|
আদাবরে বাড়ি দখলের চেষ্টা
বাসায় থাকিস, টাকা দিবি না বলেই ফটকে কোপানো শুরু হয়
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() বাসায় থাকিস, টাকা দিবি না বলেই ফটকে কোপানো শুরু হয় শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ব্যবসায়ী আমিনুর রহমানের মালিকানাধীন ওই বাড়িতে এ বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা চাঁদা দাবি করে বাড়ির মূল ফটকে কোপানোর পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা ও জানালার কাচ ব্যাপক ভাঙচুর করে। তবে দীর্ঘ চেষ্টায়ও বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে না পেরে একপর্যায়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগী বাড়ির মালিকের ভাতিজা মনির হোসেন ঘটনার রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে জানান, শনিবার ভোরে দুটি অটোরিকশা ও একটি মোটরসাইকেলে করে দুর্বৃত্তরা বাড়ির সামনে এসে অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণ বাড়িটি পর্যবেক্ষণের পর চারজন মূল ফটকের সামনে আসে, যাদের মধ্যে দুজনের হাতে চাপাতি ও একজনের হাতে রামদা ছিল। একটু দূরে পিস্তল হাতে দাঁড়িয়ে থাকা অপর এক ব্যক্তি পুরো হামলার নির্দেশনা দিচ্ছিলেন। দুর্বৃত্তরা এসেই গেট খোলার নির্দেশ দেয় এবং হুমকি দিয়ে বলতে থাকে, ‘টাকা দে! বাসায় থাকিস, টাকা দিস না। বের হ।’ ভেতর থেকে গেট না খোলায় তারা রামদা ও চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। গেটের সামনে থাকা সিসি ক্যামেরা ও ইটের টুকরা ছুড়ে দোতলার জানালার কাচ ভেঙে ফেলে মাত্র পাঁচ মিনিটের তাণ্ডব শেষে তারা সটকে পড়ে। হামলা চলাকালেই মনির হোসেন জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে পুলিশের সহায়তা চান। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, কল করার প্রায় তিন ঘণ্টা পর সকাল পৌনে ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সঠিক সময়ে পুলিশ এলে দুর্বৃত্তদের হাতেনাতে ধরা সম্ভব হতো বলে আক্ষেপ করেন তিনি। এ ঘটনায় আদাবর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবারটি। ভয়ে তারা বাসা থেকে বের হতে পারছেন না। এ বিষয়ে আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ বাড়িটি পরিদর্শন করেছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এই বাড়িটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই একটি দখলদার চক্রের সঙ্গে বিরোধ চলছে। এর আগে ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট খোরশেদ আলম নামে এক ব্যক্তি বাড়িটি জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছিল। সে সময় থানায় অভিযোগ দিয়েও কোনো সুরাহা না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা করে ভুক্তভোগী পরিবার। আদালতের নির্দেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দীর্ঘ চার মাস তদন্ত শেষে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করে এবং সর্বশেষ গত ১২ মার্চ বাড়িটির দখল ফিরে পান প্রকৃত মালিক। কিন্তু সেই রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে এই সশস্ত্র হামলায় চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছেন বাসিন্দারা। |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
