|
বাস কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইন বানিজ্যমেলায় পথে পথে ভাড়া নৈরাজ্য !
শরীফ হোসেন,রূপগঞ্জ
|
![]() বাস কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইন বানিজ্যমেলায় পথে পথে ভাড়া নৈরাজ্য ! সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কুড়িল বিশ^রোড থেকে বানিজ্যমেলায় আসার জন্য বিআরটিসি বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কুড়িল বিশ^রোড থেকে মেলা পর্যন্ত ও ভুলতা থেকে কাঞ্চন পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা। মেলার দিন যাওয়ার সাথে বাড়ছে দর্শনার্থীদের ভিড়ও। শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় মেলা অনেক লোকের সমাগম হয়েছে। মেলায় দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বাস কাউন্টারেও উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। বেশি ভিড় থাকার কারণে বাস না পাওয়া ও বাসের জন্য দীর্ঘক্ষণ দাড়িয়ে থাকতে হচ্ছে যাত্রীদের। এছাড়া এশিয়ান বাইপাস ও ৩’শ ফুট সড়কে যানজটের কারণেও বাস আসতে অনেক দেরী হয়ে যাচ্ছে। এসকল কারণে অনেকে সিনএনজি অথবা ইজিবাইকে করে গন্তব্য স্থানে যেতে হচ্ছে যাচ্ছে। কুড়িল বিশ^রোড থেকে কাঞ্চন পর্যন্ত লোকাল সিএনজি ভাড়া ৪০ টাকা হলেও যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা করে। এছাড়া ভুলতা থেকে কাঞ্চনের ভাড়া ৩০ টাকা হলেও সেই ভাড়া নেওয়া ৯০ থেকে ১’শ টাকা। সারাদিন চালক দ্বিগুণ ভাড়া নিলেও সন্ধ্যার পর সেই সেই ভাড়া হয়ে যায় তিন থেকে চার গুন। ছুটির দিনে মেলায় দর্শনার্থীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ার কারণে পরিবহণ চালকরা তার সুযোগ নিচ্ছেন। সাধারণ মানুষও বাধ্য হয়ে গণ পরিবহণে চলতে বাধ্য হচ্ছেন। পরিবহণ ভাড়া বেশি নেওয়ার কারণে দর্শনার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এদিকে, শনিবার এশিয়ান বাইপাস, গাজীপুর বাইপাস, তিনশফুট সড়কে দীর্ঘ যানজট দেখা যায়। এ যানজটের কারণে সাধারণ মানুষকে অসীম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। মেলায় আগত দর্শনার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, পূর্বাচলে চতুর্থবারের মতো বসেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বানিজ্যমেলার আসর। যানজটের কারণে কাউন্টারে বাস আসতে দেরী হয়ে যায় অনেক। এ কারণে সিএনজি, অটোরিক্সা ও ইজিবাইকে করে যেতে হচ্ছে আমাদের। কিন্তু এতো কিছুর পরও ভোগান্তির পেরিয়ে মেলায় আসি। কিন্তু বাস আসতে দেরী হওয়ায় সেই সুযোগে সিএনজি চালক ও ইজিবাইক চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে আমাদের কাছ থেকে। আমরাও বাধ্য হয়ে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে মেলা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারির দাবি জানাচ্ছি। অনেকে গাড়ি পাকিং ব্যবস্থার বিশৃঙ্খলার কারণে পড়েছেন বিপাকে। ভুলতা এলাকার বাসিন্দা ইমন রহমান বলেন, শুক্রবার ভিড় হবে চিন্তা শনিবার মেলায় পরিবার পরিজন নিয়ে মেলায় এসেছিলাম। আজও অনেক মেলায় অনেক ভিড় রয়েছে। মেলা থেকে বাড়ি ফেরার পথে সিএনজি ঠিক করতে গেলে সিএনজি চালক আমার কাছে আকাশছোঁয়া ভাড়া চেয়ে বসেন। কাঞ্চন থেকে সিএনজি ভাড়া ১৫০ টাকা হলেও সিএনজি চালক আমার কাচে সাড়ে ৩’শ টাকা দাবি করেন। কোন গাড়ি না পেয়ে বাধ্য হয়ে বাড়তি সিএনজি ভাড়া দিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। রাজধানীর ঢাকার যাত্রাবাড়ি থেকে শাকিল আহমেদ পরিবার নিয়ে বানিজ্য মেলায় বেড়াতে এসেছিলেন। তিনি বলেন, আমি সরকারি অফিসে হিসাব রক্ষক হিসেবে কাজ করি। কয়েক মাস হয় নতুন বিয়ে করেছি। শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় স্ত্রীকে মেলায় ঘুরতে এসেছি। নতুন সংসার তাই বাড়ির জন্য কিছু গৃহস্থালি মালামাল কিনে নিলাম। মেলার রেস্তোরা ব্যবসায়ী আমান উল্লাহ বলেন, ছুটির দিন হওয়ায় মেলায় অনেক মানুষের সমাগম হয়েছে। আমাদের বিক্রিও অনেক ভাল হচ্ছে। তবে যানজটের কারণে মেলায় দর্শনার্থীরা আসতে পারছে না। স্থানীয় বাসিন্দা আক্তার মিয়া বলেন, স্থায়ী প্যাভিলিয়ন দেখতে আমাদের এলাকার লোকজন ছাড়াও বাইরের জেলার লোকজন আসছেন। আবার আমাদের ব্যক্তিগত প্রয়োজনে যাতায়াত করতে হয়। তবে সড়কে সব ধরনের যানবাহনে ভাড়া বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। যেটি কাম্য নয়। এ ব্যাপারে কর্তপক্ষ ও প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন। মেলা ভেতরে গিয়ে দেখলাম কোন স্বাস্থ্যবিধি নেই। স্বাস্থ্যবিধি না থাকার কারণে করোনা সংক্রমণ আরো বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। কাঞ্চন থেকে কুড়িল বিশ^রোড পর্যন্ত নিয়মিত যাতায়াতকারী সোহেল মিয়া বলেন, মেলায় প্রচুর দর্শনার্থী হয় তাই সুযোগ বুঝে স্থানীয় সিএনজি চালকরা মনমতো ভাড়া আদায় করছে। এছাড়া বিআরটিসি বাস ভাড়া জায়গা অনুসারে ১০-২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। মেলায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থী সুমনা আক্তার বলেন, বিআরটিসি বাস কাউন্টারে কোন ধরনের শৃঙ্খলা নেই। টিকেট পেতে দীর্ঘ লাইনে হয়রানির শিকার হতে হয়। এছাড়াও যাতায়াত পথে সিএনজিগুলো তাদের মনমতো ভাড়া আদায় করছে। রামপুরা এলাকা থেকে মেলায় ঘুরতে আসা ব্যবসায়ী সাব্বির ভুইয়া বলেন, মেলা কর্তৃপক্ষের দেয়া বিআরটিসি বাসের ভাড়া কিছুটা বাড়িয়েছে। তবে সিএনজি চালকরা সিন্ডিকেট করে ভাড়া আদায় করছে। গেইট ইজারাদার প্রতিষ্ঠান ডিজি ইনফোটেক লিমিটেডের ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বলেন, শীতকে উপেক্ষা করে শুক্রবারের মতো শনিবার ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। শনিবার সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত ১ লাখের বেশি লোকের সমাগম হয়েছে। আমরা মেলায় আসা দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে এবছর ই-টিকেটিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যাতে করে দর্শনার্থীরা নির্বিঘেœ মেলায় প্রবেশ করতে পারে। এ ব্যাপারে ইপিবির সচিব ও বানিজ্যমেলার পরিচালক বিবেক সরকার বলেন, মেলায় আগত দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য পর্যাপ্ত বিআরটিসি বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কাউন্টারে পর্যাপ্ত বিআরটিসির বাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শুক্রবার ও শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় দর্শনার্থীদের সমাগমের কারণে যানজট হচ্ছে কিছুটা। তবে পুলিশ যানজট নিরসনের কাজ করে যাচ্ছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
