|
ক্রিকেট খেলে কত আয় করেন তাসকিন, বাকিরা কত
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() ক্রিকেট খেলে কত আয় করেন তাসকিন, বাকিরা কত তাসকিনকেই উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক। ‘এ’ প্লাস শ্রেণির ক্রিকেটার হিসেবে মাসে ১০ লাখ করে এক বছরে তাসকিন বেতন পাবেন ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। এফটিপি (ভবিষ্যৎ সফরসূচি) অনুযায়ী, এই বছর বাংলাদেশ ৬টি টেস্ট খেলবে, সঙ্গে ১২টি ওয়ানডে এবং ১৫টি টি-টোয়েন্টি। এই এফটিপির বাইরেও এই বছর আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সঙ্গে সিরিজ আয়োজন করার চেষ্টা করছে বিসিবি। পাকিস্তানের সঙ্গে সিরিজে তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলবে বাংলাদেশ, আফগানিস্তানের সঙ্গেও টি-টোয়েন্টি সিরিজই হওয়ার কথা। এ ছাড়া এ বছর এশিয়া কাপ আছে, যেটি হবে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে। যেখানে আরও অন্তত তিনটি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ দল। এই সিরিজগুলোকে হিসাবের বাইরে রেখে যদি শুধু এফটিপিতে থাকা ম্যাচ ও এশিয়া কাপের হিসাব করা হয়, তাহলে এ বছর তাসকিন ৬টি টেস্ট, ১২টি ওয়ানডে ও ১৮টি টি-টোয়েন্টি খেলার সুযোগ পাবেন। যদি তিনি সব কটি ম্যাচ খেলেন, তাহলে এ বছর টেস্ট থেকে ম্যাচ ফি পাবেন ৪৮ লাখ, ওয়ানডে থেকে ৪৮ লাখ ও টি-টোয়েন্টি থেকে ৪৫ লাখ টাকা। তার মানে ম্যাচ ফি বাবদ তাসকিনের আয় হবে মোট ১ কোটি ৪১ লাখ টাকা। তার মানে শুধু জাতীয় দলে খেলেই এ বছর তাসকিনের সম্ভাব্য আয় ২ কোটি ৬১ লাখ টাকা (বেতন ১ কোটি ২০ লাখ+ম্যাচ ফি ১ কোটি ৪১ লাখ)। এর বাইরে সিরিজ চলাকালীন পাবেন দৈনিক ভাতাও। জাতীয় দল ছাড়াও বাংলাদেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগ বিপিএল, ঘরোয়া ৫০ ওভারের টুর্নামেন্ট ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ও প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্ট জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) থেকে আয়ের সুযোগ আছে ক্রিকেটারদের। এ বছরের শুরুতে বিপিএলে দুর্দান্ত রাজশাহীর হয়ে খেলেন তাসকিন। প্লেয়ার্স ড্রাফটে ‘এ’ শ্রেণিতে থাকা তাসকিনের দাম ছিল ৬০ লাখ টাকা। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে এবার মোহামেডানের হয়ে খেলছেন তাসকিন, তাঁকে দলে নিতে ক্লাবটিকে ৫০ লাখের আশপাশে খরচ করতে হয়েছে বলে জানা গেছে। এনসিএলে অবশ্য ব্যস্ততার কারণে খেলার সুযোগ হয় না তাসকিনের। তারপরও ঘরোয়া ক্রিকেট থেকেও তাঁর আয় ১ কোটি ১০ লাখের মতো। তার মানে ক্রিকেট খেলে চলতি বছর তাসকিনের সম্ভাব্য আয় ৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এখানেই শেষ নয়, বাংলাদেশের শীর্ষ ক্রিকেটারদের অনেকেই প্রতিবছর একটি-দুটি বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগে খেলেন। তাসকিন অবশ্য ২০২৩ সালে জিম আফ্রো টি-টেনের পর আর বিদেশি লিগে খেলেননি। তবে অন্যরা খেলেছেন। আসছে পিএসএলে যেমন ডাক পেয়েছেন লিটন দাস, নাহিদ রানা ও রিশাদ হোসেন। সেসব টুর্নামেন্টে খেলে ৫০ লাখ থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত আয় করেন অনেক ক্রিকেটার। তাসকিনের কথা তো গেল, নাজমুল হোসেনসহ আরও কয়েকজনের সম্ভাব্য আয়টাও একটু বের করা যাক। বিসিবির চুক্তির ‘এ’ শ্রেণিতে নাজমুল ছাড়াও আছেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও লিটন কুমার দাস। বছরে যাঁদের বেতন ৯৬ লাখ করে। এর বাইরে জাতীয় দলে অপরিহার্য হয়ে ওঠা এই কয়েকজন খেলোয়াড়ের ম্যাচ ফি বাবদ সম্ভাব্য আয় ১ কোটি ৪১ লাখ টাকা করে। বিপিএল খেলে নাজমুল, মিরাজ, লিটন তিনজনই পেয়েছেন অন্তত ৬০ লাখ করে। ঢাকা প্রিমিয়ার থেকেও এই তিনজনের গড় আয় ৩০ থেকে ৪০ লাখের মতো। তার মানে ক্রিকেট খেলে এই বছর নাজমুল, মিরাজ ও লিটনের সম্ভাব্য আয় প্রায় ৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা করে। শুধু যে খেলেই ক্রিকেটারদের আয়, তা–ও কিন্তু নয়। তাঁদের আয়ের অন্য একটি বড় খাত বিজ্ঞাপন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রচার-প্রচারণার জন্য ক্রিকেটারদের বেশ কদর আছে। তবে ওখান থেকে কত টাকা আয় হয়, তা জানায় না কোনো পক্ষই। সেই হিসাবটা তাই বাদই থাকল।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
