|
নিরাপত্তার বাইরে মানবিক উন্নয়ন, পানছড়িতে সেনাবাহিনীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
মোঃ মোবারক হোসেন, খাগড়াছড়ি
|
![]() নিরাপত্তার বাইরে মানবিক উন্নয়ন, পানছড়িতে সেনাবাহিনীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে পানছড়ি উপজেলার লোগাং বাজার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে একদিকে শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়, অন্যদিকে সরাসরি মানুষের জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয় প্রায় পাঁচ শত সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি বিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন এবং আশা প্রকাশ করেন—এই উদ্যোগগুলো এ অঞ্চলের শিক্ষার মানোন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নোমান হোসেন এবং পানছড়ি সাবজোন অধিনায়ক মেজর মো. জায়দ-উর-রহমান অয়ন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে—পাহাড়ে উন্নয়ন কার্যক্রমকে টেকসই করতে হলে স্থানীয় জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং আস্থার জায়গা সুদৃঢ় করা অপরিহার্য। কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল সেনাবাহিনীর ২০৩ পদাতিক ব্রিগেড ও খাগড়াছড়ি রিজিয়নের সদর জোনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বৃহৎ মেডিকেল ক্যাম্প। এতে লোগাং ও আশপাশের এলাকার পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর কয়েক শতাধিক মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধসেবা গ্রহণ করেন। পাশাপাশি গুরুতর অসুস্থ ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল রোগীদের জন্য নগদ চিকিৎসা সহায়তাও প্রদান করা হয়। মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী সাবেক পানছড়ি চেয়ারম্যান অনিল চন্দ্র চাকমার উন্নত চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করে তাঁর জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং চেঙ্গী ইউনিয়নের বুদ্ধরাম পাড়ার বাসিন্দা অনুপম চাকমাকে ২০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করে। শীত মৌসুমে দরিদ্র পরিবারগুলোর দুর্ভোগ লাঘবে বিতরণ করা হয় ১১০টি কম্বল। একই দিনে পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ, নারী উদ্যোক্তাদের স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিন প্রদান এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সহায়ক উপকরণ বিতরণ করা হয়—যা সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আত্মনির্ভরতার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের সদস্য প্রফেসর আব্দুল লতিফ, নিটল মনি চাকমা, জয়া ত্রিপুরা, মাহবুব আলম, অনিময় চাকমাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পুরো আয়োজন জুড়ে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করে খাগড়াছড়ি জোন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সেনাবাহিনী ও জেলা পরিষদের এই সমন্বিত উদ্যোগ পাহাড়ি জনপদের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বাস্তব পরিবর্তন আনছে। নিরাপত্তার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে রাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা তাদের মধ্যে আস্থা ও আশার নতুন আলো জ্বালিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পানছড়ির এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, শান্তি-সম্প্রীতি ও উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক। পার্বত্য চট্টগ্রামে টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে হলে এমন সমন্বিত ও মানুষকেন্দ্রিক উদ্যোগই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর মডেল। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
