টে সিগন্যাল লাইট সচল রয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অধীনে হাইকোর্ট ক্রসিং থেকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং পর্যন্ত ছয়টি এবং ডিএমপির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ১৫টিসহ মোট ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংয়ে এই আধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু আছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ৩০টি পয়েন্টের প্রতিটিতেই এআই প্রযুক্তির পিটিজেড ক্যামেরা বসিয়ে নজরদারি করা হবে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে শহরের সবকটি সিগন্যাল লাইটের খুঁটিতেই এই ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। সিস্টেম অ্যানালিস্ট শারমিন আফরোজ জানান, বর্তমানে শতাধিক পিটিজেড ক্যামেরার সমন্বয়ে এই আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে ক্যামেরার সংখ্যা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জটিলতা কোথায়? ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, এই নতুন স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় প্রধান যে চ্যালেঞ্জটি দেখা গেছে, তা হলো বহু যানবাহনের নম্বর প্লেট অস্পষ্ট থাকা। আবার কিছু কিছু গাড়িতে কোনো নম্বর প্লেটই নেই। ফলে ডিজিটাল ক্যামেরাগুলো সেসব যানবাহনের তথ্য সঠিকভাবে রিড বা শনাক্ত করতে পারছে না। ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অনেক চালক বিআরটিএ নির্ধারিত সরকারি নম্বর প্লেট ব্যবহার না করে সাধারণ রঙ দিয়ে গাড়ির বডিতে নম্বর লিখে চালাচ্ছেন। আবার অনেক মালিক নম্বর প্লেটের ফি জমা দিলেও বিআরটিএ থেকে মূল প্লেট ও আরএফআইডি (RFID) ট্যাগ সংগ্রহ করেননি। এছাড়া বেশ কিছু যানবাহনের উইন্ডশিল্ডে থাকা আরএফআইডি ট্যাগ অকার্যকর অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা ডিজিটাল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় জটিলতা বাড়াচ্ছে। এই জটিলতা নিরসনে গত ১১ মে ডিএমপির পক্ষ থেকে একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে চলতি সপ্তাহ থেকেই বিশেষ অভিযানে নামার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, সড়কে চলাচলকারী প্রতিটি নিবন্ধিত যানবাহনে সরকার নির্ধারিত সঠিক রঙ, ডিজাইন ও সাইজের নম্বর প্লেট যথাস্থানে স্থাপন করা আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক। ডিএমপির একজন কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে যারা বিআরটিএ নির্ধারিত আসল নম্বর প্লেট লাগাবেন না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে এক্সপ্রেসওয়েগুলোতে এভাবেই অত্যাধুনিক ক্যামেরার মাধ্যমে অনিয়ন্ত্রিত গতির গাড়ি শনাক্ত করে মামলা দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন পয়েন্টে ভুল পার্কিং বা রাস্তায় স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টির মতো অপরাধগুলোর ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করছেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা এবং তার ভিত্তিতে মামলা দেওয়া হচ্ছে। ডিএমপি আরও জানিয়েছে, হ্যালো ডিএমপি নামে একটি মোবাইল অ্যাপ ইতিমধ্যে চালু রয়েছে। ভবিষ্যতে সাধারণ নাগরিকরাও এই অ্যাপের মাধ্যমে যেকোনো যানবাহনের আইন অমান্যের ভিডিও বা ছবি আপলোড করতে পারবেন। পরবর্তীতে সেই ফুটেজ যাচাই-বাছাই করে ট্রাফিক পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা ও মামলা দায়েরের পরিকল্পনা করছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
