এলডিএল কোলেস্টেরল রক্তনালীর ভিতর জমে। হতে পারে হার্ট অ্যাটাক থেকে শুরু করে স্ট্রোক। এবার কিছু পানীয় যেমন কফি, সফট ড্রিংকস এই সমস্যা বাড়ায়।
কোলেস্টেরল একটি ভয়াবহ অসুখ। এই রোগে আক্রান্ত হলে শরীরে গুরুতর কিছু সমস্যা দেখা যেতে পারে। মুশকিল হল, বেশিরভাগ মানুষই এই অসুখ সম্পর্কে বেশি জানেন না। তাই সাংঘাতিক কিছু হয়ে যেতে সময় লাগে না। মনে রাখবেন, কিছু খাবার বাড়াতে পারে কোলেস্টেরল। এমনকী কিছু পানীয় খেলেও বেড়ে যায় এলডিএল কোলেস্টেরল । তাই সতর্ক হয়ে যেতে হবে।
আমাদের শরীরে কোলেস্টেরলের মূলত দুটি ভাগ রয়েছে। প্রথমত আছে এলডিএল কোলেস্টেরল। দ্বিতীয়ত আছে এইচডিএল কোলেস্টেরল। এবার এলডিএল কোলেস্টেরল হল খারাপ। এই কোলেস্টেরল রক্তনালীর ভিতরে জমে। এই কোলেস্টেরল শরীরে কম থাকা উচিত। এবার কিছু মানুষের শরীরে এই কোলেস্টেরল বাড়ে।
অপরদিকে আছে এইচডিএল কোলেস্টেরল। সেই কোলেস্টেরল কিন্তু ভালো। এই কোলেস্টেরল বেশি থাকলে শরীরে সহজে হার্টের রোগ হয় না। প্রতিটি মানুষকে চেষ্টা করতে হবে এই কোলেস্টেরল বাড়ানোর বিষয়ে। তবে হয় ঠিক উলটো। আমাদের ভুলে এলডিএল বাড়ে। তখন তা হার্টে বা মাথায় জমে হয় হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক। এক্ষেত্রে সতর্ক হয়ে যাওয়া হল খুবই জরুরি।
ভারতের অ্যাপোলো ২৪*৭ ডা: উৎস বাসু’স ক্লিনিকের প্রধান ডায়েটিশিয়ান ঈশানী গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, এলডিএল বাড়ার অনেক কারণ রয়েছে। কিছু খাবার এলডিএল বাড়ায়। এমনকী কিছু পানীয় বাড়িয়ে দিতে পারে এলডিএল। এবার তাই সতর্ক হয়ে যেতে হবে। নইলে সমস্যা তৈরি হয়ে যাবে।
১. মিল্ক শেক বাড়ায় এলডিএল ঈশানী গঙ্গোপাধ্যায় জানান, মিল্ক শেক খেলে খুব লাভ মেলে। এক্ষেত্রে অনেকটা ক্যালোরি শরীরে প্রবাশ করে। তবে এতে আছে বহুগুণ ফ্যাট। আর এই ফ্যাটের মধ্যে বেশিরভাগটাই স্যাচুরেটেড ফ্যাট। আর স্যাচুরেটেড ফ্যাট (Saturated Fat) কিন্তু শরীরে সমস্যা তৈরি করে দেয়। তাই সতর্ক হয়ে যাওয়া দরকার।
২. সোডা, সফট ড্রিংকস বাড়ায় কোলেস্টেরল ঈশানী গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, আসলে সোডা বা সফট ড্রিংকস খাওয়ার চল বেড়েছে। তবে মাথায় রাখতে হবে যে এই পানীয়ে রয়েছে অনেকটা পরিমাণে চিনি। আর সেই সুগার কিন্তু ক্যালোরি শরীরে পৌঁছে দেয়। এর থেকে কোলেস্টেরল তো বাড়েই পাশাপাশি বাড়ে ওজন। তাই সতর্ক হয়ে যান। নইলে সমস্যা বাড়বে। ৩. ফলের জুস থেকেও কোলেস্টেরল বাড়ে ঈশানী গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, মাথায় রাখতে হবে যে এই পানীয় খেলেও সমস্যা হয়। এতে মেশানো থাকে চিনি বা সুগার। এবার তার থেকে যে কোলেস্টেরল বাড়বে এটা বলাই বাহুল্য। তবে এটা বাইরে থেকে কিনে খেলে হবে। বাড়িতে বানিয়ে খেলে তেমন কোনও সমস্যা দেখা যাবে না। তাই এই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।
৪. কফি খেলেও কোলেস্টেরল বাড়ে ঈশানী গঙ্গোপাধ্যায় জানান, কফি অনেকেই খেতে ভালোবাসেন।কফির কিছু গুণও রয়েছে। তবে কফিতে একটু হলেও বাড়তে পারে কোলেস্টেরল। এক্ষেত্রে মাথায় রাখাতে হবে যে গ্রিক কফি বা ফ্রেঞ্চ কফিতে একটি এমন উপাদান থাকে যা বাড়াতে পারে কোলেস্টেরল। তাই এই বিষয়টা মাথায় রাখুন।
৫. এনার্জি ড্রিংসক খেলেও কোলেস্টেরল বাড়তে পারে ঈশানী গঙ্গোপাধ্যায়ের কথায়, আসলে এনার্জি ড্রিংকস খেলে অনেক সমস্যাই দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে সাধারণত ১ বোতল এনার্জি ড্রিংকসে ৩০০ গ্রাম ক্যাফিন থাকে। এটা একটু বাড়াবাড়ি। এতে বাড়ে কোলেস্টেরল।
এছাড়াও যে কোনও ধরনের মদ্যপান করলে কোলেস্টেরল বাড়ে। এমনকী ওয়াইন খেলেও এলডিএল বাড়তে পারে। তাই সংযত হতে শিখুন।
বিদ্র: প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।