|
ঘুম ভাঙার পরই স্ক্রিনে চোখ, কী প্রভাব পড়ে মনের উপর?
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() ঘুম ভাঙার পরই স্ক্রিনে চোখ, কী প্রভাব পড়ে মনের উপর? এই প্রবণতাকে অনেকেই “6 AM phone rule” নামে চিহ্নিত করেন। যদিও এটি কোনও আনুষ্ঠানিক নিয়ম নয়, তবুও আধুনিক জীবনের এক অঘোষিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে সাংবাদিক, চিকিৎসক বা জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত পেশাজীবীদের ক্ষেত্রে সকালে ফোন দেখা অনেক সময় প্রয়োজনীয়ও। কিন্তু অভ্যাস আর প্রয়োজনের সীমারেখা সবসময় স্পষ্ট থাকে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুম থেকে ওঠার পরের সময়টুকু মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই সময়েই আমাদের ব্রেন ধীরে ধীরে সক্রিয় হয় এবং দিনের মানসিক ছন্দ তৈরি করে। কিন্তু ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই ফোন স্ক্রলিং শুরু করলে সেই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। মস্তিষ্ক তখন নিজের ভাবনার জায়গা না পেয়ে বাইরের তথ্যের প্রতি দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করে। ফলে দিনটি শুরু হয় এক ধরনের তাড়াহুড়ো ও চাপের মধ্যে। এই পরিবর্তনের প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা না গেলেও ধীরে ধীরে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অনেকেই জানান, সকালে ফোন না দেখলে অস্বস্তি লাগে—যেন কিছু মিস হয়ে যাচ্ছে। এই “ফিয়ার অফ মিসিং আউট” অনুভূতি মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়। সময়ের সঙ্গে এর ফল হিসেবে দেখা দিতে পারে মনোযোগ কমে যাওয়া, অকারণ বিরক্তি, মানসিক ক্লান্তি এবং উদ্বেগ। এমনকি ঘুমের মানও খারাপ হতে পারে, কারণ মস্তিষ্ককে প্রয়োজনীয় বিশ্রাম থেকে বঞ্চিত করা হয়। তবে এই বিষয়ে একপাক্ষিক মত নেই। কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, সকালে ফোন ব্যবহার করলে অনেকেই নিজেদের বেশি সংগঠিত ও প্রস্তুত মনে করেন। দিনের কাজের তালিকা, ক্যালেন্ডার, বা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেখে নেওয়া থাকলে সময় ব্যবস্থাপনা সহজ হয়। বিশেষ করে যাঁদের কাজ দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের জন্য এটি কার্যকর হতে পারে। তবুও অধিকাংশ ডিজিটাল ওয়েলনেস বিশেষজ্ঞ একটি ভারসাম্যের কথা বলেন। তাঁদের পরামর্শ—ঘুম থেকে ওঠার পর অন্তত ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা ফোন ব্যবহার না করা। এই সময়টুকু নিজের শরীর ও মনের জন্য বরাদ্দ রাখা উচিত। হালকা ব্যায়াম, ধ্যান, কিংবা দিনের পরিকল্পনা—এসব অভ্যাস মস্তিষ্ককে স্বাভাবিকভাবে জেগে উঠতে সাহায্য করে এবং মনকে স্থির রাখে। সকালের প্রথম মুহূর্তগুলো যদি নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবে পুরো দিনটাই ভিন্নভাবে কাটতে পারে। ফোন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও, তার ব্যবহার কখন এবং কীভাবে করা হচ্ছে—সেই সিদ্ধান্তটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ছোট একটি পরিবর্তন, যেমন ঘুম থেকে উঠেই ফোন না দেখা, দীর্ঘমেয়াদে মানসিক স্বাস্থ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
ভূরুঙ্গামারীতে চেয়ারম্যান প্রার্থীর বাড়িতে লুটপাট-অগ্নিসংযোগ, অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি
বাগমারায় ভবানীগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির নামে চাঁদাবাজির অভিযোগে বিক্ষোভ
বাঘাইছড়িতে দমকা হাওয়ায় গাছ পালা ভেঙ্গে জনদুর্ভোগ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় যান চলাচল স্বাভাবিক
কুড়িগ্রামে জমি নিয়ে ভাই-বোনদের বিরোধ: ধান কাটতে বাধা, থানায় অভিযোগ
