|
প্রথম দিনে তিন জাহাজে সেন্টমার্টিন গেল ১২’শ পর্যটক
রফিক মাহমুদ, উখিয়া
|
![]() প্রথম দিনে তিন জাহাজে সেন্টমার্টিন গেল ১২’শ পর্যটক সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকালে চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়াস্থ বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে কক্সবাজার–সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল শুরু হয়। যাত্রা শুরুর আগ মুহূর্তে ট্রাভেল পাস ছাড়া তিনজন পর্যটকের কাছে ১ হাজার ৮০০ টাকা করে টিকিট বিক্রির প্রমাণ মেলায় কেয়ারি সিন্দাবাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযানে নেতৃত্বদানকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নীলুফা ইয়াসমিন চৌধুরী বলেন, “নির্দেশনা অনুযায়ী কিউআর কোডবিহীন টিকিট বিক্রি করা যাবে না। এ ধরনের অনিয়ম পাওয়ায় জাহাজ কর্তৃপক্ষকে জরিমানা করা হয়েছে এবং মুচলেকা নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে একই অনিয়ম ধরা পড়লে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি জানান, কক্সবাজারের স্থায়ী বাসিন্দারা জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে টিকিট কিনে ভ্রমণে যেতে পারবেন; তবে অন্যান্য পর্যটককে সরকার অনুমোদিত ট্রাভেল পাস সংগ্রহ করতে হবে। এদিকে মৌসুমের প্রথম দিনে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে তিনটি জাহাজ—এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমভি বার আউলিয়া ও কেয়ারি সিন্দাবাদ—সকাল সাড়ে ৭টায় যাত্রা শুরু করে। প্রথমদিন মোট ১ হাজার ১৭৪ জন (প্রায় ১২’শ) পর্যটক দ্বীপের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা যাত্রীরা ঘাটে ভিড় জমান। টিকিট যাচাই শেষে প্রতিটি যাত্রীর হাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবেশবান্ধব পানির বোতল তুলে দেওয়া হয়। ঢাকা থেকে আসা পর্যটক অরূপ হোসেন বলেন, “প্রথমবার সেন্টমার্টিন যাচ্ছি। প্রশাসনের ব্যবস্থাপনা ভালো লেগেছে।” চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক রোকসানা আলী বলেন, “টেকনাফ থেকে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় এখন পথটা লম্বা, একটু কষ্টকর হলেও দ্বীপে গিয়ে সেই কষ্ট পুষিয়ে যাবে।” জাহাজ মালিকদের সংগঠন ‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, “প্রশাসন ৬টি জাহাজকে অনুমতি দিয়েছে। যাত্রীর আনুপাতিক সংখ্যার ভিত্তিতে প্রথম দিনে তিনটি জাহাজ চলাচল করছে।” প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক অনুমতিপ্রাপ্ত জাহাজে করে সেন্টমার্টিনে যেতে পারবেন। আজ থেকে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত পর্যটকদের রাত্রিযাপনের সুযোগ রয়েছে। সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে পলিথিন ব্যাগ, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক, কেয়াবনে প্রবেশ, প্রবাল–রাজকাঁকড়া–কাছিম ক্ষতি, উচ্চ শব্দে অনুষ্ঠান এবং মোটরযান চলাচল। পানি বহনে বিশেষ পরিবেশবান্ধব ফ্ল্যাক্স সরবরাহ করছে পরিবেশ অধিদপ্তর। ঘাট ও সমুদ্রপথে নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা নিয়োজিত রয়েছেন। কক্সবাজার রিজিয়নের প্রধান ও অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, “পর্যটকরা যাতে নির্বিঘ্নে যাত্রা উপভোগ করতে পারেন সে লক্ষ্যে সার্বক্ষণিক তৎপরতা অব্যাহত আছে।” প্রথম যাত্রা পরিদর্শনকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, “সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন কঠোরভাবে কাজ করছে। পর্যটক ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।” গত ১ নভেম্বর সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও রাত্রিযাপনে নিষেধাজ্ঞার কারণে আগ্রহ কম ছিল। আজ থেকে দুই মাস রাত্রিযাপনের সুযোগ মিলায় জাহাজ চলাচল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
