এক হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (বিবিসি)। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যভিত্তিক গণমাধ্যমটি জানায়, প্রথাগত সম্প্রচারমাধ্যম থেকে ডিজিটাল মাধ্যমে রূপান্তরে অগ্রাধিকার দিতে এবং আর্থিক সংকট মোকাবেলা করতে এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তারা। চাকরি ছাঁটাইসহ প্রথম পর্যায়ের পরিবর্তনগুলোর কারণে এক বছরে প্রতিষ্ঠানটি ৬৩ কোটি ডলারের বেশি সাশ্রয় করবে।
বিবিসি বলেছে, ডিজিটালি-ফাস্ট পাবলিক সার্ভিস মিডিয়া গঠনের লক্ষ্যে তারা আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে ধাপে ধাপে তাদের পদক্ষেপে পরিবর্তন আনবে। শ্রোতাদের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের পছন্দের বিষয়বস্তু তুলে ধরা হবে এ সংবাদমাধ্যমে। বিবিসি ওয়ার্ল্ডকে যুক্তরাষ্ট্র ও বহির্বিশ্বে ২৪ ঘণ্টার একক একটি নিউজ চ্যানেল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় পরিষেবাগুলো একটি একক ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে পরিণত করায় শিশুদের জন্য বিশেষায়িত চ্যানেল সিবিবিসি, সংস্কৃতিনির্ভর বিবিসি ফোর এবং রেডিও ফোর এক্সট্রাসহ চ্যানেলগুলোর প্রথাগত সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যাবে।
বিবিসির মহাপরিচালক টিম ডেভি কর্মীদের উদ্দেশে দেয়া বক্তৃতায় জানান, এ বছর শতবর্ষ উদযাপনের অপেক্ষায় থাকা এ করপোরেশনের অবশ্যই সংস্কার দরকার, যাতে প্রাসঙ্গিক থাকা যায়, সবার জন্য মানসম্পন্ন সেবা অব্যাহত রাখা যায়।
বিবিসি এমন নতুন ও বৈশ্বিক ডিজিটাল মিডিয়া সংস্থায় রূপান্তরিত হবে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। তিনি কর্মীদের বলেন, রূপান্তর প্রক্রিয়া দ্রুততর এবং আমাদের চারপাশের বাজারে বিশাল পরিবর্তনগুলোকে ধারণ করতে হবে। তিনি জানান, পরিকল্পনার প্রস্তাব অনুসারে বিবিসি কনটেন্ট ও পরিষেবায় পরিবর্তন আনা হবে। ফলে প্রথম ধাপে ৫০ কোটি পাউন্ড খরচ বাঁচবে। টিম ডেভির নেতৃত্বে ডিজিটালভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে এবং বাণিজ্যিকভাবে বাড়তি আয় করতে ৩০ কোটি পাউন্ড পুনর্বিনিয়োগ করবে বিবিসি।
প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক আরো বলেন, পরিবর্তনগুলো আসবে ধাপে ধাপে। ‘ডিজিটাল ফার্স্ট পাবলিক সার্ভিস মিডিয়া অর্গানাইজেশন’ গঠন করবে বিবিসি। পাঠক যেমন খবর চায়, তেমন খবর পরিবেশন করা হবে। এ লক্ষ্যে আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে ধাপে ধাপে বেশকিছু পরিবর্তন আসবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে আগামী মাসে।
বিবিসির আয়ের অন্যতম উৎস হলো ব্রিটেনের বাড়িপ্রতি ধার্য করা লাইসেন্স ফি। কভিড-১৯ মহামারীর কারণে আগামী দুই বছরের জন্য সেই ফি আদায় স্থগিত রাখা হয়েছে। মূল্যস্ফীতির হারের সঙ্গে সমন্বয় করে পরের চার বছর এ লাইসেন্স ফি বাড়ানো হবে। বিবিসির কর্মীদের প্রতি চারজনের অন্তত একজন যাতে শ্রমজীবী পরিবার থেকে আসে, তা নিশ্চিত করতে সরকারি নির্দেশনার পর পরই সম্প্রচারমাধ্যমটি সংস্কারের এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।