|
সন্তানদের গালাগাল করায় ক্ষোভে স্ত্রী-মেয়েকে হত্যা: পুলিশ সুপার
নতুনসময় প্রতিনিধি
|
![]() সন্তানদের গালাগাল করায় ক্ষোভে স্ত্রী-মেয়েকে হত্যা: পুলিশ সুপার শনিবার ২০ এপ্রিল রাতে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে মা-মেয়েকে হত্যার এ ঘটনায় স্বামী শহীদুল ইসলামকে (৩৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানান পুলিশ সুপার শাহ্ ইফতেখার আহমেদ। রোববার ২১ এপ্রিল নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন পুলিশ সুপার। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মমিনুল করিম, সিফাত-ই রব্বান, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিন্নাহ-আল মামুন ও বিরামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মঞ্জুরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। গ্রেপ্তার শহীদুল উপজেলার হেয়াতপুর চিনিরচড়া গ্রামের বাসিন্দা। সে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সুপার বলেন, শহীদুল পেশায় কাঠুরিয়া। প্রতিদিনের মতো শনিবার ২০ এপ্রিল সকালে কাজের জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে সন্ধ্যার আগে ফেরে। পরে মুড়ি ও মিষ্টি খেয়ে দাউদপুর বাজারে যাচ্ছিল। এ সময় স্ত্রী মর্জিনা বেগম সন্তানদের মোবাইল ফোনে গান শুনতে দেখে বিরক্ত হয়। তাদের গালাগাল করলে শহীদুল নিষেধ করে স্ত্রীকে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাঁশের টুকরা দিয়ে মর্জিনার মাথায় আঘাত করলে সে পড়ে যায়। এ সময় সন্তানরা এগিয়ে এলে প্রথমে ৬ বছরের মেয়ে আফরিন জান্নাতের মাথায় আঘাত করে। পরে ১১ বছর বয়সী ছেলে আল আমিনের মাথায়ও আঘাত করে শহীদুল। একপর্যায়ে তাদের ফেলে রেখে বাইসাইকেল নিয়ে দাউদপুর বাজারে চলে যায়। রাতে বাড়ি ফিরে তার স্ত্রী ও সন্তানদের কেউ আঘাত করেছে দাবি করে চিৎকার করতে থাকে। এলাকাবাসী এগিয়ে এসে মর্জিনাকে মৃত অবস্থায় পায় জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, ২ সন্তানকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে রাতেই তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জান্নাতের মৃত্যু হয়। পুলিশ রাতেই শহীদুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার কথায় অসংলগ্নতা পায়। এরপর তাকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে স্ত্রী ও সন্তানকে আঘাতের বিষয়টি স্বীকার করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মর্জিনার মা গোলাপী খাতুন মামলা করেছেন। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
