|
কী, কেন, কীভাবে
ভারতীয় রুপির বারবার দরপতন কেন হচ্ছে ?
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() ভারতীয় রুপির বারবার দরপতন কেন হচ্ছে ? বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দেশীয় মুদ্রার পতন ঠেকাতে ভারতীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (আরবিআই) বাজারে হস্তক্ষেপ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে রুপি ৯৫ দশমিক ৫০-এর কাছাকাছি লেনদেন হয়। বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত রুপির মান ৫ শতাংশের বেশি কমেছে, যা এটিকে এশিয়ার সবচেয়ে অস্থির মুদ্রাগুলোর একটি করে তুলেছে। ভারতীয় রুপির পতনের কারণ বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধবিরতি এখন ‘ম্যাসিভ লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে। এতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা ভারতের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। কারণ দেশটি তার ৮০ শতাংশের বেশি জ্বালানি চাহিদা মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামও রুপির ওপর চাপ বাড়িয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম ছিল প্রায় ৯৯ ডলার। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে ওই অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়ায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও জোরালো হয়েছে। মোদির বার্তায় বাজারের উদ্বেগ এদিকে, গত সপ্তাহান্তে এক জনসভায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জনগণকে জ্বালানি ব্যবহার কমানো, আমদানি হ্রাস এবং স্বর্ণ কেনা সীমিত করার আহ্বান জানান। বাজারে এটিকে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি ও পরিশোধ ভারসাম্যের ওপর বাড়তি চাপের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়েছে। সিআর ফরেক্স অ্যাডভাইজার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অমিত পাবারি বলেন, বাজার মোদির বক্তব্যকে এমন ইঙ্গিত হিসেবে নিয়েছে যে, তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ অবস্থায় থাকলে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি আরও বাড়তে পারে। এর প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারেও। সোমবার ভারতের দুই প্রধান সূচক নিম্নমুখী অবস্থায় লেনদেন শেষ করে। মঙ্গলবারও বিক্রির চাপ অব্যাহত রয়েছে। সেনসেক্স ৭৪৮ দশমিক ২২ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৯৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার ২৬৭ দশমিক ৬-এ। নিফটি কমেছে ২০৮ দশমিক ৭০ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৮৮ শতাংশ। বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক বিনিয়োগ প্রত্যাহারও রুপির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। চলতি বছরে দেশীয় শেয়ারবাজার থেকে ২ লাখ কোটি রুপির বেশি তুলে নিয়েছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। জিওজিত ইনভেস্টমেন্টসের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ ড. ভি কে বিজয়কুমার বলেন, ভারতের আয়ের প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ এবং রুপির অবমূল্যায়ন বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহারের বড় কারণ হয়ে উঠেছে। একই সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রবৃদ্ধির কারণে দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের মতো বাজারে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে। এনএসইর তথ্য অনুযায়ী, ১১ মে পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ৭ হাজার ৬৭৯ কোটি রুপির শেয়ার বিক্রি করেছেন। টালমাটাল এশীয় বাজার শুধু ভারত নয়, অন্যান্য দেশের অর্থনীতির মুদ্রাও চাপে রয়েছে। বিশেষ করে যেসব দেশ জ্বালানি আমদানিনির্ভর, তাদের মুদ্রায় বড় পতন দেখা যাচ্ছে। ১২ মে ইন্দোনেশিয়ার রুপিয়াহ ডলারের বিপরীতে রেকর্ড ১৭ হাজার ৫০০-তে নেমে যায়। একই দিনে ফিলিপাইনের পেসোর মানও শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে। বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের বিপরীতে ৯৬ রুপির স্তর এখন গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক সীমা। রুপির মান ১০০ ছুঁয়ে যাবে, এমন সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অমিত পাবারি বলেন, প্রযুক্তিগতভাবে ৯৪ থেকে ৯৪ দশমিক ২০ অঞ্চল ডলার-রুপি বিনিময় হারের জন্য শক্তিশালী সহায়ক স্তর হিসেবে কাজ করবে। অন্যদিকে ৯৫ দশমিক ৫০ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধ স্তর। এর ওপরে স্থায়ীভাবে অবস্থান করলে আরও ৫০ পয়সা পর্যন্ত দ্রুত দরবৃদ্ধি হতে পারে। সূত্র: ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস ইন্ডিয়া |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
