|
‘ভাত দে, কাপড় দে’ ইটভাটা বন্ধে খাগড়াছড়িতে শ্রমজীবীদের আর্তনাদ
মোঃ মোবারক হোসেন, খাগড়াছড়ি
|
![]() ‘ভাত দে, কাপড় দে’ ইটভাটা বন্ধে খাগড়াছড়িতে শ্রমজীবীদের আর্তনাদ রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে ইটভাটা মালিক ও শ্রমিকরা। “ভাত দে, কাপড় দে—নইলে মোদের বিষ দে” এই স্লোগানে মিছিলটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে সড়ক অবরোধে রূপ নেয়।ম দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চলা অবরোধে খাগড়াছড়ি–রাঙামাটি সড়কে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এতে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন আটকে পড়ে, সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগ। ‘পরিবেশ মানতে প্রস্তুত, তবু বন্ধ’—মালিকদের অভিযোগ বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে খাগড়াছড়ি ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ বলেন, “আমরা আদালত ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সব নির্দেশনা মেনে চলতে প্রস্তুত। আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইটভাটা পরিচালনার আগ্রহ আমাদের আছে। কিন্তু কোনো বিকল্প ব্যবস্থা বা সময় না দিয়ে একযোগে সব ভাটা বন্ধ করে দেওয়ায় কয়েক হাজার শ্রমিক আজ বেকার হয়ে পড়েছে।” তিনি আরও বলেন, পাহাড়ি জেলায় সড়ক নির্মাণ, উন্নয়ন প্রকল্প ও আবাসন কার্যক্রমে ইটের কার্যকর বিকল্প সহজলভ্য নয়। ফলে ইটভাটা বন্ধ থাকলে জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। শ্রমিকদের মানবেতর জীবন বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা জানান, ইটভাটা বন্ধ থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অনেক শ্রমিক বলেন, “আমরা দিন আনি দিন খাই। কোনো পুনর্বাসন বা বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে ভাটা বন্ধ করা আমাদের জন্য অমানবিক সিদ্ধান্ত।” কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন— খাগড়াছড়ি ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি হাফেজ আহমেদ ভূঁইয়া, ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি মাহবুব আলম সবুজ ও সদস্য সচিব সমর বিকাশ চাকমা, উপজাতি ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি রিপ রিপ চাকমা, রাজমিস্ত্রি কল্যাণ সমবায় সমিতির সভাপতি মো. রাজ্জাক, ট্রাক্টর চালক কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. ইব্রাহিমসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। স্মারকলিপি প্রদান বিক্ষোভ শেষে ইটভাটা মালিক ও শ্রমিকদের পক্ষ থেকে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে সীমিত পরিসরে ইটভাটা চালুর অনুমতি এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান রক্ষার দাবি জানানো হয়। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। মালিক ও শ্রমিকদের দাবিগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে।” পরিবেশ সুরক্ষা ও জীবিকার ভারসাম্য রক্ষা না হলে খাগড়াছড়িতে একদিকে উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হবে, অন্যদিকে বাড়বে কর্মহীন মানুষের দীর্ঘশ্বাস। ইটভাটা সংকট এখন আর শুধু পরিবেশগত ইস্যু নয়—এটি রূপ নিচ্ছে একটি বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
