ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১১ বৈশাখ ১৪৩৩
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউক্যালিপটাস গাছগুলোর কী অপরাধ
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Monday, 1 August, 2022, 10:08 AM

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউক্যালিপটাস গাছগুলোর কী অপরাধ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউক্যালিপটাস গাছগুলোর কী অপরাধ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) থেকে কেটে ফেলা হচ্ছে ইউক্যালিপটাস গাছ। সরেজমিনে রবিবার (৩১ জুলাই) বিকালে দেখা যায়, টিএসসির পূর্ব পাশের ইউক্যালিপটাস গাছগুলো কাটছে একদল শ্রমিক।


এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের বাগানে বিভিন্ন গাছ রয়েছে, যা পরিবেশ বান্ধব। তবে সবুজ লনের পূর্ব পাশে নয়টি ইউক্যালিপটাস গাছ রয়েছে যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এবং গাছগুলোর গোড়া পোকা দ্বারা আক্রান্ত হওয়ায় দুর্বল হয়ে পড়েছে। যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই গাছের নিচে অন্য কোনো গাছ হয় না।


বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ সংসদ কর্তৃক গাছগুলো অপসারণ করার জন্য বারবার চিঠি দিয়েছে। পরিবেশের কথা বিবেচনা করে গাছগুলো অপসারণ করা প্রয়োজন। গাছগুলো অপসারণের পর ওই স্থানে পরিবেশবান্ধব দ্বিগুন গাছ লাগানো হবে। ইতোমধ্যে কর্তৃপক্ষ গাছগুলো অপসারণ করার জন্য পরিচালক, আরবরিকালচার সেন্টারকে নির্দেশ প্রদান করেছেন। এ বিষয়ে সকলকে অবহিত করা হল।


কেন ক্ষতিকর ‘ইউক্যালিপটাস’ গাছ?


বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে একটি ইউক্যালিপটাস গাছ ৪০ থেকে ৫০ লিটার পানি শোষণ করে যা মাটিকে নিরস ও শুষ্ক করে ফেলে। এছাড়া মাটির নিচের গোড়ায় ২০-৩০ ফুট জায়গা নিয়ে চারদিকে থেকে গাছটি পানি শোষণ করে বলে অন্যান্য গাছ প্রয়োজনীয় পানি শোষণ করতে পারে না। এই গাছে কোনো পাখি বাসা বাঁধে না। ইউক্যালিপটাস গাছের ফলের রেণু নিঃশ্বাসের সঙ্গে দেহে প্রবেশ করলে অ্যাজমা হয়। বাসাবাড়িতে অধিক পরিমাণে ইউক্যালিপটাস গাছ আছে সেসব বাড়ির শিশু ও বৃদ্ধদের শ্বাসকষ্ট হতে পারে।


ইউক্যালিপটাসের মূল থাকে মাটির ১৫ মিটার গভীরে। গাছগুলো পানি ও খনিজ লবণ শোষণ ছাড়াও মাটির গভীর থেকে অতিরিক্ত পানি শোষণ করে ডালে জমা রাখে। এজন্য যে স্থানে এ গাছ থাকে সেই স্থান হয়ে পড়ে পানিশূন্য ও অনুর্বর। একারণে ওই অঞ্চলের পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অন্য গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।


২০-৩০ বছর কোনো স্থানে গাছগুলো থাকলে সেখানে অন্য প্রজাতির গাছ জন্মাতে পারে না। কারণ পাতার টক্সিক কেমিক্যাল মাটিতে থাকা নাইট্রোজেন পরমাণু ভেঙ্গে দিয়ে ছোট ছোট উদ্ভিদের খাদ্য তৈরির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করে। এতে মাটির পুষ্টি-প্রবাহও নষ্ট হয়।


এছাড়া এই গাছের পাতা পড়ে ছয় ইঞ্চি পর্যন্ত মাটির স্তর বিষাক্ত করে ফেলে। এতে ওই স্থানে ঘাস ও লতাপাতা জন্মাতে পারে না। ইউক্যালিপটাস গাছ বিভিন্ন পোকামাকড় ও পাখিদের জন্য যথেষ্ট ক্ষতিকর। এই গাছ অতিরিক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ করে বলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া আমাদের দেশের স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২০৩ সেন্টিমিটারের বেশি নয়। অথচ এ প্রজাতির গাছের জন্য স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৭০০-৮০০ সেন্টিমিটার দরকার। ফলে আশপাশের এলাকা সবসময় শুষ্ক থাকায় দাবানল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status