ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১১ বৈশাখ ১৪৩৩
বাংলাদেশের অবস্থাও শ্রীলঙ্কার মতো হতে পারে
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Sunday, 3 April, 2022, 1:39 PM
সর্বশেষ আপডেট: Sunday, 3 April, 2022, 3:20 PM

বাংলাদেশের অবস্থাও শ্রীলঙ্কার মতো হতে পারে

বাংলাদেশের অবস্থাও শ্রীলঙ্কার মতো হতে পারে

দেশের মেগা প্রকল্পগুলোতে যে অর্থ বিনিয়োগ করা হচ্ছে সময়মতো তা ফেরত না আসলে বাংলাদেশের অবস্থাও শ্রীলঙ্কার মতো হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদ ও পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর।

শনিবার (২ এপ্রিল) ইনস্টিটিউট অফ চাটার্ড অ্যাকাউনটেন্টস অফ বাংলাদেশ (আইসিএবি) এবং ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত প্রাক বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর কারওয়ানবাজারে আইসিএবি কার্যালয়ে আয়োজিত এ আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, দেশের প্রয়োজনে বিভিন্ন মেগাপ্রকল্পের পাশাপাশি কম গুরুত্বপূর্ণ অনেক মেগা প্রকল্পও নেয়া হচ্ছে। কিন্তু এসব প্রকল্পে করা বিনিয়োগ দ্রুত সময়ে ফেরত না এলে বাংলাদেশকেও শ্রীলঙ্কার পরিণতি বরণ করতে হতে পারে।

তিনি বলেন, আমাদের অনেকগুলো মেগা প্রকল্প হচ্ছে, যেগুলোর প্রয়োজন আছে। কিন্তু এমন অনেকগুলো আছে, যেগুলোর এই মুহূর্তে আসলে কোনো উপযোগিতা বা প্রয়োজন নেই। পদ্মাসেতু আমাদের দরকার আছে, যদিও এখানে ব্যয় বেড়েছে অনেক। কিন্তু ওই রুটে পদ্মা রেল সেতুর খুব একটা প্রয়োজন নেই। কারণ পদ্মা সেতু হওয়ার কারণে ওই এলাকা থেকে সহজেই পণ্য ঢাকায় আসবে, আবার নৌ পথ রয়েছে। এখানে রেলপথে যে এক্সট্রা ভ্যালু এডিশন হওয়ার কথা, সে সুযোগ নেই। যে বিশাল বিনিয়োগ হচ্ছে, সেটা ফেরত আসার সুযোগ নেই।আমাদের ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল লাইন হচ্ছে, তা দরকার আছে। এই পথে আরো বিনিয়োগ দরকার। কারণ এটা আমাদের অর্থনীতির লাইফ লাইন। কিন্তু আমাদের বিশাল টাকা খরচ করে মিয়ানমার সীমান্ত পর্যন্ত রেললাইন বসানোর কোনো দরকার নেই। মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের এমন কোনো বাণিজ্য হবে না, যা দিয়ে এই বিনিয়োগ ফেরত আসতে পারে।

তিনি আরও বলেন, রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পে আমাদের ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত কেন্দ্রের জন্য আমার আড়াই বিলিয়ন ডলারের জায়গায় ১৩ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছি। এই প্রকল্প হয়তো আমাদের দীর্ঘ মেয়াদে কাজে আসবে। কিন্তু আমাদের টাকা তো এখন দরকার। এ টাকা দিয়ে যদি আমরা আমাদের সবগুলো হাইওয়ে ফোরলেন করে ফেলতাম, সড়কগুলো আরো চওড়া করতে পারতাম, তাহলে রেট অফ রিটার্ন অনেকগুণ বেশি পেতাম। অর্থনীতিতে আরও দ্রুত উপকার পাওয়া যেত।

বিশিষ্ট এই অর্থনীতিবিদ বলেন, বাংলাদেশে এখনও ভালো অবস্থায় আছে। এই ভালো অবস্থায় থাকার সময়েই ভবিষ্যতের সিদ্ধান্তগুলো নিতে হবে। প্রকল্প নেয়ার ক্ষেত্রে আরও বেশি সাবধান হতে হবে।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, আমাদের এখন যে পরিমাণ রপ্তানি হচ্ছে, তার চেয়ে অনেক বেশি আমদানি হচ্ছে, আবার রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে। ফলে ব্যালান্স অফ পেমেন্টের ঘাটতি বাড়ছে। এখন যেভাবে চলছে, সেই হিসেব অব্যাহত থাকলে বছর শেষে এটি ১৮ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াবে। কিন্তু ইতিহাসে কখনোই আমাদের ব্যালেন্স অফ পেমেন্টের ঘাটতি ৮ থেকে ৯ বিলিয়নের বেশি হয়নি। এই আয় ও ব্যয়ের হিসেবে এখনই সচেতন হতে হবে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status