|
যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে কি বিচার সম্ভব মাদুরোর?
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে কি বিচার সম্ভব মাদুরোর? এরপরই প্রশ্ন উঠছে মাদুরোর আটক যদি অবৈধ হয়ে থাকে তবে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে তার বিচার সম্ভব কি-না। এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগে সাবেক কর্মকর্তা লিওন ফ্রেস্কো। তিনি জানান-যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে তার (মাদুরোর) বিচার সম্ভব। কারণ যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে ভেনিজুয়েলার বৈধভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসাবে স্বীকৃতি দেয় না। ফলে আন্তর্জাতিক আইনের সুরক্ষা তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। আল-জাজিরা। ফ্রেস্কোর ভাষ্য, মাদুরো আটক হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও যে মন্তব্য করেছেন, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের আইনি অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। তার কথায়, ‘আপনি যদি কোনো দেশের বৈধভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসাবে স্বীকৃত না হন, তাহলে আন্তর্জাতিক আইনের যেসব সুরক্ষা বা প্রতিরক্ষা থাকে, সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে প্রযোজ্য হয় না।’ এ কারণেই রুবিও বলেছেন, আগের ‘ট্রাম্প প্রশাসন’, বাইডেন প্রশাসন, বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন, ইউরোপের দেশগুলোসহ অন্যরা মাদুরোকে ভেনিজুয়েলার প্রকৃত ও বৈধভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ফ্রেস্কো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কৌঁসুলিরা আদালতে এসব যুক্তিই উপস্থাপন করবেন এবং সফল হবে। এরপর ফ্রেস্কো পানামার প্রেসিডেন্টের উদাহরণ টেনে বলেন, তিন দশকেরও বেশি আগে যুক্তরাষ্ট্র যাকে আটক করে বিচার করেছিল। সেই পানামার সামরিক নেতা ম্যানুয়েল নোরিয়েগা দাবি করেছিলেন, তাকে গ্রেফতার করা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। সে কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের তার মামলার ওপর এখতিয়ার নেই। দিনশেষে সে যুক্তি আদালতে টেকেনি। মাদুরোর ভবিষ্যৎ কী? এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগে সাবেক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল লিওন ফ্রেস্কো বলেন, মাদুরোকে ‘আদালতে হাজিরা দিতে হবে’। সম্ভবত সোমবার বা মঙ্গলবার। সেখানে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হবে। ফ্রেস্কো বলেন, ‘তাকে হয় দোষ স্বীকার করতে হবে, নয়তো নিজেকে নির্দোষ দাবি করতে হবে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ মানুষই নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন।’ এরপর তিনি জামিন চাইবেন। তবে ফ্রেস্কোর মতে, ‘সম্ভবত তাকে জামিন দেওয়া হবে না। কারণ তিনি একজন আন্তর্জাতিক নেতা এবং জামিনে মুক্তি পেলে পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি খুব বেশি।’ এরপর মাদুরোর সামনে ‘দ্রুত বিচার’-এর সুযোগ থাকবে। এই প্রক্রিয়ায় ৭০ দিনের মধ্যে বিচারকাজ শুরু করতে হয়। তিনি যদি সেই অধিকার পরিত্যাগ করেন, তাহলে ‘বিচার এক বা দুই বছর পর্যন্ত গড়াতে পারে। এ সময় অনেক এখতিয়ারসংক্রান্ত আইনি যুক্তি তোলা হবে।’ সাবেক এই কর্মকর্তা আরও বলেন, মাদুরোর মামলার সঙ্গে তিন দশকের বেশি আগে যুক্তরাষ্ট্রে পানামার সামরিক নেতা ম্যানুয়েল নোরিয়েগাকে আটক ও বিচারের কিছু মিল থাকতে পারে। নোরিয়েগাকে ২০১০ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে কারাবন্দি রাখা হয়। পরে তাকে পানামায় পাঠানো হলে ২০১৭ সালে কারাগারেই তার মৃত্যু হয়। ফ্রেস্কো বলেন, নোরিয়েগার আইনজীবীরাও আদালতের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু সে সময় তাদের যুক্তি আদালত প্রত্যাখ্যান করেছিল। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
