ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২৬ ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
দেশ পালানো প্রেসিডেন্ট যারা
টিকতে না পেরে দেশ পালানো প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজপাকসে একাই নন; সম্প্রতি আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানিকেও পালাতে হয়েছিল তালেবানের ভয়ে। দেশ পালানো রাষ্ট্রপ্রধানের এই মিছিলে ইউক্রেইনের এক প্রেসিডেন্টও রয়েছেন। গোটাবায়ার মতোই জনবিক্ষোভে তাকে পালাতে হয়েছিল। তাদের মতোই পালাতে হয়েছিল উগান্ডার স্বৈরশাসক ইদি আমিনকেও।
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Thursday, 14 July, 2022, 1:53 PM

দেশ পালানো প্রেসিডেন্ট যারা

দেশ পালানো প্রেসিডেন্ট যারা

নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সঙ্কটে ‘দেউলিয়া’ হয়ে পড়া শ্রীলঙ্কায় কয়েক মাস ধরেই বিক্ষোভ চলছিল। তাতে রাজাপাকসেদের সিংহাসন টলে যায়।


গোটাবায়া রাজপাকসে


প্রথমে বড় ভাই মাহিন্দা রাজাপাকসে প্রধানমন্ত্রীর পদ এবং ছোট ভাই বাসিল রাজাপাকসে মন্ত্রীর পদ ছাড়লেও ক্ষমতা আঁকড়ে ছিলেন গোটাবায়া ।


কিন্তু তারও শেষ রক্ষা হয়নি। বিক্ষুব্ধ জনতা প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ দখল করলে পদত্যাগের ঘোষণা দেন গোটাবায়া। চলে যান একটি সামরিক ঘাঁটিতে। বুধবার তিনি দেশ ছেড়ে আশ্রয় নেন মালদ্বীপে।


সামরিক বাহিনীর একটি বিমানে চড়ে আপাতত মালদ্বীপে পৌঁছলেও তিনি যেতে চাইছেন সিঙ্গাপুর কিংবা দুবাইয়ে।


প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে তামিল টাইগারদের দমন করে বীর হিসেবে পূজিত হওয়া গোটাবায়াকে এমন লজ্জাজনকভাবে বিদায় নিতে হল।


তার এই বিদায়ের ক্ষণে আরও কয়েকজন রাষ্ট্রপ্রধানের বিদায় দৃশ্য মনে করিয়ে দিয়েছে ভারতের সংবাদপত্র দ্য প্রিন্ট।



আশরাফ গনি


এক বছর আগেই কাবুল ছেড়ে পালাতে হয়েছিল আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনিকে।


তালেবান যখন রাজধানী শহর ঘিরে ফেলেছিল, তখন গত বছরের ১৫ অগাস্ট কাবুল থেকে পালিয়ে উজবেকিস্তানে ওঠেন গনি, সপরিবারে। তিনি এখন আমিরাতে রয়েছেন।


গানি তখন বলেছিলেন, রক্তপাত এড়াতেই দেশ ছেড়েছিলেন তিনি। তবে এমন সমালোচনা রয়েছে যে, গানির সেই পালানো তালেবানের ক্ষমতা দখল ত্বরান্বিত করেছিল।


গানি পরে বিবিসিকে বলেছিলেন, সেদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে তার মনেই হয়নি যে এটা তার কাবুলে শেষ দিন। যখন হেলিকপ্টার কাবুল ছাড়ল, তখনই তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি পালাচ্ছেন।


সমালোচকরা বলছেন, গানি তখন কাপুরুষের মতো না পালালে তালেবানের আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফেরা এতটা সহজ হত না।


হেলিকপ্টারে করে পালানোর সময় গানি বহু অর্থকড়ি নিয়েছিলেন বলে খবর রটেছিল। তবে পরে তার সত্যতা পাওয়া যায়নি।



ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ


যুদ্ধের কারণে এখন সংবাদের শিরোনামে থাকা ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় ২০১৪ সালে বিক্ষোভের মুথে পালাতে হয়েছিল ভিক্টর ইয়ানুকোভিচকে।


ইউক্রেইনের এই প্রেসিডেন্ট ছিলেন রাশিয়া ঘেঁষা, আর তার বিরুদ্ধে সেই বিক্ষোভে পশ্চিমাদের মদদ ছিল বলে মনে করা হয়।


তখন বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইয়ানুকোভিচ যেন ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার পদক্ষেপ নেন।


মাসজুড়ে চলা সেই বিক্ষোভের মুখে সমঝোতা করতে রাজি হন ইয়ানুকোভিচ; আর এর পরপরই ওই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি কিইভ থেকে পালিয়ে যান তিনি। এখন তিনি রাশিয়ায় রয়েছেন।


বিক্ষুব্ধ ওই সময়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উপদেষ্টা ভ্লাদিমির লুকিন কিইভে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, সেদিন এমন আতঙ্ককর পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল যে ইয়ানুকোভিচ কিইভ ছেড়ে পালান।



ইদি আমিন


স্বৈরশাসক হিসেবে উগান্ডার ইদি আমিনের কুখ্যাতি সারাবিশ্বেই। তার আট বছরের শাসনকাল উগান্ডার জন্য ভয়ঙ্কর সময় হিসেবেই দেখা হয়। বলা হয়, ওই আট বছরে ৪ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। বিতাড়িত করা হয়েছিল বহু মানুষকে।


১৯৭০ এর দশকে সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন ইদি আমিন।


১৯৭২ সালে ইদি আমিন ‘দ্য ইকোনমিক ওয়ার’ ঘোষণা করেন। তার এ ঘোষণা ছিল এশিয়ানদের বিরুদ্ধে। কারণ, তখন উগান্ডার ব্যবসা-বাণিজ্য এবং চাকরি উভয় ক্ষেত্রেই মূলত এশীয়দের দাপট ছিল। এশীয়রা দেশের অর্থনীতি দখল করে নিচ্ছে বলে অভিযোগ ছিল ইদি আমিনের। তাই তিনি গোটা এশীয় জনগোষ্ঠীকেই বিতাড়িত করতে নেমেছিলেন।


১৯৭৮ সালের মধ্যে উগান্ডার পরিস্থিতি গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে দাঁড়ায়। ততদিনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও ইদি আমিনের বর্বর শাসনের খবর পৌঁছে যায়। ফলে আন্তর্জাতিক মহলে তিনি নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন। দৃশ্যপট বদলাতে আমিন তখন তানজানিয়া আক্রমণ করেন। কিন্তু অর্থাভাবে তার সেনাবাহিনী তখন দুর্বল ছিল। অন্যদিকে তানজানিয়া বাহিনীর সঙ্গে তখন যোগ দেয় সেখানে নির্বাসিত উগান্ডার সেনারা। তাদের সম্মিলিত আক্রমণে দ্রুত পিছু হটে ইদি আমিনের বাহিনী।


বিদ্রোহীরা ১৯৭৮ সালের অক্টোবরের মধ্যে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা দখল করে নেয়। ১১ এপ্রিল ইদি আমিন লিবিয়ায় পালিয়ে গিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন।


লিবিয়া থেকে পরে ইরাকে গিয়েছিলেন ইদি আমিন। তারপরে তিনি যান সৌদি আরবে। সেখানেই নির্বাসিত জীবনে ২০০৩ সালের ১৬ অগাস্টে জেদ্দায় তিনি মারা যান।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status