|
‘গণজমায়েতের’ ঘোষণা দিয়ে সড়ক ছাড়লেন সাত কলেজ শিক্ষার্থীরা
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() ‘গণজমায়েতের’ ঘোষণা দিয়ে সড়ক ছাড়লেন সাত কলেজ শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১টা থেকে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় অবরোধ করে রাখেন। পাঁচ ঘণ্টা পর সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় তারা তৃতীয় দিনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে সড়ক ছাড়েন। এরপর ধীরে ধীরে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। সাত কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর আন্দোলনে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও ঢাকা কলেজের ছাত্র মো. নাঈম হাওলাদার সন্ধ্যায় ব্রিফিংয়ে বলেন, “সোমবার আমরা সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে গণজমায়েত করব। আর অধ্যাদেশ মঞ্চ এখানে স্থাপন করা হবে। “রাষ্ট্রের সকল জাতীয় নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ‘অধ্যাদেশ মঞ্চ’ স্থাপন করা হবে এবং গণজমায়েতের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের পরবর্তী কী কর্মসূচি, কোন পথে যাবে, সেটি আমরা এখান থেকে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেব।” বৃহস্পতিবার দুপুর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় অবরোধ করলে ওই এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গণপরিবহনের যাত্রীরা পড়েন ব্যাপক ভোগান্তিতে। সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় অবরোধের পরই রাজধানীর টেকনিক্যাল মোড়ও অবরোধ করেন সাত কলেজ শিক্ষার্থীরা। এতে নগরীতে সৃষ্ট দুর্ভোগের জন্য ‘দুঃখ প্রকাশ’ করেন আন্দোলনের প্রতিনিধি নাঈম হাওলাদার। তিনি বলেন, “আমরা বিগত ১৬ মাসে কখনোই জনদুর্ভোগ করতে চাইনি। কিন্তু রাষ্ট্রকে আমরা বারবার বলেছি, রাষ্ট্রের কাছে আমরা গিয়েছি, তাদেরকে আমাদের দাবিগুলো জানাচ্ছি বা জানিয়েছি। সবসময় রাষ্ট্র আমাদেরকে একটা আশ্বাসে আশ্বস্ত করে, বারবার আমাদেরকে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে। আমরা রাষ্ট্রের প্রতি সম্মান জানিয়ে বারবার ফিরে আসছি। “কিন্তু ফিরে আসতে আসতে আসলে আমাদের দেয়ালের পিঠ ঠেকে গেছে। আমরা পেছনে যেতে পারছি না। আজকে (বৃহস্পতিবার) কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর যারা যারা আমাদের কাছে এসে জানিয়েছে যে তাদের ইমারজেন্সি অথবা তাদের ব্যবসা বা যেকোনো কিছু…; আমাদের শিক্ষার্থী তাদেরকে সহায়তা করেছে।” বৃহস্পতিবার সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় অবরোধের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাস ভাঙচুর করা হয়, আহত হয়েছে দুই শিক্ষার্থী। এ নিয়ে নাঈম বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের সঙ্গে কথা বলছিলাম। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী ভাইয়েরা আমাদের শিক্ষার্থীদের উপর চড়াও হয়ে ধাক্কাধাক্কি শুরু করে দেয়।” এর আগে বুধবারও একই দাবিতে সায়েন্স ল্যাবরেটরি, টেকনিক্যাল মোড়, মহাখালী আমতলী এবং সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় অবরোধ করেন সাত কলেজ শিক্ষার্থীরা। তবে দাবির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সারা না আসায় দ্বিতীয় দিনের মত বৃহস্পতিবারও অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেন তারা। সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের একাংশ ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ জারির দাবিতে গত ৭ ও ৮ ডিসেম্বর শিক্ষা ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। শিক্ষার্থীরা বলছেন, তখন শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানুয়ারির প্রথম দিকে অধ্যাদেশ জারির কথা বলেছিল। আন্দোলনকারীরা সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৃহস্পতিবার সভায় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন-২০২৫ এর অনুমোদন দিয়ে একই দিনে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারির দাবি জানিয়েছেন। ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজকে নিয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের কথা বলেছে সরকার। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
