সারাদেশজুড়ে সংক্রামক ব্যাধি হাম ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ ও বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে এবং মৃত্যুর সংখ্যা ৪৫০-এর বেশি।
কক্সবাজার জেলাতেও এর প্রভাব স্পষ্টভাবে বাড়ছে। গত ৪০ দিনে জেলায় অন্তত ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
এরই মধ্যে ঈদগাঁও উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের মিয়াজীপাড়া এলাকায় ইয়াসিন নামের এক ব্যক্তির শিশু সন্তান হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে বলে স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ঈদগাঁও উপজেলাজুড়ে শিশুদের মধ্যে জ্বর, কাশি ও শরীরে র্যাশের উপসর্গ ব্যাপকভাবে দেখা দিচ্ছে। অনেক আক্রান্ত শিশুকে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পোকখালী এলাকার আব্দুর রহমানের সন্তানও হামে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে গত সপ্তাহে ঈদগাঁওর এক সাংবাদিক তার জ্বর-কাশিতে আক্রান্ত সন্তানকে কক্সবাজার হাসপাতালে ভর্তি করালে অতিরিক্ত ভিড় ও সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যে কিছুদিন পর শিশুটির শরীরে র্যাশ দেখা দেয়। পরবর্তীতে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন যে শিশুটি হামে আক্রান্ত। বর্তমানে শিশুটির চিকিৎসা চলছে।
চিকিৎসকদের মতে, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ, যা আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি, সংস্পর্শ এবং ভিড়পূর্ণ পরিবেশের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সবাইকে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা, আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা, ভিড় এড়িয়ে চলা, মাস্ক ব্যবহার করা এবং জ্বর বা র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ঈদগাঁওতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।