ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ৪ মাঘ ১৪৩২
খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় ‘ইচ্ছাকৃত অবহেলা’, তদন্ত চান এফএম সিদ্দিকী
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Friday, 16 January, 2026, 7:56 PM

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় ‘ইচ্ছাকৃত অবহেলা’, তদন্ত চান এফএম সিদ্দিকী

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় ‘ইচ্ছাকৃত অবহেলা’, তদন্ত চান এফএম সিদ্দিকী

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় ‘অবহেলার’ অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তার চিকিৎসক অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী।

শুক্রবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর নাগরিক শোকসভায় দেওয়া বক্তব্যে চিকিৎসায় অবহেলার গুরুতর এই অভিযোগ তোলেন তিনি।

এফএম সিদ্দিক বলেন, এই অবহেলার পথ ধরে জীবনের শেষ সময়ে যে ‘অবর্ণনীয় কষ্ট’ খালেদা জিয়া ভোগ করেছেন, এটা তার ‘প্রাপ্য ছিল না’।

আইনগতভাবে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার ‘চিকিৎসা সংক্রান্ত অবহেলার’ তিনটি বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের পরামর্শ দেন তিনি।

১. সরকার গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য কারা ছিলেন? এবং কোন দক্ষতার ভিত্তিতে তারা খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দায়িত্ব মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে চিকিৎসার জন্য সুপারিশ করে নিয়ে গিয়েছিলেন? এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা তাদের উপর বর্তায় কি-না।

২. ভর্তিকালীন সময়ে কোন কোন চিকিৎসক খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং চিকিৎসায় অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায় কি-না।

৩. মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন থাকার সময়ে খালেদা জিয়া আইনজীবীর মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলেন, তখন কী কারণে হয়নি এবং কারা বাধা দিয়েছিল?

বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সমস্ত নথিপত্র আইনগতভাবে জব্দ করার পরামর্শও শোকসভায় দেন এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

‘ইচ্ছাকৃত অবহেলা’
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে। ওই বছরের অক্টোবরে হাই কোর্টে আপিল শুনানি শেষে সাজা বেড়ে হয় ১০ বছর।

এরপর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায়ও আরও সাত বছরের সাজা হয় বিএনপি চেয়ারপারসনের। তিনি তখনও পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন সড়কের কারাগারে ছিলেন।

কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে ভর্তি করা হয় তখনকর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে। একটি মেডিকেল বোর্ডের অধীনে তার চিকিৎসা চলে, যা নিয়ে বিএনপি তখন আপত্তি তুলেছিল।

দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর পরিবারের আবেদনে ২০২০ সালে তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করে খালেদার দণ্ড ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন। ওই বছরের ২৫ মার্চ সাময়িক মুক্তি পেয়ে গুলশানের বাসা ফিরোজায় ফেরেন খালেদা।

তৎকালীন বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে তার চিকিৎসায় ‘ইচ্ছাকৃত অবহেলার’ অভিযোগ করছেন এফএম সিদ্দিকী।

লিভার রোগে আক্রান্ত খালেদা দেওয়া ‘ওষুধ প্রয়োগে অবহেলা’, প্রয়োজনীয় ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করা’ এবং ডায়াবেটিস ও আর্থরাইটিস চিকিৎসায় ‘অবহেলার সুস্পষ্ট প্রমাণ’ থাকার কথা বলছেন তার চিকিৎসক দলের এই সদস্য।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিভিন্ন পরিক্রমা তুলে ধরে এফএম সিদ্দিকী বলেন, ১২ বছর ধরে তিনি খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় ভূমিকা রাখলেও একটি টিম নিয়ে তার সার্বিক চিকিৎসার দায়িত্ব নেন, ২০২১ সালের এপ্রিলে। যখন কোভিড সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন বিএনপির তৎকালীন চেয়ারপারসন।

“পরীক্ষা-নিরীক্ষার অত্যন্ত বিস্ময়ের সঙ্গে দেখতে পাই যে, ম্যাডাম লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে সরকার নির্ধারিত চিকিৎসক দল উনাকে মেথোট্রেক্সেট নামক একটি ট্যাবলেট খাওয়াচ্ছিলেন। যেটা নির্দেশ দেওয়া ছিল নিয়মিত খাওয়ার জন্য।

“অর্থাৎ, উনি ওই মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে সরকার নির্ধারিত চিকিৎসকদের অধীনে যতদিন ছিলেন, তারা ওই ট্যাবলেটটি উনাকে খাইয়ে গিয়েছেন।”

রিউমাটেড আর্থরাইটিসে আক্রান্ত রোগীকে এ ধরনের ওষুধ দেওয়ার ক্ষেত্রে লিভার ঠিকমত কাজ করছে কি-না, সেই পরীক্ষার দরকার হলেও তা না করার কথা তুলে ধরেন এই মেডিসিন ও বক্ষব্যাধী বিশেষজ্ঞ।

তিনি বলেন, “রিউমাটয়েড আর্থরাইটিসে যারা আক্রান্ত থাকেন, তাদেরকে মেথোট্রেক্সেট এই ওষুধটা দিতে হয়। অর্থাৎ এটা হচ্ছে, একটা চিকিৎসার অংশ যেটা উনি পাবেন।

“কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, যারা ওই ওষুধটা খাবেন, তাদের লিভার নিয়মিত টেস্ট করে দেখতে হবে, ওই ওষুধটা লিভারের কোনো ক্ষতি করছে কি-না। যেমন, রিউমাটয়েড আর্থরাইটিসের রোগী ব্যথার ওষুধ খেলে, নিয়মিত কিডনি টেস্ট করে দেখতে হয় যে, ব্যাথার ওষুধটি কিডনির কোনো ক্ষতি করছে কি-না।”

ওই ওষুধ দেওয়ার পরও লিভার ঠিকমত কাজ করার পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করার অভিযোগ করে এফএম সিদ্দিকী বলেন, “উনি যতদিন ইউনিভার্সিটি মেডিকেলে চিকিৎসাধীন ছিলেন, আপনারা শুনে অবাক হবেন, উনার লিভার ফাংশন টেস্ট, আমাদের কাছে তথ্য আছে, অব্যাহতভাবে খারাপ দেখাচ্ছিল, এটা দেখাচ্ছিল তার লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিন্তু একটা আল্ট্রাসনোগ্রাফি পর্যন্ত ম্যাডামের করা হয় নাই।

“আপনারা বিশ্বাস করতে পারেন, খালেদা জিয়ার মত একজন ব্যক্তি, যিনি তথাকথিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অধীনে ছিলেন, অথচ দেড় বছরে তার আল্ট্রাসনোগ্রাফি পর্যন্ত করা হয় নাই!”

সেখানে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করার ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার দিকে আপত্তি আসতে পারার বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, উনারা বলবেন, ম্যাডাম উনার আল্ট্রাসনোগ্রাফি করতে ওখানে রাজি হচ্ছিলেন না।

“আপনাদের সবার তথ্যের জন্য বলতে চাই, আমাদের অধীনেও যখন ভর্তি ছিলেন, আমরাও বারবার অনেক ইনভেস্টিগেশন করাতে চেয়েছি, উনি রাজি ছিলেন না। কিন্তু আমরা কাউন্সেলিং করে, গুরুত্ব বুঝিয়ে তারপর ম্যাডামকে সেই ইনভেস্টিগেশনের জন্য রাজি করিয়েছি।”

তার চিকিৎসার ধারাবাহিকতা তুলে ধরে এফএম সিদ্দিকী বলেন, “ওই সময় লিভার ফাংশনটা খারাপ দেখার পরে উনি বারবার চেয়েছেন, উনার পছন্দের চিকিৎসকদের দিয়ে উনার চিকিৎসা করানো হোক।

“একজন আইনজীবী কোর্টে গিয়েছিল, কোর্ট জানতে চেয়েছিল। আপনারা সেই ডকুমেন্ট দেখলে বুঝতে পারবেন বিস্ময়ে, সেই ডকুমেন্টে তৎকালীন বঙ্গবন্ধু মেডিকেল ইউনিভার্সিটির চিকিৎসকরা কোর্টকে যে তথ্য দিয়েছিল, সেখানে লিভারের রোগের কোনো উল্লেখই ছিল না। অর্থাৎ, হয়ত তারা জানত না, অথবা সত্যটা তারা লুকিয়েছেন যে, ম্যাডাম লিভারের রোগী।”

চিকিৎসার এই ধারাবাহিকতা তুলে তিনি বলেন, “অনেকে প্রশ্ন করেন, ম্যাডামকে কি স্লো পয়জনিং করা হয়েছিল? একজন বিশেষজ্ঞ এবং তার প্রধান চিকিৎসক হিসাবে আমার উত্তর হচ্ছে, মেথোট্রেক্সেট ছিল সেই ওষুধ, যেটা তার ফ্যাটি লিভারকে লিভার সিরোসিসে ত্বরান্বিত করেছে। ওই প্রেক্ষাপটে এই ওষুধ স্লো পয়জন হিসাবে কাজ করেছে।”

এফএম সিদ্দিকী বলেন, “আজকে দেশের মানুষের বুকের ভেতরে একটা আফসোস, সারাজীবন গণতন্ত্রের জন্য, মানুষের জন্য, ভোটাধিকারের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করা মানুষটি যদি আর কিছুদিন বেঁচে থাকতেন, যদি দেখতে পেতেন মানুষ নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছে, তাহলে কতই না ভালো লাগত আমাদের জীবনে।

“ম্যাডাম খালেদা জিয়ার এ ধরনের অবহেলা… লিভার ফাংশন দ্রুত অবনতি ঘটিয়ে উনাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছিল। এটা ইচ্ছাকৃত অবেহলা। এটা অমার্জনীয় অপরাধ। এটা উনাকে হত্যার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ছিল কি-না, এটা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status