|
আহতরা হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন, আসামিরা জামিনের বাইরে
রাজশাহীতে হিমাগারে তিনজনকে নির্যাতন
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() আহতরা হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন, আসামিরা জামিনের বাইরে গত মঙ্গলবার সকালে সরকার কোল্ড স্টোরেজে ডেকে নিয়ে মেডিকেল শিক্ষার্থী (২৭), নারী (৩০) ও শিশুকে (১৩) নির্যাতন করা হয়। হিমাগারটির মালিক মোহাম্মদ আলী সরকার। তিনি জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা। তাঁর সঙ্গে ওই নারীর সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ আনেন মোহাম্মদ আলীর ছেলে-মেয়েরা। মারধরে আহত ওই নারীর বাঁ কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। সিটি স্ক্যান করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। তাঁকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। আহত শিশুটি ৫০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি। তাঁর শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা। আর মেডিক্যাল শিক্ষার্থীকে ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, লাঠি, বাঁশ ও হাতুড়ি দিয়ে তাদের পেটানো হয়। পরবর্তী সময়ে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে সেফটি পিন ফুটিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা হিমাগারটি ঘিরে বিক্ষোভ করেন। পুলিশ তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় পুলিশ হিমাগারে অবরুদ্ধ থাকা মোহাম্মদ আলী সরকারের ছেলে আহসান উদ্দিন সরকার জিকো (৪৫), মেয়ে আঁখি (৩৫) ও হাবিবাকে (৪০) গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। বুধবার তাদের আদালতে তোলা হয়। আইনজীবী জামিনের আবেদন করলে বিচারক মঞ্জুর করেন। নগর পুলিশের আদালত পরিদর্শক আবদুর রফিক জানান, আসামিদের রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-৪ মো. মনিরুজ্জামানের আদালতে তোলা হয়েছিল। আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাদের জামিন দিয়েছেন। আদালত থেকে তারা চলে গেছেন। মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীর (এফআইআর) ধারা ও অপরাধের বিবরণের কলামে লেখা আছে, ‘ধারা-৩৪২/৩২৩/৩২৫ পেনাল কোড ১৮৬০, অবৈধ আটক করে ভোতা অস্ত্র দিয়ে মারধর করে সাধারণ ও গুরুতর জখম করার অপরাধ।’ এ বিষয়ে রাজশাহীর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী পারভেজ তৌফিক জাহেদী বলেন, ‘পেনাল কোডের ৩৪২ ও ৩২৩ ধারা জামিনযোগ্য। তবে ৩২৫ ধারা জামিনযোগ্য নয়। এফআইআরে ৩২৫ ধারা থাকলেও এজাহারে ফাঁক ছিল। এ কারণে আসামিরা জামিন পেয়েছেন। সেফটি পিন ভোতা হয় না। এটি তীক্ষ্ণ অস্ত্র। পুলিশ ৩২৬ ধারা দিতে পারত।’ মামলার বাদীর অভিযোগ, এয়ারপোর্ট থানার ওসি ফারুক হোসেন ইচ্ছে করে এফআইআরে দুর্বল ধারা বসিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, মামলা না করে সমঝোতা করার জন্য পুলিশ একটি পক্ষকে দিয়ে তাদের কাছে প্রস্তাব দিয়েছিল। তিনি আপস করেননি। বাদী বলেন, ‘তিন আসামি যখন অবরুদ্ধ, তখন ওসি গেলেও তাদের থানায় নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। কোনো অভিযোগ ছাড়া থানায় নেবেন না বলে জানিয়ে দেন। তাই ওসি কোল্ড স্টোরেজেই থাকেন, আমি থানায় অভিযোগ দিতে যাই। একজন কনস্টেবল প্রথমে ওসির সঙ্গে কথা বলেন এবং তারপর একটি অভিযোগ লেখেন। সেই অভিযোগ কোল্ড স্টোরেজে নিয়ে গিয়ে ওসিকে দিলে তাদের থানায় নেওয়া হয়।’ বাদী আরও বলেন, ‘কথা ছিল এটা প্রাথমিক অভিযোগ, মামলা রেকর্ডের সময় ওসি আবার ডাকবেন এবং ঠিকমতো বর্ণনা লিখে মামলা রেকর্ড করা হবে। কিন্তু পরে তিনি আমাকে ডাকেননি। আমি ফোন করলেও ধরেননি। আগের খসড়া অভিযোগটা এজাহার করে দিয়েছেন। ওসি ইচ্ছেমতো দুর্বল ধারা বসিয়েছেন।’ তবে এয়ারপোর্ট থানার ওসি ফারুক হোসেন বলেন, ‘দুর্বল ধারা দিয়ে মামলা রেকর্ড করার অভিযোগ ঠিক না। অপরাধ অনুযায়ী যেসব ধারা কাভার করে, সেগুলো দেওয়া হয়েছে।’ এদিকে মামলার বাদী গতকাল রাতে বলেন, আসামিরা বিদেশে থাকেন। তারা যেন দেশত্যাগ করতে না পারেন, সেজন্য আদালতে আবেদন করব।’ এ বিষয়ে মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আলী আশরাফ মাসুম বলেন, ‘বাদীপক্ষ আবেদন করলে আদালত দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারেন।’ |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
