ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ১৬ মে ২০২৬ ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ ও এক-এগারোয় কী ভূমিকা? যা বললেন শেখ মামুন
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Thursday, 26 March, 2026, 7:33 PM

খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ ও এক-এগারোয় কী ভূমিকা?  যা বললেন শেখ মামুন

খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ ও এক-এগারোয় কী ভূমিকা? যা বললেন শেখ মামুন

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় একটি হত্যা মামলায় ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদ পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

তার আগে আদালতে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা দাবি করেছেন, এক-এগারোর সরকারের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জামিনে সরাসরি ভূমিকা রেখেছেন তিনি।

অন্যদিকে হত্যায় জড়িত থাকার পক্ষে তথ্য প্রমাণ পাওয়ার দাবির পাশাপাশি রাষ্ট্রপক্ষ বলেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে এক কাপড়ে বের করে দিয়েছিলেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক এই কর্মকর্তা।

শেখ মামুনকে রিমান্ডে চেয়ে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা-ডিবির আবেদনের ওপর বৃহস্পতিবার শুনানি নেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ছিদ্দিক আজাদ।

বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।

শেখ মামুনকে রিমান্ডে চেয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির এসআই কফিল উদ্দিনের আবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দেশি অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় আওয়ামী লীগের ৫০০-৭০০ নেতাকর্মী।

এ সময় শেখ মামুনের ‘নির্দেশে’ আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়।

তাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন দেলোয়ার হোসেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২১ জুলাই শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

আবেদনে বলা হয়, এ ঘটনায় সন্ধিগ্ধ আসামি শেখ মামুনের জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে ‘পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে’। হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন, এজাহারভুক্ত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার, অচেনা আসামিদের সঠিক নাম-ঠিকানা সংগ্রহ এবং ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন।

তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে বলেন, “মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য এ আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।”

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, “এ আসামির পূর্বের রাজনৈতিক ইতিহাস সবাই জানেন। এক-এগারোর সময়কার কুশীলবদের একজন তিনি। তখন তিনি ডিজিএফআইয়ে কর্মরত ছিলেন।”

সে সময় এ আসামি ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতাদের ‘বন্দি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন এবং হেনস্তা করেন’, এমন দাবি করে তিনি বলেন, “পরবর্তীতে হাসিনাকে ক্ষমতায় আনতে যারা সহযোগিতা করছিল তার মধ্যে তিনি একজন। যার পুরষ্কার স্বরূপ ডিজিএফআই প্রধান হন।”

ওমর ফারুক বলেন, “ডিজিএফআই প্রধান হওয়ার পর শেখ মামুন আয়নাঘর তৈরি করেন, যেখানে অত্যাচার করা, গান পাউডার দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারাসহ নানান অপরাধ করেন। পাশাপাশি ডিজিএফআইকে রাজনীতিকরণ করার কুশীলবও তিনি।”

শেখ মামুনের বিরুদ্ধে জলসিঁড়ি প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের কথা তুলে ধরে সরকারি এই কৌঁসুলি বলেন, যে কারণে ইতোমধ্যে আদালত তিনি ও তার স্ত্রীর বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাড়ি এক কাপড়ে বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, যে কারণে শেখ হাসিনা তাকে অনেক ‘সুযোগ-সুবিধা দেন’।

অন্যদিকে রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে যুক্তি দেন আসামির পক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন ও নজরুল ইসলাম পাখি।

মোরশেদ হোসেন শাহীন বলেন, “মামলার এজাহারে মামুন খালেদের নাম নেই। বাদী সেখানে নির্দিষ্টভাবে আসামিদের নাম বলে দিয়েছেন।

“উচ্চ আদালতের আদেশে বলা আছে, যে কোনো মামলা হতে হলে, নির্ভরযোগ্য চারটি কারণ থাকতে হবে তার একটিও রাষ্ট্রপক্ষ দেখাতে পারেনি। মামুন খালেদ ওইসময় একজন চাকরিজীবী ছাড়া কিছু ছিলেন না।”

নজরুল ইসলাম পাখি বলেন, “আসামি মামুন খালেদ নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন শেষ করেছেন। তিন যুগ প্লাস পাঁচটা পদে চাকরি করেছেন। একটা পদেও আইনবহির্ভূতভাবে সুবিধা নেননি। আয়নাঘরের দায়িত্বে তিনি ছিলেন না।”

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের অনেক আগে শেখ মামুনের অবসরে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “খালেদা জিয়ার সেই বাসা উচ্ছেদে অন ডিউটিতে ছিলেন। এছাড়া মামলার যে ঘটনার স্থান সেখানে তিনি ছিলেন না। মামলায় তার বয়স ৬৩ দেখানো হয়েছে কিন্তু বয়স আরও বেশি।

“সুতরাং তাকে রিমান্ডে দেওয়ার কিছু নেই। প্রয়োজনে জেলগেইট জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক।”

আদালতের অনুমতি নিয়ে কথা বলেন শেখ মামুন। তিনি বলেন, এক-এগারোর সময় তিনি কুমিল্লায় ছিলেন। শেখ হাসিনার সময় যারা দায়িত্বে ছিলেন, সবাই বিদেশে।

“আমি যদি সম্পৃক্ত থাকতাম, তাহলে বিদেশে থাকতাম। আমার মেয়ে বিদেশে পড়াশোনা করে। সেখানে কয়েকবার গিয়েছিলাম। ইচ্ছে করলে সেখানে থেকে যেতে পারতাম। দেশে ফিরতাম না।

“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেবের জামিনে সরাসরি ভূমিকা পালন করেছি।”

জলসিঁড়ি প্রকল্পের টাকা নিয়ে যে অভিযোগ তার জবাবে ডিজিএফআইয়ের এই সাবেক প্রধান বলেন, “নজরুল সাহেব নামে একজন ১৫০০ কোটি টাকা উদ্ধারের দায়িত্ব আমাকে দেন। আমি শুধু উদ্ধারের কাজে ছিলাম।”

আয়নাঘরের বিষয়ে দুই-তিনবার জবানবন্দি দেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার সময়কালে কোনো অভিযোগ নেই। ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্য থেকে ফিরে দেশে থেকে যাই।”

শেখ মামুন বলেন, “বিইউপির ফাউন্ডার ভিসি ছিলাম। জুলাই আন্দোলনের সময় সেখানকার শিক্ষার্থীরা উৎসাহিত হয়। এমনকি এ মামলার অভিযোগে যে জায়গার কথা বলা হয়েছে ওখানে যাওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। কারণ ডিওএইচএচের বাইরে যাই নাই। ২০২৪ সালে আমার কথামতো কে গুলি করবে? তখন তো আমি সিভিলিয়ান।”

শুনানি শেষে আদালত থেকে তার পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ আসে।

গত সোমবার রাতে বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে ২০০৭-০৮ সময়ের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ের আলোচিত অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।

তাকে মঙ্গলবার মানবপাচারের মামলায় ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার একদিন পরেই তখনকার আরেক প্রভাবশালী সাবেক সেনা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিজিএফআইকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার অভিযোগসহ এক-এগারোর সময় সাবেক সেনা কর্মকর্তা মামুনের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

সিগন্যালস কোরের কর্মকর্তা হিসেবে শেখ মামুন ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে ডিজিএফআইতে পরিচালক (এফএসআইবি) হিসেবে যোগ দেন। পরে ২০০৮ সালের জুনে তিনি ব্রিগেডিয়ার চৌধুরী ফজলুল বারির স্থলাভিষিক্ত হয়ে পরিচালকের (কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর-সিআইবি) দায়িত্ব পালন করেন।

পরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১১ সালে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোল্লা ফজলে আকবরের উত্তরসূরি হিসেবে শেখ মামুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে ডিজিএফআইতে ফিরে আসেন।

প্রায় দেড় বছর এই দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার পর তার স্থলাভিষিক্ত হন মেজর জেনারেল আকবর হোসেন।

সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের সময় শেখ মামুন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) উপাচার্য ছিলেন। পরে অবসরে যাওয়ার আগে তিন তারকা জেনারেল হিসেবে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের (এনডিসি) দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনা সমর্থিত সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ঘটনার সময় তিনি কুমিল্লায় কর্নেল হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের মে মাসে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্ত্রীসহ শেখ মামুন খালেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল আদালত। তখন দুদক তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও সম্পদসংক্রান্ত বিষয়ে অনুসন্ধানের কথা জানিয়েছিল।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status