টানা দুই ম্যাচে জিতে সুপার ফোর নিশ্চিত করেছে আফগানিস্তান। এশিয়া কাপে ‘বি’ গ্রুপ থেকে আজ আরেকটি দল সুযোগ পাবে আফগানদের সঙ্গী হওয়ার। প্রশ্ন হচ্ছে সেই দলটি বাংলাদেশ নাকি শ্রীলঙ্কা! সমীকরণটা একেবারেই সহজ দুই দলের মধ্যে যে জিতবে তারাই টিকে থাকবে এবারের এশিয়া কাপে। তবে লঙ্কানদের মুখোমুখি হওয়ার আগে টাইগারদের প্রেরণা জোগাতে পারে ২০১৬’র এশিয়া কাপ।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসা এবারের এশিয়া কাপ আসরের মূল আয়োজক শ্রীলঙ্কা। তবে মোহাম্মদ নবীর দলের কাছে প্রথম ম্যাচে হেরে লঙ্কানদের অবস্থান এখন তিন নম্বরে। ৫ উইকেটে হেরে রান রেটের (-৫.১৭৬) দিক থেকেও তারা পিছিয়ে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে হেরে -০.৭৩১ নেট রান রেট নিয়ে রয়েছে দুই নম্বরে। তবে সমীকরণের হিসাব যাই হোক এশিয়া কাপে টিকে থাকতে আজ শ্রীলঙ্কাকে হারাতেই হবে সাকিব আল হাসানদের। নিজেদের প্রথম ম্যাচে মোহাম্মদ নবীর দলের কাছে টাইগাররা হেরেছে ৭ উইকেটে।
টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে ১২৭ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে শুরুতে ৩ উইকেট হারালেও জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আফগানরা। ম্যাচের পর নিজেদের আশা-হতাশার কথা জানিয়ে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বলেছেন ‘আমরা জানতাম নাজিবউল্লাহ বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান। সে যেভাবে খেলেছে, ম্যাচটা আমাদের কাছ থেকে বের করে নিয়ে গেছে। শেষ ৬ ওভারে ওদের ৬০ রানের মতো (৬৩) দরকার ছিল। আমাদের মনে হয়েছিল, এরকম উইকেটে ম্যাচ আমাদেরই হাতে।’ তবে শারজাহর উইকেট শেষ পর্যন্ত ধোঁকাই দিয়েছে টাইগারদের।
আজ দুবাই স্টেডিয়ামেই নির্ধারণ হবে বাংলাদেশের এশিয়া কাপের ভাগ্য। শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচ জিতে প্রথম দল হিসেবে সুপার ফোর নিশ্চিত করেছে আফগানিস্তান। ব্যাটে বলে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে দুটি ম্যাচেই দুর্দান্ত খেলেছে আফগানরা। এদিকে আফগানদের কাছে হারলেও লঙ্কান অধিনায়ক দাসুন শানাকা বেশ হালকাভাবেই নিয়েছেন বাংলাদেশকে। তিনি বলেন, আফগানিস্তানের চেয়ে সহজ প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। তাই বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা সহজ হবে। শানাকা বলেন, ‘সাকিব আল হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমান ছাড়া বিশ্বমানের কোনও বোলার নেই বাংলাদেশ দলে।’
যদিও শানাকার এমন বক্তব্য খুব একটা প্রভাব ফেলছে না টাইগার শিবিরে। মাঠে জবাব দিতে প্রস্তুত টাইগাররা। তবে পরিসংখ্যান বলছে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে লঙ্কানরাই। এখন পর্যন্ত ১২ দেখায় টাইগাররা হেরেছে ৮ বার, জিতেছে ৪ বার। তবে এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টি আসরে এগিয়ে বাংলাদেশই। এশিয়া কাপের টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে দুই দল মাত্র একটি ম্যাচই খেলেছে। ২০১৬ তে মিরপুরে এশিয়া কাপের ম্যাচে লঙ্কানদের হারিয়েছিল ২৩ রানে। যেখানে আগে ব্যাট করে টাইগারদের সংগ্রহ ছিল ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৭ রান। জবাবে শ্রীলঙ্কা গুটিয়ে গিয়েছিল ১২৮ রানে। সেই ম্যাচে ব্যাট হাতে টাইগারদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮০ রান করেন সাব্বির রহমান রুম্মান।
দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও চলতি এশিয়া কাপে স্কোয়াডে আছেন এই মারকুটে ব্যাটসম্যান। যদিও প্রথম ম্যাচে তিনি ছিলেন না একাদশে। তবে আজ লঙ্কার বিপক্ষে তাকে মাঠে দেখা যেতে পারে। কারণ, আফগানদের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের হারের অন্যতম কারণ ব্যাটিং ব্যর্থতা। আসরের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের ভোগান্তি ছিল শুরু থেকেই। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা দল ২৮ রানের মধ্যে হারায় ৪ উইকেট!
ভালো স্কোরের আশাও অনেকটা শেষ হয়ে যায় ওখানেই। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের অবদানে ১২৭ পর্যন্ত যেতে পারে দল। এরপর সাকিব, মেহেদীর দারুণ বোলিংয়ে ওই পুঁজি নিয়েও জয়ের আশা জাগে ভালো মতোই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হয়নি। সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার আগে দেশে নিজেদের মধ্যে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো ব্যাটিং করেছিলেন মোসাদ্দেক। এরপর এই ম্যাচে দলের চরম বিপর্যয়ের মধ্যে সাতে নেমে খেলেন ৩১ বলে হার না মানা ৪৮ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। অধিনায়ক সাকিব ব্যাটম্যানদের নিয়ে হতাশাই প্রকাশ করেছেন তবে প্রসংশা করতে ভোলেনি মোসাদ্দেকের।
তিনি বলেছেন, ‘আমাদের ব্যাটসম্যানদের কাছে এটাই চাই আমরা। টি-টোয়েন্টিতে যে দাঁড়িয়ে যায়, তাকে নিশ্চিত করতে হবে যেন দলকে এগিয়ে নেয়। মোসাদ্দেক আমাদের জন্য সেই কাজটি করেছে। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে তা যথেষ্ট হয়নি। আরও অন্যদের অবদান প্রয়োজন ছিল আমাদের, তা হয়নি।’ আফগানদের বিপক্ষে হারের আরেকটি কারণ টাইগার পেসারদের বাজে বোলিং। বিশেষ করে মোস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনকে দেখা যায়নি ছন্দে।
আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তাই ৩ পেসারের পরিবর্তে একাদশে বাড়তি স্পিনার নিয়ে খেলতে দেখা যেতে পারে টাইগারদের। একাদশে জায়গা মিলতে পারে নাসুম আহমেদের।