|
দুর্গম পাহাড়ে বাঁশের তৈরি অ্যাম্বুলেন্সই শেষ ভরসা
রুপম চাকমা, বাঘাইছড়ি
|
![]() দুর্গম পাহাড়ে বাঁশের তৈরি অ্যাম্বুলেন্সই শেষ ভরসা পাহাড়ি আঁকাবাঁকা সরু পথে গাড়ি চলাচল প্রায় অসম্ভব। ফলে হঠাৎ অসুস্থতা, প্রসবকালীন জটিলতা কিংবা দুর্ঘটনার শিকার হলে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে অসুষ্ট হয়ে পরলে গ্রামবাসী মিলে বাঁশ, দড়ি এবং কাপড় দিয়ে তৈরি করেন এক ধরনের স্ট্রেচার, যা দেখতে অনেকটা অ্যাম্বুলেন্সের বিকল্প রূপ। এই বাঁশের অ্যাম্বুলেন্স কাঁধে তুলে কয়েক কিলোমিটার পাহাড়ি পথ পাড়ি দেন স্থানীয় যুবকরা। কখনো কয়েক ঘণ্টা, আবার কখনো পুরো দিন লেগে যায় নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছাতে। তবুও এটিই তাদের একমাত্র উপায়। স্থানীয়দ ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য পরিচয় চাকমার মতে, বহুবার এই উদ্যোগের কারণে জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। পরিচয় চাকমা মনে করেন, এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, পাহাড়ি সড়ক নির্মাণ এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবার প্রসার এখন সময়ের দাবি। সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নেলসন চাকমা বলছেন, এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয়দের সংগ্রামী মানসিকতার প্রমাণ হলেও, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষদের জন্য সমান স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন অপরিহার্য। দুর্গম পাহাড়ে বাঁশের অ্যাম্বুলেন্স তাই শুধু একটি পরিবহন ব্যবস্থা নয়, বরং এটি মানবিকতা, সহমর্মিতা এবং বেঁচে থাকার লড়াইয়ের এক জীবন্ত প্রতীক। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
