ই-পেপার সোমবার ● ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ● ৫ অক্টোবর ২০২৬ ● ২০ আশ্বিন ১৪৩৩
‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ৩৩ লাখ টাকা ছিনতাই, ৩ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Sunday, 5 November, 2023, 1:45 AM
সর্বশেষ আপডেট: Wednesday, 8 November, 2023, 9:45 AM

‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ৩৩ লাখ টাকা ছিনতাই, ৩ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ৩৩ লাখ টাকা ছিনতাই, ৩ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

রাজধানীর চকবাজার থানার মোগলটুলী এলাকায় দিনে-দুপুরে অস্ত্র ঠেকিয়ে ব্যবসায়ীর কর্মচারীকে তুলে নিয়ে ৩৩ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে। তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় সাধারণ মানুষ এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীকে জামায়াত-শিবিরের সদস্য বলে উল্লেখ করেন। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা ও চট্টগ্রামে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- চকবাজার থানা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি শুভ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিরাজ ও সদস্য সায়েম। 

পুলিশ জানিয়েছে, ছিনতাইয়ের শিকার যুবকের নাম আনিসুল ইসলাম। তিনি চকবাজারের হাজী সেলিম টাওয়ারের কসমেটিক্স পণ্য আমদানিকারক সোবাহান স্টোর নামের একটি দোকানে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেন। দোকান মালিক আবদুস সোবাহানের বিশ্বস্ত হওয়ায় বুধবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে চকবাজারের মোগলটুলী ৯২ নম্বর বশির ম্যানশনের সামনের সড়ক হয়ে ৩৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে ইসলামী ব্যাংক মৌলভীবাজার শাখায় জমা দিতে যাচ্ছিলেন। আনিসুল ইসলাম বলেন, আমি দোকান থেকে কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাৎ পেছন থেকে ৪-৫ জন লোক আমাকে কিলঘুষি মারতে থাকে। এ সময় আমি ডাকাত-ডাকাত বলে চিৎকার দিলে লোকজন ছুটে আসে। তখন ছিনতাইকারীরা নিজেদের চকবাজার ছাত্রলীগের নেতা পরিচয় দিয়ে আমাকে দেখিয়ে বলে- এই ছেলে  জামায়াত-বিএনপি’র লোক।

একে থানায় নিয়ে যাচ্ছি। এ সময় তারা সবাই জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে আমাকে অটোরিকশায় তুলে নেয়। ছাত্রলীগ পরিচয় দেয়ায় ভয়ে কেউ আর এগিয়ে আসেনি। 
তারা আমার চোখ বেঁধে একটা নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যায়। সেখানে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে আর আমার কাছে থাকা ব্যাগটি দিয়ে দিতে বলে। তবুও আমি ব্যাগ ছাড়িনি। একপর্যায়ে একজন আমার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং পিস্তলের বাট দিয়ে আমার কানে আঘাত করে। অন্যরা নির্মাণাধীন ভবনের কাঠ দিয়ে আমার হাতে-পায়ে আঘাত করে। একপর্যায়ে আমি সংজ্ঞা হারিয়ে ফেললে তারা টাকার ব্যাগটি কেড়ে নেয়। এরপর তারা আমাকে ভবন থেকে বের করে অজ্ঞাত একটি স্থানে নিয়ে চোখ খুলে দিয়ে বলে সোজা বাসায় যাবি। আর তোকে যদি কোনোদিন চকবাজার এলাকায় দেখি জানে মেরে ফেলবো। 

এরপর আমি কোনো মতে সেখান থেকে দৌড়ে মালিকের অফিসে আসি।  দোকান মালিক ব্যবসায়ী আবদুস সোবাহান বলেন, আমি যাদের মাধ্যমে পণ্য আমদানি করি, ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে চেক নিয়ে সেটি সংশ্লিষ্ট আমদানিকারককে দিতে হয়। বুধবার আমি আমার দোকানের কর্মচারী আনিসকে টাকা নিয়ে ব্যাংকে পাঠাই। কিন্তু প্রায় দু’ঘণ্টা হয়ে গেলেও আনিসের কোনো খোঁজ পাচ্ছিলাম না। ফোন দিলেও ধরেনি। এতে আমার টেনশন বাড়তে থাকে। দুপুর ১টার দিকে আমার কর্মচারী আনিস রক্তাক্ত অবস্থায় কাতরাতে কাতরাতে অফিসে আসে। তখন সে জানায় তাকে কয়েকজন যুবক জোরপূর্বক তুলে নিয়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে টাকার ব্যাগ ছিনতাই করেছে ও তাকে ব্যাপক মারধর করেছে। এ সময় আমি খোঁজ নিয়ে ঘটনার সত্যতা পাই। 

পরবর্তীতে চকবাজার থানায় যোগাযোগ করে মামলা করি। ডিএমপি’র লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার মো. জাফর হোসেন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। এরপর টাকা উদ্ধারে অভিযানে নামে পুলিশের একাধিক টিম। প্রযুক্তির সহায়তায় দেখা যায় অভিযুক্তরা টাকার ব্যাগ নিয়ে ঢাকা ত্যাগ করে ট্রেনযোগে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছে। 

এমতাবস্থায় চট্টগ্রামের পুলিশ এবং রেলওয়ে পুলিশের সহায়তায় টাকা ছিনতাইকারী দুজনকে আটক করা হয়। এ সময় চকবাজার থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য বিমানযোগে ওই আসামিরা চট্টগ্রামে পৌঁছার আগেই সেখানে পৌঁছে যায় এবং আটক মিরাজ ও সায়েম নামের ওই দুই ছাত্রলীগ নেতাকে নিয়ে অভিযান শুরু করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। তাদেরকে ঢাকায় এনে আবারো অভিযান শুরু করে পুলিশ। অভিযানে আরেক নেতা শুভ ধরা পড়ে। এই ঘটনায় ৭ থেকে ১০ জনের একটি চক্র কাজ করেছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে এখনো অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আসামিরা ছাত্রলীগ নেতা। 

এ বিষয়ে তিনি বলেন, অপরাধীর অন্য কোনো পরিচয় আমাদের কাছে মুখ্য নয়। আমাদের কাছে অপরাধীর একমাত্র পরিচয় সে অপরাধী। সে হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি রাজিবুল ইসলাম বাপ্পি বলেন, ছাত্রলীগ পরিচয় দিয়ে যদি কেউ অপরাধ করে সে দায় আমরা নেবো না। অপরাধীর পরিচয় যাই হোক তাকে শাস্তি পেতেই হবে। আমরা এই ঘটনায় তদন্ত করবো। যদি তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাই তাহলে সাংগঠনিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status