ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
বাংলাদেশে অল্প সময়ের মধ্যে চার ভূমিকম্প কী ইঙ্গিত দিচ্ছে
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Monday, 24 November, 2025, 12:44 PM

বাংলাদেশে অল্প সময়ের মধ্যে চার ভূমিকম্প কী ইঙ্গিত দিচ্ছে

বাংলাদেশে অল্প সময়ের মধ্যে চার ভূমিকম্প কী ইঙ্গিত দিচ্ছে

বাংলাদেশের নরসিংদী জেলায় উৎপত্তি হওয়া ভূমিকম্পে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় তীব্র ঝাঁকুনি অনুভূত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আরও তিনবার ভূকম্পন ধরা পড়েছে। মোট চারটি ভূমিকম্পের মধ্যে তিনটির উৎপত্তিস্থল হলো ঢাকার কাছে নরসিংদীর দুটি উপজেলা এবং একটির উৎপত্তিস্থল ঢাকার বাড্ডা এলাকা।

শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই ভূকম্পনের কারণ এবং অল্প সময়ের মধ্যে একের পর এক ভূকম্পন কী ইঙ্গিত দিচ্ছে তা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। জনমনে উদ্বেগের সৃষ্টি হলেও ভূতত্ত্ববিদরা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।

কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, মাধবদী এলাকার ভূমিকম্পের উৎসে এমন শক্তি জমা আছে যা একদিন বড় ধরনের ভূমিকম্পের সৃষ্টি করতে পারে।

অন্যরা বলছেন, আগের এবং পরের ভূকম্পনের মাত্রা ক্রমশ কমে আসায় আপাতত একই উৎস থেকে বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা কম। নরসিংদীর ভূমিকম্পের কারণ হিসেবে ভারতের প্লেট ও বার্মিজ প্লেটের অবস্থান পরিবর্তনকে দায়ী করা হলেও এ নিয়ে মতামত ভিন্ন।

আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে নরসিংদীর মাধবদী উপজেলায় প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। প্রথমে এর মাত্রা ৫.৭ উল্লেখ করা হলেও পরে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক সংস্থা ইউএসজিএসকে উদ্ধৃত করে ৫.৫ রিখটার স্কেলে জানানো হয়। পরবর্তী দিনগুলোতে পলাশ ও বাড্ডা এলাকায় আরও তিনটি কম্পন অনুভূত হয়, যার মাত্রা ছিল ৩.৩ থেকে ৪.৩ রিখটার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের অবস্থানকেই মনে হয় ভূমিকম্পের জন্য দায়ী। পশ্চিমে ইন্ডিয়ান প্লেট, পূর্বে বার্মা প্লেট এবং উত্তরে ইউরেশিয়ান প্লেটের সংযোগস্থল এলাকায় মাধবদীর ভূমিকম্প হয়েছে। সাবডাকশান জোন তৈরি হওয়ায় মধ্যম মাত্রার ভূকম্পন স্বাভাবিক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার জানিয়েছেন, ইন্ডিয়ান প্লেটের সামান্য অগ্রগতির কারণে মাধবদীর কম্পন হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিতে পারে।

তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আফটারশক স্বাভাবিক এবং মাধবদীর ভূমিকম্পের পর যে তিনটি কম্পন হয়েছে, তার শক্তি আগের কম্পনের তুলনায় কম, তাই আপাতত বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা কম।

অন্যদিকে ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ডঃ সোহেল রানা লিখেছেন, বাংলাদেশের টেকটনিক বিন্যাস জটিল এবং মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প চলতে থাকবে। বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকিও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. বদরুদ্দোজা মিয়া ও অধ্যাপক সাখাওয়াত হোসেন দুজনই মনে করেন, সাবডাকশান জোনে ৪ থেকে ৬ মাত্রার কম্পন হওয়া স্বাভাবিক এবং ভবিষ্যতে ৫-৬ মাত্রার ভূমিকম্প গ্রহণযোগ্য ভবনগুলো ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা সবশেষে বলেন, ভূমিকম্প নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই, বরং সচেতন থাকা জরুরি। যেসব ভবন ভূমিকম্পের জন্য অপ্রস্তুত, সেগুলোতে সতর্কতার ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। মাধবদী ভূমিকম্পের পরপরই কম্পনের এই ধারা থেকে বাংলাদেশের ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের মানুষকে সচেতন থাকার বার্তা পাওয়া যাচ্ছে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status