|
তাড়াশে রাস্তার দুই পাশের কাঁঠালের ঘ্রাণে থমকে দাঁড়ায় পথিক
সাব্বির মির্জা, তাড়াশ
|
![]() তাড়াশে রাস্তার দুই পাশের কাঁঠালের ঘ্রাণে থমকে দাঁড়ায় পথিক প্রবাদ আছে ‘গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল’- জ্যৈষ্ঠ মাসে এ কথাটি আর কথার কথা থাকে না। গাছে কাঁঠাল দেখলে এ কথা সবাই বলতেই পারে। বর্তমানে উপজেলার প্রতিটি এলাকার গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে রসালো ফল কাঁঠাল। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাড়ির পাশে, রাস্তার ধারে, জঙ্গলের ভেতরে থাকা গাছে ধরেছে প্রচুর পরিমানে কাঁঠাল। গাছের গোঁড়া থেকে আগা পর্যন্ত শোভা পাচ্ছে সর্বোচ্চ পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এই ফল। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, তাড়াশে বাণিজ্যিক ভিত্তিক কাঁঠাল বাগান নেই। বাড়ির আঙিনা,পতিত জমি ও রাস্তার দুই পাশের জমিতে কাঁঠাল গাছ রয়েছে। এসব গাছে প্রতিবছর প্রচুর কাঁঠাল উৎপাদন হয়। প্রতিটি গাছের গোঁড়া থেকে আগা পযর্ন্ত শোভা পাচ্ছে পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ জাতীয় ফল কাঁঠাল। উপজেলার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করেন গাছ মালিক ও ব্যবসায়ীরা। উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভা ৬৩ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৮শ ৯০ মেট্রিক টন কাঁঠাল উৎপন্ন হবে বলে কৃষি অফিস ধারণা করছে। উপজেলায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনায়, রাস্তার দু’পাশে, পতিত জমিতে প্রচুর কাঁঠাল গাছের দেখা মেলে। যা প্রত্যেক পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে থাকে। প্রতিটি গাছে ২০ থেকে ২৫, এবং তারও অধিক কাঁঠাল ধরেছে। এ যেন কাঁঠালের রাজত্ব। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার হাটবাজার গুলোতে পাকা প্রচুর কাঁঠাল উঠেছে। এখানকার অধিকাংশ কাঁঠাল গাছগুলো বাগান ভিত্তিক না হলেও বাড়ীর আঙিনায়,রাস্তার দু’ধারে, স্কুল, কলেজের চত্তরে প্রচুর কাঁঠাল গাছের দেখা মেলে। আর এসব গাছে ঝুলে থাকা কাঁঠলের দৃশ্য অনেকের নজর কাড়ে। তবে উপজেলার চরাঞ্চল কাঁঠালের জন্য প্রসিদ্ধ। ফলনও বেশী হয়। প্রতিটি বাড়ীর আঙিনায়,রাস্তার দু’ধারে দেখা যায় সারি সারি কাঁঠাল গাছ। স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন হাট-বাজারে, চাষীদের বাড়িতে পাইকারদের উপচেপড়া ভিড় থাকে। দূর-দূরান্ত থেকে পাইকাররা বিভিন্ন যানবাহনে করে কাঁঠাল দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায়। এখানে প্রতিটি বড় সাইজের কাঁঠাল বর্তমানে ১ শ, থেকে ১ শ,২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি সাইজের কাঁঠাল ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং ছোট কাঁঠাল ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতা বিক্রেতাদের কাছে মাঝারি সাইজের কাঁঠালের কদর রয়েছে সবচেয়ে বেশি। ভালো দাম পাওয়ায় খুশি কাঁঠাল মালিকরা। আষাঢ়-শ্রাবণ মাস কাঁঠাল পাকার উৎকৃষ্ট সময়। তবে জ্যৈষ্ঠ মাস থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ কাঁঠাল বাজারে বেচা-কেনা হচ্ছে। কাঁঠালের একটি বড়গুণ এর কোনো কিছু বাদ যায় না। কাঁঠালের কোষ, খোসা ও বিচি সব কিছুই প্রয়োজনীয়। বিচি উৎকৃষ্টমানের সবজি হিসাবে তরকারি রান্না করে খাওয়া হয়। কাঁঠালের খোসা গরু-ছাগলের প্রিয় খাদ্য। তাছাড়া কাঁঠালের পাতা ছাগল-ভেড়া- গরুর প্রিয় খাবার হিসেবে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কাঁঠাল উৎপাদনে কোনো খরচ না থাকায় চাষীরা লাভবান বেশি হয়। এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিসার শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা জানান, তাড়াশ সর্বত্রই কাঁঠাল গাছ চোখে পড়ে। তাড়াশের মাটি বিশেষ করে চরাঞ্চলের মাটি কাঁঠাল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এ বছর উপজেলায় কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
