ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ১৯ জুন ২০২৬ ৪ আষাঢ় ১৪৩৩
প্রতিবছর ফলদ ও বনজ গাছের চারা বিক্রি কোটি কোটি টাকার: নার্সারিতে ভাগ্য বদল সাড়ে ৪ শত মালিকের
শেখ সেকেন্দার আলী,পাইকগাছা
প্রকাশ: Monday, 22 September, 2025, 5:09 PM

প্রতিবছর ফলদ ও বনজ গাছের চারা বিক্রি কোটি কোটি টাকার: নার্সারিতে ভাগ্য বদল সাড়ে ৪ শত মালিকের

প্রতিবছর ফলদ ও বনজ গাছের চারা বিক্রি কোটি কোটি টাকার: নার্সারিতে ভাগ্য বদল সাড়ে ৪ শত মালিকের

খুলনার পাইকগাছায় প্রতিবছর বিভিন্ন জাতের ফলদ ও বনজ চারার নার্সারি করে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন একটি ইউনিয়নের ছোট বড় প্রায় সাড়ে চার শতাধিক চাষিরা। গাছের চারা উৎপাদন করে উপজেলার রোল মডেল হিসেবে পরিচিত পেয়েছে উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়ন। প্রতিদিন দুর দুরান্ত থেকে বৃক্ষ প্রেমীদের আগমনে জমে উঠে ফলদ ও বনজ গাছের চারার বাজার।

প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার গাছের চারা কেনাবেচা হয়। উপকূলীয় অঞ্চলে গাছের চারার প্রসিদ্ধ হাটের মোকাম এটি। প্রতিদিন বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ-বনজ, ফুল ও ঔষধি গাছের চারা পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় হয় এখানে। ক্রেতা-বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের সমাগমে মুখর হয়ে উঠেছে নার্সারী চারার এ হাট। ভোরের হাট সকাল ১০টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। তবে স্থানীয় ক্রেতাদের জন্য বিকাল বেলাও আংশিক এলাকায় চারার হাট বসে। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বিশেষ করে কয়রা, আশাশুনি, তালা সহ দক্ষিণ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ী ও খুচরা ক্রেতারা ভোরবেলার হাট থেকে পছন্দমত বিভিন্ন প্রজাতির চারা ক্রয় করছেন।

এছাড়া গাছের চারা ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর, সিলেট, বরিশাল, কুমিল্লা, সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হচ্ছে। বছরের আড়াই শত কোটি টাকার বেশি বিক্রি হয়। বৃক্ষরোপনের উপযুক্ত সময় আষাঢ়-শ্রাবণ বর্ষাকাল হলেও এখনও প্রতিনিয়ত বৃষ্টি হচ্ছে। এমন উপযুক্ত পরিবেশে গাছের চারা রোপণ করতে আগ্রহী হয়ে উঠছে এ অঞ্চলের মানুষ। তারা ভিড় করছে উপজেলার গদাইপুরে। সেখানে সপ্তাহে শুক্র, সোম ও বুধবার এই তিন দিন হাট বসে। হাটে পাইকারী ও খুচরা বিভিন্ন মালামাল বিক্রয় হয়। বর্ষাকালে ভোরবেলা বাজারে চারার হাট দক্ষিণ অঞ্চলে ব্যবসায়ী ক্রেতাদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। 

ঐতিহ্যবাহী গদাইপুর নার্সারীর চারা এতটা সুখ্যাতি দেশব্যাপী বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। গদাইপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রায় সাাড়ে ৪ শত নার্সারী প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। উৎপাদিত বিভিন্ন চারা ও কলম নার্সারী মালিকরা ভোরবেলা গদাইপুর হাটে তুলছে। ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা খুব ভোরে এসে পছন্দমত চারা ক্রয় করে দক্ষিণ অঞ্চলের বিভিন্ন হাটে বিক্রয় করছে। হাটে আম, কাঁঠাল, জাম, জামরুল, লিচু, কদবেল, বিভিন্ন জাতের কুল, পেয়ারা, বাতাবি লেবু, মাল্টা, কমলা লেবু, দেশী বিদেশী নারিকেল চারা, সুপারী, মেহগনি, সিরিষ, লম্বু সহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশী বিদেশী ফুলের চারা হাটে ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। সর্ব নিম্ন ২০ টাকা থেকে ৬ শত টাকা দরে কলম বিক্রি হচ্ছে। মাল্টা ও কমলা লেবুর চারা ও বিদেশী নারিকেলের চারা দাম বেশী।

বিদেশী নারিকেলের চারা ৫শত টাকা, বড় মাল্টা ও কমলা লেবুর চারা প্রায় ৬শত টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া চারা বড় ও মানের উপরে বিভিন্ন দামে চারা বিক্রি হচ্ছে। বাজারে প্রচুর পরিমানে গাছের চারা উঠেছে। বাজার ঘুরে পছন্দমত চারা ক্রয় করা যাচ্ছে এবং বাজারের চারা দামও কম। কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশী গ্রামের ব্যবসায়ী সোহবান, রহিম, রহমত, আ. করিম সহ সাত-আটজন রাত দুইটায় রওনা দিয়ে সকালে গদাইপুর চারার হাটে পৌঁছায়। চারা কিনে তারা কাশীর হাটে বিক্র করবেন জানান। তাছড়া কুলিয়া, আাঠার মাইল, পাটকেলঘাটা সহ বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা কলমের চারা কিনতে বাজারে এসেছে। গদাইপুর গ্রামের চারা ব্যবসায়ী সুমন, মোবারক হোসেন ও মিজানুর রহমানরা জানান, এবছর প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে আর বৃষ্টি শুরু হওয়ায় চারার চাহিদা ও বিক্রি বেড়েছে। 

নার্সারী মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অশোক কুমার পাল জানান, গদাইপুর এলাকায় ছোট বড় প্রায় সাড়ে ৪শত নার্সারী রয়েছে। এ সকল নার্সারী থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় চারা সরবরাহ করা হয়। তবে গদাইপুর বাজারে ভোরবেলার হাটে প্রচুর পরিমাণ চারা উঠছে। ক্রেতারা তাদের পছন্দমত চারা ক্রয় করতে পারছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. একরামুল হোসেন জানান, পরিবেশ সু-রক্ষায় বৃক্ষের অবদান অপরিসীম। সারাদেশে সরকারি ভাবে প্রচুর পরিমাণে বৃক্ষরোপন করা হচ্ছে। পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পুরণে বাড়ির আঙ্গিনায় চার-পাঁচটি ফলদ বৃক্ষ রোপন করার জন্য কৃষকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। গদাইপুরে ভোরবেলা হাট থেকে ক্রেতারা চারা ক্রয় করে সূর্যের তাপ ছাড়াই সুস্থ্য ও সবল চারা গন্তব্যস্থানে নিয়ে যেতে পারে। এতে চারার মানও ভাল থাকে। বৃক্ষরোপনের প্রতি আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে, তবে ফলদ চারা রোপণে আগের তুলনায় সচেতন হয়েছে জনসাধারণ।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status