তার মা কোয়েল সাংবাদিকদের জানান, রবিবার দুপুর ১টায় কলেজ থেকে মৌলি বাসায় আসে। এসময় সে তাকে জানিয়েছে, গণিত বিষয়ে সে ফেল করতে পারেন না। তাকে ফেল করানো হয়েছে। এই জন্য তার মন ভালো নেই। মেজাজও খারাপ। তাই সে নিজের কক্ষে প্রবেশ করে। তার কোনো সাড়া না পেয়ে বারান্দায় গিয়ে মৌলিকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেছেন।
মৌলির বাবা মোশারেফ হোসেন কলেজ শিক্ষক। তার সংগঠন বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি বরিশালের সভাপতি অধ্যক্ষ মহসিন উল- ইসলাম হাবুল পরিবারের বরাতে জানান, কলেজের গণিত শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়েনি মৌলি। এই কারণে তাকে প্রথম বর্ষ পরীক্ষায় গণিত বিষয়ে ফেল করানো হয়েছে। বিষয়টি মৌলি শিক্ষকের কাছে জানতে চেয়েছিল। তখন শিক্ষক তাকে কোনো কিছু বলেছে, যা মেনে নিতে পারেনি। তাই নিজেকে শেষ করে দিয়েছে।
এ অভিযোগ সম্পর্কে বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আসাদ বলেন, প্রাইভেট না পড়ানোর জন্য ছাত্রীকে ফেল করিয়ে দেয়ায় আত্মহত্যা করেছে বলে শুনেছি। কিন্তু কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। তবুও আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি কেউ প্রাইভেট পড়ায় কিনা। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জানতে পারলে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করা হবে।
তিনি আরো জানান, গত ১৪ ও ১৬ নভেম্বর প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল কারো মনঃপুত না হলে, তাদেরকে মূল্যায়নের জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছে। এই সুযোগ দেয়ার পরও এটা হওয়ার কথা নয়।
কোতয়ালী মডেল থানার ওসি তদন্ত ছগির হোসেন জানিয়েছেন, খবর পেয়েছি। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হবে। কোন অভিযোগ দিলে তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।