|
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদিতে জমে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী ঢাক-ঢোলের হাট
এম এ আজিজ, কিশোরগঞ্জ
|
![]() কিশোরগঞ্জের কটিয়াদিতে জমে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী ঢাক-ঢোলের হাট নাম ঢাকের হাট হলেও, এখানে কোনো বাদ্যযন্ত্র বেচাকেনা হয়না। বাদ্যযন্ত্রসহ বাদকরা এই হাটে পূজা আয়োজকদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। শুধু ঢাক বা ঢোল নয়, বাঁশি, সানাই, করতাল, খঞ্জনি, মন্দিরা, কাঁশি,ঝনঝনিসহ বিভিন্ন ধরণের বাদ্যযন্ত্র নিয়ে হাজির হন বাদক দল। তারাই বাদ্যের তালে তালে মাতিয়ে রাখেন পুজামÐপগুলো। কোন দলের চুক্তিমূল্য কত হবে, তা নির্ধারণ হয় ঢাকিদের দক্ষতার ওপর। হাটেই দক্ষতা যাচাই করে দলগুলোর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয় পূজা আয়োজকরা।দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাদ্যযন্ত্র নিয়ে হাটে হাজির হয় অসংখ্য বাদকদল। সাধারণত পূজা আয়োজকদের সঙ্গে দলগতভাবে চুক্তি হয় তাদের। সর্বনিম্ন ১০হাজার থেকে লাখ টাকাও ছাড়িয়ে যায় তাদের চুক্তিমূল্য। নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলা থেকে আসা মিটু পাল জানান, প্রতি বছর দূর্গা পুজার সময় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদিতে আসে ঢাক নেবার জন্য । তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে এ হাট থেকে ঢাকী নিয়ে যান পুজা মন্ডবে ঢাক বাজানোর জন্য । এবার তিনি ৩৫ হাজার টাকায় বায়না করেছেন তিন জনের । ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উজেলার বাবু নিতাই রায় তিনিও কটিয়াদিতে ঢাকের হাটে এসেছেন ঢাক-ঢোল ভাড়া নেবার জন্য । তিনিও দুটি ঢাক, একটি বাঁশি ও কর্তালসহ মোট ৫জনকে ভাড়া করেছেন ৬০ হাজার টাকায় । তিনি সহ তাদের এলাকার অনেকে প্রতি বছরই এ হাট থেকে মন্ডবে ঢাক বাজানোর জন্য ঢাকী ভাড়া করেন । গতকাল শনিবার থেকে শুরু হওয়া এ ঢাকের হাট চলবে আজ ষষ্ঠীর সন্ধা পর্যন্ত। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নাম করা ঢাক বাদরা হাজির হয় কটিয়াদির পুরান বাজারে । হাটের দুই দিন কয়েকশ বাদকদলের বাজনায় কটিয়াদীর পুরান বাজারে তৈরি হয় উৎসবের আবহ। বাদ্য-বাজনার সুর উপভোগ করতে ভিড় করে দর্শনার্থীরা । কেউ কেউ ঘুরে ঘুরে বাদ্য বাজানো দেখেছে আবার কেউ কেউ ঢাকীদের দরদাম করছে । ![]() কিশোরগঞ্জের কটিয়াদিতে জমে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী ঢাক-ঢোলের হাট ঢাকের হাটে ঢাক-ঢোল নিয়ে আসা গাজীপুরের কানাই দত্ত জানান, ঢাকীদের আর আগের মতো কদর নেই । আধুনিক বাদ্যযন্ত্রের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে ঢাক-ঢোলের বাজনা । এ পেশাকে ঠিকিয়ে রাখতে হলে সরকারি ভাবে উদ্যোগ খুবই জরূরী । ঢাকের হাটের সমম্বয়ক শীতল চন্দ্র সাহা বলেন, ‘স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শ্রী মা সংঘ হাটের তত্ত্বাবধান করছে। ষোড়শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয় ঢাকের হাট।ষোড়শ শতাব্দির প্রথম ভাগে রাজা নবরঙ্গ রায়ের আমলে কটিয়াদীতে প্রথম ঢাকের হাটের সুচনা হয়। তিনি ওই সময় রাজপ্রাসাদে দুর্গাপূজার আয়োজন করতেন। একবার তিনি পূজার প্রয়োজনে সেরা ঢাকির সন্ধানে বিক্রমপুর পরগনায় বার্তা পাঠান। তখন নৌপথে বহু ঢাকি কটিয়াদী আসেন। রাজা নিজে বাজনা শুনে সেরা দলটি বেছে নেন। সেই থেকেই প্রচলন শুরু এ ঢাকের হাটের। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
