রাজধানীর উত্তরায় গার্ডারচাপায় শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছে।
মামলায় অবহেলাজনিতভাবে ক্রেন পরিচালনাকারী চালক, প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
সোমবার দিবাগত রাতে ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলাটি হয়।
দুর্ঘটনায় নিহত ফাহিমা আক্তার ও ঝর্না আক্তারের ভাই আফরান মণ্ডল বাবু বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় এ মামলা করেন। মামলা নম্বর ৪২।
সোমবার দুপুরে উত্তরার জসিমউদ্দিন সড়কের আড়ং মোড়ে বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের ক্রেন থেকে গার্ডার ছিটকে প্রাইভেটকারের ওপর পড়লে ঘটনাস্থলে পাঁচজন মারা যান। আর আহত অবস্থায় দুইজনকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোহসীন গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘ক্রেন দুর্ঘটনায় নিহত দুই বোনের ভাই বাদী হয়ে মামলা করেছেন। যেখানে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।’
থানা সূত্রে জানা গেছে, মামলায় অবহেলাজনিতভাবে ক্রেন পরিচালনাকারী চালক, প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় ক্রেন থেকে গার্ডার ছিটকে নিচে পড়ে প্রাইভেটকারে থাকা শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়। বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের সেই গার্ডার সরানো হচ্ছিল কোনো ধরনের সুরক্ষা-নিরাপত্তা ছাড়াই। ক্রেনটি কাঁৎ হয়ে পড়লে গার্ডারটি চাপা দেয় একটি প্রাইভেটকারকে। সেই গাড়িতে ছিল সাত জন। তাদের মধ্যে দুই শিশুসহ পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
সোমবার দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে রাজধানীর উত্তরায় ব্যস্ততম জসিম উদ্দিন সড়কের আড়ংয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- প্রাইভেট চালক রুবেল মিয়া (৬০), ফাহিমা (৩৭), ঝর্না (২৬), জান্নাতুল (৬) ও জাকারিয়া (৪)। এ ঘটনায় আহত দুজন উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে তারা শঙ্কামুক্ত।
দুর্ঘটনা কবলিত প্রাইভেটকারকারটি নরসিংদীতে বৌভাতের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আশুলিয়া যাচ্ছিল। পথে উত্তরার জসিম উদ্দিন পৌঁছালে চলমান বিআরটি প্রকল্পের একটি গার্ডার ক্রেন থেকে ছিড়ে পড়লে ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নববধু রিয়া মনি ও তার স্বামী হৃদয় আহত হন। তাদেরকে উদ্ধার করে উত্তরার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুর্ঘটনার পর পর ওই ক্রেনের চালক পালিয়ে গেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাড়ির চালকের আসনে ছিলেন নববধূর বাবা মো. রুবেল। তার পাশে ছিলেন নববধূ। গাড়ির পেছনের সিটে ডান পাশে বসা ছিলেন নববধূর স্বামী হৃদয়ের বোন ঝর্না ও দুই শিশু জান্নাত ও জাকারিয়া। বাকি আরেক নারীর পরিচয় জানা যায়নি। ক্রেন থেকে গার্ডারটি ছিড়ে চালকের আসন বরাবর পড়ে। ফলে চালকের আসনে থাকা রুবেল ও তার পেছনের সিট বরাবর থাকা দুই শিশু ও এক দুই নারী নিহত হন।