দীঘিনালায় বেকারত্ব ও সীমিত আয়ের চাপে যখন অনেক তরুণ হতাশায় নিমজ্জিত, তখন ব্যতিক্রমী এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উদ্যোক্তা নাজমুল হোসেন। চাকরির স্বল্প বেতনে সংসার চালাতে হিমশিম খেয়েও তিনি হার মানেননি। বাড়তি সময়কে কাজে লাগিয়ে গড়ে তুলেছেন সম্পূর্ণ কীটনাশক ও রাসায়নিকমুক্ত সবজি বাগান, যা আজ তার পরিবারের আয়ের অন্যতম উৎসে পরিণত হয়েছে।
তিন সন্তানের জনক নাজমুল হোসেন একসময় জীবিকার তাগিদে তামাক চাষে জড়ালেও এর ক্ষতিকর দিক উপলব্ধি করে সেখান থেকে সরে আসেন। এরপর বাড়ির আঙিনায় ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে শুরু করেন জৈব পদ্ধতিতে সবজি চাষ ও হাঁস-মুরগির খামার। চাকরির বেতনের সামান্য সঞ্চয় দিয়েই ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছেন নিজের এই উদ্যোগ।
তার বাগানে এখন মিলছে লাল শাক, পালং শাক, মূলা শাক, ধনিয়া পাতা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটো, বেগুন, কাঁচা মরিচ ও শসার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় দেশি সবজি। পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে তিনি চাষ করছেন বিদেশি সবজি স্কোয়াশ (চাউ চাউ) ও সাম্মাম (মাস্ক মেলন)। এসব সবজির উৎপাদন শুধু তার পরিবারের চাহিদা মেটাচ্ছে না, বরং স্থানীয় বাজারে বিষমুক্ত সবজির ঘাটতিও পূরণ করছে।
নাজমুল হোসেন বলেন, -আমি আমার বাগানে কোনো ধরনের রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহার করি না। নিজের তৈরি জৈব সার দিয়েই সবজি ফলাচ্ছি। চাকরির বেতন থেকে অল্প অল্প করে টাকা জমিয়ে এই কাজ শুরু করেছি। বড় পরিসরে করার সামর্থ্য নেই। সরকারিভাবে সহায়তা পেলে বিদেশি সবজি চাষের মাধ্যমে আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব।
বিশ্লেষকদের মতে, নাজমুল হোসেনের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে—সঠিক দিকনির্দেশনা ও সীমিত পুঁজি থাকলেও কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা হওয়া সম্ভব। সরকারি আর্থিক সহায়তা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে হাচিনসনপুরসহ দীঘিনালার বেকার যুবকদের কৃষি খাতে সম্পৃক্ত করে বেকারত্ব কমানো সম্ভব হবে। এতে একদিকে যেমন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
নাজমুল হোসেন আজ শুধু একজন সবজি চাষি নন—তিনি বেকারত্বের বিরুদ্ধে সংগ্রামে আশার প্রতীক।