পুলিশ সদস্যের বিচ্ছিন্ন কবজি জোড়া লাগালেন ডা. সাজেদুর
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Wednesday, 18 May, 2022, 8:29 PM
পুলিশ সদস্যের বিচ্ছিন্ন কবজি জোড়া লাগালেন ডা. সাজেদুর
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় আসামির দায়ের কোপে পুলিশ সদস্য জনি খানের বিচ্ছিন্ন হওয়া হাত জোড়া লেগেছে। সোমবার (১৬ মে) রাজধানীর মোহাম্মদপুর আল-মানার হাসপাতালে বিকেল ৫টা থেকে শুরু হয়ে রাত ২টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত অপারেশন চলে। টানা ৯ ঘণ্টা ৪০ মিনিট অস্ত্রোপচারে বিচ্ছিন্ন কবজি জোড়া লাগাতে সক্ষম হন ডা. সাজেদুর রেজা ফারুকীর নেতৃত্ব পাঁচ সদস্যদের দল।
অস্ত্রোপচারে অংশ নেন ডা. সাজেদুর রেজা ফারুকীর নেতৃত্ব পাঁচ সদস্যদের দল। তারা হলেন- হাসপাতালটির প্লাস্টিক সার্জন ডা. হাসান নাজিরুদ্দীন সুমন, ডা. শাকেরা, অ্যানেসথেশিওলজিস্ট অধ্যাপক ডা. আলাউদ্দীন ও ডা. মোস্তফা কামরুল ইসলাম।
ডা. সাজেদুর রেজা ফারুকী বর্তমানে জাতীয় অর্থোপেডিক ইনস্টিটিউটে হ্যান্ড অ্যান্ড মাইক্রোসার্জারি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। নিজ খরচে দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে অর্জিত দক্ষতায় গত ২০ বছর ধরে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বিস্তৃত কর্মজীবনে এ রকম বহু জটিল অস্ত্রোপচারে দেখেছেন সাফল্যের মুখ।
শঙ্কামুক্ত পুলিশ কনস্টেবল
এদিকে জটিল এ অস্ত্রোপচারের পর পুলিশ কনস্টেবল জনি খান এখন শঙ্কামুক্ত। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রোগীর হাতের স্বাভাবিক রঙ চলে এসেছে। জোড়া লাগানো নার্ভগুলোর কার্যকারিতাও চলে আসতে শুরু করেছে। রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় হাতে উষ্ণতাও চলে এসেছে।
কবজি বিচ্ছিন্ন যেভাবে
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় পদুয়া ইউনিয়নের লালারখিলে কবির আহমদকে (৩৫) গ্রেফতার অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় আসামি কবির আহমদ গ্রেফতার এড়ানোর জন্য ধারালো দা নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। দায়ের কোপে পুলিশ সদস্য জনি খানের হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ছাড়া আরেক পুলিশ সদস্য আহত হন। এরপর পালিয়ে যান কবির আহমদ।
অভিযানে অংশ নেন লোহাগাড়া থানার এসআই ভক্ত চন্দ্র দত্ত, এএসআই মজিবুর রহমান, কনস্টেবল জনি খান ও শাহাদাত হোসেন। গুরুতর অবস্থায় পুলিশ কনস্টেবলে জনি খানকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবস্থা স্থিতিশীল হওয়ায় শাহাদাতকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে সংকটাপন্ন হওয়ায় জনি খানকে সেখান থেকে আকাশ পথে রাজধানীর আল মানার হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার দেহুন্দা গ্রামে ডা. সাজেদুর রহমান ফারুকীর জন্ম ১৯৬৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর, কুষ্টিয়ায় নানা বাড়িতে। তিনি আইডিয়াল স্কুল থেকে ১৯৮৪ সালে এসএসসি এবং ১৯৮৬ সালে রাজধানীর নটরমেড কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।
এরপর চিকিৎসা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ভর্তি হন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে। সেখান থেকে ১৯৯৩ সালে এমবিবিএস পাস করেন তিনি। ডা. সাজেদুর রহমান ফারুকী জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) থেকে অর্থোপেডিকসে এমএস পাস করেন।
এরপর তিনি নিজস্ব অর্থায়নে ভারতের গঙ্গা ও বোম্বে হাসপাতাল এবং সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল থেকে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেন।
তার বাবা ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাটমিক অ্যানার্জি কমিশনের উচ্চপদস্থ একজন কর্মকর্তা। ইংল্যান্ডে পিএইচডি পড়াকালীন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে বাংলাদেশের পক্ষ নেন দেশের এই প্রথম জিওফিজিস্ট (ভুগোল-পদার্থ বিদ্যায় বিশেষজ্ঞ)।