|
রাত দুইটা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও আটা মেলে না শতাধিকের
মোঃ মাহবুবুল হাসান, চিলমারী
|
![]() রাত দুইটা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও আটা মেলে না শতাধিকের রাতভর ঠান্ডা, অন্ধকার আর মশার কামড় সহ্য করেও নারী-পুরুষ অপেক্ষা করে থাকেন। প্রতিদিন মাত্র ১০০ জনকে পাঁচ কেজি করে আটা দেওয়া হয়। ফলে যারা আগে আসতে পারেন না, তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও খালি হাতে ফিরতে বাধ্য হন। এমন চিত্র দেখা গেছে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে। রাত নামলেই লাইনে আসেন নারী-পুরুষ। অনেকে কোনোভাবে আটা পেলেও শতাধিক মানুষ খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে প্রতিদিন। খাদ্য বিভাগের তথ্যমতে, চিলমারী উপজেলায় তিনজন ওএমএস ডিলারের মাধ্যমে প্রতিদিন এক টন আটা বিক্রি করা হচ্ছে প্রতি কেজি ২৪ টাকা দরে। বাইরে বাজারে একই আটা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে। এ কারণে নিম্নবিত্ত ও হতদরিদ্র পরিবারগুলো কম দামে আটা নিতে রাতেই সিরিয়াল ধরেন। সুবিধাভোগীরা জানান, সকাল ৯টায় পাঁচ কেজি করে আটা দেওয়া হয় বলে রাতেই আসতে হয়। না হলে সিরিয়াল পাওয়া যায় না। রাতে আসতে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। রাস্তায় কুকুরের আক্রমণ বা নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকলেও বাধ্য হয়েই আসতে হয়। বাজার থেকে আটা কিনতে গেলে ৫০ টাকা কেজিতে নিতে হয়, আর এখানে অর্ধেক দামে পাওয়া যায় বলে এই কষ্ট স্বীকার করতে হয়। থানাহাট ইউনিয়নের ডেমনাপাড়ার তোহেরা বেগম বলেন, আটা নেওয়ার জন্য রাতে আসতে হয়, কোনোদিন পাওয়া যায় আবার কোনোদিন খালি হাতে ফিরতে হয়। আমেনা বেগম বলেন, এত রাতে এসে খালি হাতে ফিরলে স্বামী রাগ করেন। কখনও স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এসেও লাইনে দাঁড়াতে হয়। রাতে রাস্তায় কী ঘটে বলা যায় না, তবু আসতে হয় উপায় না থাকায়। ওএমএস ডিলার আমির হোসেন বলেন, অনেক রাতে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও সবাইকে আটা দেওয়া সম্ভব হয় না। বরাদ্দ সীমিত হওয়ায় শতাধিক মানুষকে ফিরতে হয়। তিনি বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান, যাতে কেউ খালি হাতে না ফেরে। সমাজকর্মী সাওরাত হোসেন সোহেল বলেন, মানুষ রাতভর অপেক্ষা করছে সামান্য আটা পাওয়ার আশায়, এটি শুধু অর্থনৈতিক কষ্ট নয়, মানবিক মর্যাদারও প্রশ্ন। সরকারের পক্ষে চাইলে প্রক্রিয়া আরও সহজ করা সম্ভব। চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক জানান, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। সুবিধাভোগীদের দাবি, বরাদ্দ বাড়ালে রাতভর অপেক্ষা করতে হবে না, কষ্টও কমে যাবে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
