|
রুমায় পাইন্ন্যাগুলা চাষে সফল হোমপি খিয়াং
অংবাচিং মারমা, রুমা
|
![]() রুমায় পাইন্ন্যাগুলা চাষে সফল হোমপি খিয়াং ১৫ বছর ধরে পাইন্ন্যাগুলা চাষ করে সফল হোমপি খিয়াং পাইন্দু ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের খামতাম পাড়ার বাসিন্দা হোমপি খিয়াং গত ১৫ বছর ধরে পাইন্ন্যাগুলা চাষ করে নিজেকে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বলে জানান তিনি। “২০০৫ সালে আমি ৫ একর জমিতে ২০০টি পাইন্ন্যাগুলা চারা রোপণ করি। প্রায় ৬-৭ বছর পর গাছ থেকে প্রথম ভালো ফলন পাই। এরপর ধারাবাহিকভাবে ফলন বৃদ্ধি পেতে থাকে। বর্তমানে পাইন্ন্যাগুলা প্রতি কেজি ১৪০-১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এই বছর আমি প্রায় ৪ লাখ টাকার পাইন্ন্যাগুলা বিক্রি করেছি।” হোমপি খিয়াং আরও বলেন, তার সফলতা দেখে এলাকার অনেকেই এখন পাইন্ন্যাগুলা বাগান করার দিকে ঝুঁকছেন। পরিবারের স্বপ্নপূরণে পাহাড়ি ফলই ভরসা হোমপি খিয়াং-এর স্ত্রী সারা খিয়াং বলেন, “পাইন্ন্যাগুলা বিক্রি করে আমাদের এক ছেলে ও এক মেয়ের পড়ালেখার খরচ চলছে। এছাড়া কলা ও আম বাগান থেকেও কিছু আয় হয়। ফলন ও বাজার দর ভালো থাকায় মনু খিয়াং, পিটর খিয়াং, পাইশৈ খিয়াংসহ অনেকেই পাইন্ন্যাগুলা চাষ শুরু করছেন।” দিন দিন বাড়ছে পাইন্ন্যাগুলা বাগান রুমা উপজেলার খামতাং পাড়া, বগালেক পাড়া, পান্তলা পাড়া, বটতলী পাড়া, বাসত্লাং পাড়া, মুননোয়াম পাড়া, আরথা পাড়া, মুনলাই পাড়া এবং পলিকা পাড়া—এই সব এলাকায় গড়ে উঠছে অসংখ্য পাইন্ন্যাগুলা বাগান। পাহাড়ি মাটি, অনুকূল আবহাওয়া এবং কম পোকামাকড়ের আক্রমণের কারণে এই ফল চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। স্থানীয় জাতের পাইন্ন্যাগুলার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রুমা উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বর্তমানে উপজেলার প্রায় ১৫ থেকে ২০ হেক্টর জমিতে পাইন্ন্যাগুলা চাষ হচ্ছে। যদিও এখনো এই চাষের জন্য কোনো লিখিত নিবন্ধন চালু হয়নি, তবে মৌখিকভাবে চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ![]() রুমায় পাইন্ন্যাগুলা চাষে সফল হোমপি খিয়াং “আমরা পাইন্ন্যাগুলার রপ্তানিযোগ্য জাত উৎপাদনের জন্য প্রকল্প প্রস্তাবনা কৃষি অধিদপ্তরে পাঠিয়েছি। এছাড়া পাইন্ন্যাগুলার উন্নত জাত ‘বারি লুকলুকি-১’ নিয়েও গবেষণা চলছে।” তিনি আরও জানান, “চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হয়— কখন কোন সার দিতে হবে, কীভাবে রোগবালাই প্রতিরোধ করতে হবে, ফল কবে সংগ্রহ করতে হবে— সব বিষয়েই আমরা সহায়তা করি।” ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও চাষিদের প্রত্যাশা পাইন্ন্যাগুলা চাষে লাভজনক ফলন ও ভালো বাজার মূল্য পাওয়ায় রুমার কৃষকদের মধ্যে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে। কৃষকরা চান, সরকারি উদ্যোগে পাইন্ন্যাগুলা চাষের উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হোক। এতে করে পাহাড়ি এলাকার অর্থনীতিতে এই চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে রুমা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা এ.কে.এম. ফরিদুল হক-এর অফিসে উপস্থিত না থাকায় তার মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
