|
বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর সিরিজ জয় বাংলাদেশের
|
|
বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর সিরিজ জয় বাংলাদেশের সাকিবও ম্যাচ শেষ করতে পারেননি। মঈন আলীর বলে কোনো রান না করেই ক্যাচ আউট হন তিনি। তবে নাজমুল বাকি পথটা পাড়ি দেন তাসকিন আহমেদকে নিয়ে। তিনে নেমে নাজমুল অপরাজিত ছিলেন ৪৭ বলে ৪৬ রানে। ৩টি চার ছিল নাজমুলের ইনিংসে। ৩ বল খেলে ২টি চারসহ ৮ রানে অপরাজিত ছিলেন তাসকিন। ব্যাটসম্যানদের কাজটা অবশ্য সহজ করছেন বোলাররা। প্রথম ম্যাচের পরেই ইংল্যান্ড ব্যাটিং অর্ডারে চারজন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান থাকায় একজন বিশেষজ্ঞ অফ স্পিনারের অভাব অনুভব করছিল টিম ম্যানেজম্যান্ট। সে চিন্তা থেকেই আজ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে শামীম হোসেনকে বসিয়ে সুযোগ দেওয়া হয় মেহেদী হাসান মিরাজকে। সেই মিরাজই আজ ক্যারিয়ার–সেরা বোলিংয়ে ধস নামান ইংলিশ ব্যাটিংয়ে। তিনি ৪ ওভারে মাত্র ১২ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করলে ইংল্যান্ড অলআউট হয় ১১৭ রানে। তবে মঞ্চ গড়ে দিয়েছেন পেসাররাই। বাংলাদেশের আমন্ত্রণে ব্যাট করতে নেমেই নতুন বলে তাসকিন আহমেদের তোপের মুখে পড়ে ইংলিশ টপ অর্ডার। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে তাসকিনের বাউন্সারে কাট করতে গিয়ে থার্ড ম্যানে থাকা হাসান মাহমুদের হাতে ধরা পড়েন ডেভিড ম্যালান। পরে অবশ্য পাওয়ারপ্লেটা ভালোই খেলেছে ইংল্যান্ড। ফিল সল্ট ও তিনে নামা মঈন আলী প্রথম ৬ ওভারে ৫০ রান তোলেন। কিন্তু পাওয়ারপ্লের পরেই ফাটল ধরে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন-আপে। ইনিংসের সপ্তম ওভারে সাকিব আল হাসান প্রথম বোলিংয়ে এসেই সল্টকে বিদায় করেন। গতি কমিয়ে এনে বিশাল এক টার্নে ইংলিশ ওপেনারকে বোকা বানিয়ে আউট করেন সাকিব। তবে ইংলিশরা বড় ধাক্কাটা খায় অধিনায়ক জস বাটলারের আউটে। প্রথম ম্যাচে হাসান মাহমুদের বলে আউট হয়েছিলেন বাটলার। আজও বাটলার ক্রিজে আসতে না আসতেই হাসানকে বল তুলে দেন সাকিব। আর ইংলিশ অধিনায়ককে আউট করতে ৪ বল লেগেছে হাসানের। তিনটি লেংথ বলের পর চতুর্থ বলে স্পাইক তাক করা ইয়র্কারে বাটলারের স্টাম্প উপড়ে ফেলেন হাসান। এরপরের গল্পটা মিরাজের। টার্ন, বাউন্সের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ইংল্যান্ডের বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখেন তিনি। পরে একে একে ৪ উইকেট শিকার করেন। শুরুটা হয় ১৭ বলে ১৫ রান করে থিতু হওয়া মঈনকে দিয়ে। একে একে মিরাজের ফাঁদে পা দিয়েছেন স্যাম কারেন, ক্রিস ওকস, ক্রিস জর্ডান। চাপের মুখে ইংল্যান্ডও খেলেছে এলোমেলো ক্রিকেট। শেষ তিন ব্যাটসম্যানের তিনজনই তালগোল পাকিয়ে রানআউট হয়েছেন। এর বড় একটা কারণ হতে পারে সাকিবের অধিনায়কত্ব। আজ তিনি ২০ ওভার করিয়েছেন ৮ জন বোলার দিয়ে। নিয়মিত বোলার নাসুম আহমেদ মাত্র ১ ওভার করেছেন। প্রথম ২ ওভারে ভালো করার পরও হাসানকে আর বোলিংয়ে আনেননি। মন্থর উইকেট এই দুই বোলারের বাড়তি গতি বাড়তি রানের কারণ হতে পারে বলেই হয়তো তাদের বোলিংয়ে আনেননি সাকিব। তবে তিনি যা-ই করেছেন, সেটি কাজে দিয়েছে। বাংলাদেশও পেয়েছে ইংল্যান্ডকে সিরিজে হারানোর আদর্শ মঞ্চ। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
