ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ১২ জুন ২০২৬ ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
আইন ও বিচার বিভাগ যেন দলীয়করণ না হয়: সাহেদ আহম্মেদ
শামীম শেখ
প্রকাশ: Tuesday, 22 October, 2024, 10:22 PM

আইন ও বিচার বিভাগ যেন দলীয়করণ না হয়: সাহেদ আহম্মেদ

আইন ও বিচার বিভাগ যেন দলীয়করণ না হয়: সাহেদ আহম্মেদ

সব সরকারের আমলেই প্রশাসনকে প্রভাবিত করার অভিযোগ আছে। তবে আওয়ামী লীগ সরকার প্রশাসন ও দলের ভেদরেখাটি পুরোপুরি মুছে ফেলেছে। গণ বিপ্লবের পরবর্তী আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর নিয়ন্ত্রিত আইনের শাসন থেকে বের হতে চাই। দৈনিক নতুন সময়কে দেয়া সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানান ফিউচার বাংলাদেশ পার্টির সভাপতি সাহেদ আহম্মেদ শ্রাবণ। পাঠকের উদ্দেশে সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো।

নতুন সময়: গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী কেমন বাংলাদেশ চায়?

সাহেদ আহম্মেদ: আমি ১৯৭১ এর স্বাধীনতা দেখিনি, আমি দেখেছি ২৪ এর গণ বিপ্লব অনেকে এটাকে গণঅভ্যুত্থান বলে আমি বলি গন বিপ্লব। বর্তমান ছাত্র জনতার আন্দোলনের ফলে যে সরকার গঠিত হয়েছে আমি এটাকে বলবো বিপ্লবী সরকার। আওয়ামী লীগ সরকার যেভাবে দেশ চালাচ্ছিল আমরা সকল প্রকার অনিয়ম মেনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছিলাম। আমরা এমন একটা বাংলাদেশ কাম্য করি যেখানে হবে অসাম্প্রদায়িক, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে এক অন্যরকম বাংলাদেশ। আমরা বাক স্বাধীনতা চাই রাজনৈতিক দলগুলোর নিয়ন্ত্রিত আইনের শাসন থেকে বের হতে চাই।এমন বাংলাদেশ চাই- যেখানে চাবুক থাকবে না, চাবুক মারার মানুষও থাকবে না। প্রভু থাকবে না, কৃতদাসও থাকবে না। কেউ গৃহহীন থাকবে না, কারও রাজপ্রাসাদও থাকবে না। নিরস্ত্র মানুষকে সশস্ত্র শক্তি হত্যা করবে না, অধিকারকে বল প্রয়োগে স্তব্ধও করবে না। সকল মানুষকে নিরাপত্তা দেবে, মৃত্যুর ত্রাস  সৃষ্টি করবে না। রাষ্ট্রের উপর জনগণের মালিকানা স্বীকার করবে কিন্তু উপেক্ষা করবে না। মানবিক মর্যাদার সুরক্ষা দেবে, বিনষ্ট করবে না। ন্যায়বিচারকে নিশ্চিত করবে, অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবে না। রাষ্ট্র মিথ্যা উৎপাদনের কারখানা হবে না। অপরাধীকে ফুলের তোড়া দেবে আর নিরপরাধীকে হত্যা করবে রাষ্ট্রের এমন বৈশিষ্ট্য হতে পারবে না। মোটকথা এমন বাংলাদেশ নির্মাণ করতে হবে যেখানে প্রতিটি নাগরিক সুযোগ পাবে স্বাধীনভাবে নিজের ক্ষমতা ও যোগ্যতার বিকাশ ঘটাবার। বেঁচে থাকার অধিকার যেন রাষ্ট্র ব্যবস্থা কেড়ে না নিতে পারে।

নতুন সময়: সংস্কারের দাবির প্রেক্ষিতে অন্তবর্তী সরকার কতটুকু অগ্রসর হতে পারবে বলে আপনি মনে করেন?

সাহেদ আহম্মেদ: বর্তমানে যেভাবে লাগামহীন ভাবে চলছে এটা প্রত্যাশিত নয়। সাধারণ মানুষের চাহিদার কথা বিবেচনা করতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি ক্ষোভের অন্যতম কারণ ছিল দ্রব্য মূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং বাক স্বাধীনতা। এই দুইটা বিষয়ে অবশ্যই অন্তবর্তী সরকারকে বিবেচনায় নিতে হবে। আর বর্তমান যে সকল দাবিগুলো নিয়ে মানুষ রাস্তায় নামছে সেটাও একটা প্রতিবন্ধকতা। ইচ্ছে থাকলেই শতভাগ সংস্করণ দুর্বিষহ ।যেভাবে প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে সেভাবে কাম্য নয়। সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে সংস্কার অগ্রগতি হওয়াটা কঠিন হবে। 

নতুন সময়: রাজনৈতিক দলগুলো থেকে নির্বাচনের দাবি উঠেছে, অন্তর্র্বতী সরকারকে কী সময় দেয়া উচিত? 

সাহেদ আহম্মেদ: বিগত ১৭ বছর দেশ যেভাবে চলছিল দলীয়করণের মাধ্যমে, সেখানে মানুষ তার ভোটার অধিকার হারিয়েছিল বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছিল এর থেকে উত্তরণের জন্য অবশ্যই অন্তবর্তী সরকারকে সময় দেওয়া উচিত। তা না হলে মানুষ আবারও তার অধিকার হারাবে। তবে যেভাবে চলছে এইভাবে না আরো কঠোর বা সৃজনশীল কিছু না করলে দেশ পিছিয়ে যাবে।

নতুন সময়: বিগত সরকারের আমলে অনিয়মগুলো বলুন এবং আপনি কী ধরনের প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছেন?

সাহেদ আহম্মেদ: আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দৃশ্যমান অনেক উন্নতি হয়েছে। পদ্মা সেতু, মোট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে নির্মিত হয়েছে। জনগণ এসবের সুফলও পাচ্ছে। অন্যদিকে দুর্নীতি ও দলীয়করণের বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণতা দেখানোর কথা বলে সেটার প্রসার ঘটিয়েছে। সংবাদমাধ্যম বশীকরণ প্রকল্প দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করেছে। সব সরকারের আমলেই প্রশাসনকে প্রভাবিত করার অভিযোগ আছে। তবে আওয়ামী লীগ সরকার প্রশাসন ও দলের ভেদরেখাটি পুরোপুরি মুছে ফেলেছে।

নতুন সময়: গত ৫ ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর  দেশব্যাপী যে  সহিংসতা হয়েছে এর পিছনে কি কারণ আছে বলে আপনি মনে করেন?

সাহেদ আহম্মেদ: ৫ আগস্টের পরে  বিক্ষিপ্ত জনতার ক্ষিপ্ত হয়ে সহিংসতা ঘটিয়েছে যা উচিত হয়নি। সরকার পতনের পর সেনাবাহিনীকে আরো কঠোর অবস্থানে যাওয়া উচিত ছিল যাতে সরকারি স্থাপনা গুলো ও সাধারণ জনতার জানমাল হেফাজতে থাকে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কিন্তু সাধারণ জনগণের একটা আবেগের জায়গা।

নতুন সময়: ছাত্র জনতার উদ্দেশে কিছু বলুন?

সাহেদ আহম্মেদ: ছাত্র জনতার উদ্দেশ্যে একটি কথা বলব আবরার থেকে তোফাজ্জেল সহ বিগত দিনে যে সকল অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে তার পুনরাবৃত্ত যেন না হয়। আমাকে আপনাদের ভালো নাই লাগতে পারে তাই বলে আমাকে শেষ করে দিয়েন না

নতুন সময়: ধন্যবাদ আপনাকে।

সাহেদ আহম্মেদ: নতুন সময়কেও ধন্যবাদ।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status