নারায়ণগঞ্জে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় গুলিতে নিহত শাওন আহমেদ রাজার ফেসবুকজুড়ে বিএনপির পক্ষে প্রচারণা ও দলটির নেতাদের ছবি দেখা গেছে। এদিকে নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে বিএনপির পাঁচ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার রাতে একটি মামলা করেছেন। তবে অভিযোগ পাওয়া গেছে, পুলিশ তাঁকে মামলা করতে বাধ্য করেছে। পাশাপাশি পুলিশের ওপর হামলা ও কর্তব্য কাজে বাধার অভিযোগে পুলিশের একটি মামলায় ৮ শতাধিক লোককে আসামি করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
শাওনের ব্যবহূত ’sawon ahmed’ (রাজা)' নামে আইডিতে দেখা যায়, প্রথমেই লেখা রয়েছে- 'কর্মীর চেয়ে বড় কোন পদ নাই, সাক্ষী দেহের ঘামে ভেজা নগরীর রাজপথ, ফতুল্লা থানা যুবদল জিন্দাবাদ।'
তাঁর আইডিতে বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদের একাধিক ছবি পোস্ট করা। গত ৩০ মে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে আজাদ ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সদস্য সাদিকুর রহমান সাদেকের সঙ্গে খিচুড়ি বিতরণের ছবি শাওনের আইডিতে রয়েছে।
গত ৩১ মে শাওন তাঁর সর্বশেষ পোস্টেও আজাদ ও সাদেকের ছবি শেয়ার করেছেন। ছবিটির ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, 'নিশি রাতের ভোট চোরদেরকে বলে দিও ২০২৩ সালে আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করব ইনশাআল্লাহ। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল নারায়ণগঞ্জ জেলা।'
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শাওন যুবদলের রাজনীতির সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন। তিনি যুবদলের কমিটিতে পদ পাওয়ারও চেষ্টা করছিলেন। তবে তাঁর চাচা ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী বৃহস্পতিবার রাতে বলেছিলেন, 'শাওন যুবলীগ কর্মী নয়, আবার যুবদল কর্মীও নয়।'
বৃহস্পতিবার বিএনপির মিছিলে সামনের সারিতে ছিলেন শাওন। এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে শওকত আলী বলেন, 'তাকে নিজেদের কর্মী প্রমাণ করতে পারলে বিএনপির ফায়দা আছে। কিন্তু আমি বলব, আমার সন্তান মারা গেছে। তার পরিবার যেন কোনো প্রতিহিংসার শিকার না হয়। নতুন করে এই পরিবারের লোকজন যেন ঝামেলায় না পড়ে। আমি চাই, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক। ন্যায়বিচার হোক।'
শাওন কীভাবে মারা গেছে, তা নিশ্চিত করতে পারেননি ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকরা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁর ময়নাতদন্ত শেষ হয়। তবে ময়নাতদন্তের বিষয়ে স্পষ্ট করে কোনো কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা। ময়নাতদন্তে নিহতের শরীরে দুটি ক্ষত চিহ্ন পাওয়া গেলেও কোনো গুলি পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন তাঁরা।
মরদেহের ময়নাতদন্ত করেন ডা. মফিজ উদ্দিন। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শেখ ফরহাদ বলেন, নিহতের বুকের বাম পাশে এবং পিঠের নিচের অংশে দুটি ক্ষত পাওয়া গেছে। গভীর ক্ষত দুটি। তবে শরীরে কোনো গুলি পাওয়া যায়নি। কী কারণে শাওনের মৃত্যু হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত বলা যাবে। ক্ষতগুলো কীসের সে ব্যাপারে কিছু বলতে পারেননি তিনি।