জাতীয় নাট্যশালার এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় আয়োজিত নাটকটির প্রদর্শনী হবে আগামী ২২ জানুয়ারি সন্ধ্যায়। রিমান্ড কক্ষে একজন লেখককে পুলিশ কর্মকর্তার অবিরাম জেরার মধ্য দিয়ে মঞ্চ নাটক ‘রিমান্ড’ তার গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আর রিমান্ডের এই কাহিনী মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে ‘আলী যাকের নতুনের উৎসবে’।
লেখকের চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে আসাদুজ্জামান নূরকে। ‘রিমান্ড’ নাটকের রচয়িতা শুভাশিস সিনহা, নির্দেশনাও দিচ্ছেন তিনি।
নির্দেশক শুভাশিস সিনহা বলেন, “নাটকটির মধ্য দিয়ে এ সময়কেই খুঁজে পাবেন দর্শক। রিমান্ড কক্ষে একজন লেখককে পুলিশের জেরার মধ্য দিয়ে জীবনের অন্য রকম দর্শন উন্মোচিত হয়, যা মঞ্চে এসে দর্শককে দেখার আমন্ত্রণ জানাই।”
নাটকে পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রটি করেছেন জ্যোতি সিনহা। এছাড়া অভিনয় করছেন কামাল উদ্দীন কবির, সজীব হোসেন, সউদ চৌধুরী, শাহনাজ জাহান, আনিসুর রহমান রিমন, বর্ষা, সৌম্য, শাকিল, শম্পা।
জ্যোতি সিনহা বলেন, “আলী যাকের নতুনের উৎসব আমাদের নাট্যাঙ্গনে ভীষণ অনুপ্রেরণা যোগানো একটি নাট্যোৎসব। এই উৎসবে আমাদের নাটক রিমান্ডও থাকছে। আশা করছি দারুণ একটি উৎসবে আমরা সবাই যুক্ত হব।”
নাট্যদল হৃৎমঞ্চের প্রধান সমন্বয়ক পাভেল রহমান বলেন, “২২ জানুয়ারির পর দেশের বিভিন্ন মঞ্চে নিয়মিত নাটকটির প্রদর্শনী হবে। ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে ঢাকা ও জেলা শহরে নাটকটির কয়েকটি প্রদর্শনীর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। শিগগিরই বিস্তারিত জানানো হবে।”
এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মত আয়োজিত হতে যাচ্ছে ‘নতুনের উৎসব’। সেজন্য সৃজনশীল এবং উদ্যমী পাঁচটি নাট্যদলকে নতুন নাটক মঞ্চে আনার জন্য প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। উৎসবে নাগরিকের প্রণোদনা পাওয়া পাঁচটি নতুন নাটকের উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হবে বলে জানিয়েছেন উৎসবের আহ্বায়ক সারা যাকের।
‘হৃৎমঞ্চ’ ছাড়া এবার প্রণোদনা পাওয়া নাট্যদলগুলো মধ্যে থিয়েটার ফ্যাক্টরি মঞ্চে আনতে যাচ্ছে অলোক বসুর নির্দেশনায় ‘রেস্পেক্টেবল প্রস্টিটিউট’। নাটকের দল ‘বটতলা’ মোহাম্মদ আলী হায়দারের নির্দেশনায় মঞ্চে আনবে ‘সখি রঙ্গমালা’। বাকার বকুলের রচনা ও নির্দেশনায় ‘তাড়ুয়া’ মঞ্চে আনতে যাচ্ছে ‘আদম সুরত’। এছাড়া প্রাচ্যনাট আজাদ আবুল কালামের নির্দেশনায় মঞ্চে আনতে যাচ্ছে ‘অচলায়তন’।
নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বাংলাদেশে দর্শনীর বিনিময়ে নাট্যচর্চার ৪৫ বছর উদযাপনের প্রাক্কালে নাট্য প্রণোদনা ঘোষণা করে। ২০১৯ সালে তাদের প্রণোদনায় পাঁচটি নাটক নিয়ে প্রথমবারের মতো উদযাপিত হয় ‘নতুনের উৎসব’।
২০২০ সালে প্রয়াত হন নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের সভাপতি আলী যাকের। ২০২০ ও ২১ সালে মহামারীর কারণে ‘নতুনের উৎসব’ আয়োজন সম্ভব না হলেও ২০২২ সালে আবার উৎসবের পরিকল্পনা করা হয়। সেজন্য পাঁচটি নাট্যদলকে নতুন নাটক মঞ্চে আনার জন্য প্রণোদনা দেওয়া হয়। গত নভেম্বরে এ নাট্যোৎসব আয়োজনের কথা শোনা গিয়েছিল। পরে তারিখ পরিবর্তন করে ২০২৩ সালের ২১ থেকে ২৬ জানুয়ারির সূচি চূড়ান্ত করা হয়।।